এর মাধ্যমে ব্যাংকের বিনিয়োগ আদায় ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বয়, পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করা হবে। বড় বিনিয়োগ গ্রহীতাদের ক্ষেত্রে নিবিড় পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত আইনগত পদক্ষেপও নেয়া হবে। রাজধানীতে ব্যাংকের করপোরেট হেড অফিসে গতকাল এ ওয়ার-রুমের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবেদুর রহমান সিকদার। অনুষ্ঠানে ব্যাংকের বিনিয়োগ আদায়ের বর্তমান পরিস্থিতি, বড় ঋণগ্রহীতাদের রিকভারি কৌশল, নির্ধারিত কালেকশন টার্গেট, প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। এতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আওতাধীন পাঁচটি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন নির্বাহীদের পাশাপাশি রিকভারি ও লিগ্যাল বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক। এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকের সব সম্পদ এবং দায় হস্তান্তরের মাধ্যমে ব্যাংকটি গঠিত হয়েছে। এর মূলধন কাঠামো গড়ে তুলতে সরকারের পক্ষ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং আমানতকারীদের পক্ষ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকাসহ মোট ৩৫ হাজার কোটি টাকার মূলধন কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। ব্যাংকটির অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ বর্তমানে খেলাপি এবং অনাদায়ী বিনিয়োগ দ্রুত আদায় ও পুনরুদ্ধার করা। বিপুলসংখ্যক আমানতকারীর স্বার্থ সুরক্ষা এবং তাদের আমানতের অর্থ ফেরত দেয়ার সক্ষমতা বাড়াতে বিনিয়োগ আদায়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ব্যাংকের এমডি আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, ‘কালেকশন ও রিকভারি কার্যক্রমকে শুধু নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম হিসেবে দেখলে চলবে না; এটি আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা ও ব্যাংকের আর্থিক পুনর্গঠনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। দ্রুত ও কার্যকর ঋণ আদায় নিশ্চিত করা গেলে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা ও তারল্য পরিস্থিতি শক্তিশালী হবে। এর মাধ্যমে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেয়ার সক্ষমতাও বাড়বে।’ ‘কালেকশন অ্যান্ড রিকভারি ওয়ার-রুম’-এর সমন্বিত ও নিবিড় কার্যক্রমের মাধ্যমে বিনিয়োগ আদায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি এবং আমানতকারী ও গ্রাহকসহ অন্যান্য অংশীজনের স্বার্থ আরো কার্যকরভাবে সুরক্ষিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওয়ার-রুমের মাধ্যমে কালেকশন ও রিকভারি কার্যক্রমের কেন্দ্রীয় সমন্বয় ও তদারকি করা হবে। এর ফলে খেলাপি বিনিয়োগ আদায়ের সম্ভাব্য সুযোগগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে কাজে লাগানো যাবে। একই সঙ্গে বড় বিনিয়োগগ্রহীতাদের নিয়মিত ফলোআপ ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ও অন্যান্য কার্যকর পদক্ষেপও দ্রুত নেয়া হবে।










