যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়াগোয় শুরু হয়েছে বায়ো ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন বা বায়ো ইউএসএ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নামিদামি ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে এ আয়োজনে। তবে অংশ নেয়নি চীনা কোনো প্রতিষ্ঠান। সে সুযোগ কাজে লাগাতে চায় দক্ষিণ কোরিয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও বায়োটেক কোম্পানিগুলো। খবর দ্য কোরিয়া হেরাল্ড।

বায়ো ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশনে দক্ষিণ কোরিয়ার রেকর্ডসংখ্যক ফার্মাসিউটিক্যালস ও বায়োটেক কোম্পানি অংশগ্রহণ করেছে। কোম্পানিগুলো নিজেদের সাম্প্রতিক উদ্ভাবন প্রদর্শন এবং চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের অনুপস্থিতির সুযোগে মার্কিন অংশীদার বাড়াতে চেষ্টা করছে।

কনভেনশনের এবারের প্রতিপাদ্য ‘টাইম ফর সায়েন্স টু শাইন’। এ আয়োজনে প্রায় ২০ হাজার কোম্পানি ও ব্যক্তি নিবন্ধন করেছে। এর মধ্যে শুধু দক্ষিণ কোরিয়া থেকে প্রায় ৪৭টি কোম্পানি প্রদর্শনী বুথ স্থাপন করেছে। সেখানে রয়েছে স্যামসাং বায়োলজিকস, সেলট্রিয়ন, এসকে বায়োসায়েন্স ও লোটে বায়োলজিকসের মতো কোম্পানি, যাদের সঙ্গে রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থার বড় বড় চুক্তি।

বোস্টন ও সান ফ্রান্সিসকোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ তিন বায়োটেক ক্লাস্টারের একটি সান দিয়াগো। ২০১৭ সালের হিসাব অনুসারে, শহরটিতে প্রায় ১ হাজার ১০০ বায়োটেক কোম্পানি রয়েছে। এছাড়া ৮৫টি ক্লিনিক্যাল গবেষণা সংস্থা ও ৮০টি গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে।

ক্রমবর্ধমান মার্কিন-চীন উত্তেজনার মধ্যে উশি বায়োলজিকস ও উশি অ্যাপটেকের মতো শীর্ষস্থানীয় চীনা কোম্পানি চলতি বায়ো ইউএসএ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেয়। গতে মার্চে যুক্তরাষ্ট্রে বায়োসিকিউর অ্যাক্ট পাস হওয়ার পর সে কথা জানিয়ে দিয়েছিল সংস্থাগুলো। তাদের দাবি, আইনটি মূলত চীনা ওষুধ নির্মাতাদের লক্ষ্য করে প্রণয়ন করেছে ওয়াশিংটন।

শিল্প পর্যবেক্ষকরা বলছেন, চীনা সংস্থার অনুপস্থিতিতে কোরিয়ান সংস্থাগুলো যদি দ্রুত কৌশল প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়ন করতে পারে; তবে তারা লাভবান হতে পারবে। কারণ সুইজারল্যান্ডের লোনজা গ্রুপ বা জাপানের ফুজিফিল্ম ডায়োসিস্থ বায়োটেকনোলজির মতো প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থাগুলো যুক্তরাষ্ট্রে দৃঢ় উপস্থিতি নিশ্চিত করার দিকে নজর দিচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট খাতের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আগের বছরগুলোয় বেশির ভাগ কোরিয়ান কোম্পানিকে বিদেশী অংশীদারদের আকৃষ্ট করতে একতরফাভাবে প্রচারণা চালাতে হয়েছে। তবে এ বছর বায়ো ইউএসএতে একটি পরিবর্তন দেখছি আমরা।’

তিনি বলেন, ‘শীর্ষ ১০টি বহুজাতিক ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির মধ্যে কয়েকটি কোরিয়ান প্রতিষ্ঠানের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে, তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছে ও নিজেরাই ফলোআপ মিটিং শুরু করেছে। এর মাধ্যমে নতুন নতুন ওষুধের বিকাশ, যৌথ গবেষণা ও লাইসেন্সিংয়ে কোরিয়ান প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান স্বীকৃতিও মিলেছে।’