বহুজাতিক রাসায়নিক কোম্পানি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডুপন্ট দ্য নোমরের পরিচিতি বিশ্বজোড়া। কোম্পানিটি এর মধ্যে কার্যক্রম পরিচালনার ২২১ বছর পার করে এসেছে। ডুপন্টকে সম্প্রতি তিনটি তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে বিভক্ত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। খবর সিএনএন।

১৮০২ সালে গান পাউডার সরবরাহকারী হিসেবে যাত্রা শুরু ডুপন্টের। পরবর্তী দুই দশকে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পণ্য জোগান দিয়েছে কোম্পানিটি। এর অধীনে হয়েছে নাইলন, টেফলন ও কেভলারের মতো বিভিন্ন ধরনের পলিমারের উদ্ভাবন। এছাড়া রেফ্রিজারেটর ইন্ডাস্ট্রির গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক ফ্রেয়নের আবিষ্কারও হয় কোম্পানিটির অধীনে। 

সম্প্রতি পরিচালনা পর্ষদের চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে ইলেকট্রনিকস ও পানির ব্যবসাকে পৃথক কোম্পানিতে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়েছে ডুপন্ট। তবে নতুন কোম্পানি দুটির নাম এখনো ঠিক করা হয়নি। আগামী ১৮-২৪ মাসের মধ্যে ভাগাভাগির বিষয়টি সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে। 

একই সঙ্গে জানানো হয়েছিল, ডুপন্টে নেতৃত্বেও পরিবর্তন আসছে। গতকাল থেকে কোম্পানিটির প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা (সিএফও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন লরি কচ। বিপরীতে সাবেক সিইও এড ব্রিন নির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছেন। এছাড়া নতুন দুই স্পিন-অফ চালুর পরে ডুপন্টের সিইও হিসেবে থাকবেন কচ। 

ডুপন্টের এ সিদ্ধান্তকে করপোরেট সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক প্রবণতার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন বিশ্লেষকরা। কেননা গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি বহুজাতিক করপোরেশনও একই ধরনের পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল ব্যবসায়িক পরিবেশে কৌশলগত সুবিধা হিসেবে ছোট ও আরো সুনির্দিষ্ট পণ্যভিত্তিক কোম্পানির তৎপরতার ওপর জোর দিচ্ছেন অনেক সিইও ও করপোরেট বোর্ড।

ডুপন্টের পক্ষে এক বিবৃতিতে এড ব্রিন সম্প্রতি বলেন, ‘তিনটি ছোট স্পিন-অফ কোম্পানি কাজের ক্ষেত্রে তৎপরতা বাড়াবে। কোম্পানি তিনটি পৃথক সত্তায় বিভক্ত হলে অতিরিক্ত মূল্য শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকদেরই উপকৃত করবে না শুধু, বরং কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ খুলে দেবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি কোম্পানি বাজারে টিকে থাকতে স্বতন্ত্র কৌশল অনুসরণ করে তৎপরতা বাড়াবে। সম্ভাব্য একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণসহ প্রয়োজনীয় তৎপরতাগুলো তাদের নিজ নিজ পোর্টফোলিওকে উন্নত করতে সাহায্য করবে।’

এর আগে জেঅ্যান্ডজে, কেলগ, ইউনিলিভার ও জেনারেল ইলেকট্রিকের মতো বড় মার্কিন কোম্পানিগুলো ভাঙন ও স্পিন-অফ ঘোষণা করেছে। এ প্রবণতা আগের দশকগুলোর তুলনায় ব্যবসায়িক আবহ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যা চলতি দশকে বড় কোম্পানির তুলনায় ছোট ও কর্মতৎপর কোম্পানির প্রাধান্য বৃদ্ধির ইঙ্গিত।

অবশ্য ডুপন্ট বিভক্ত হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। পাঁচ বছরে ডুপন্ট দ্বিতীয়বারের মতো বিভক্ত হতে চলেছে। এর আগে ২০১৯ সালে ডুপন্ট ও ডাউ কেমিক্যালের মধ্যে একীভূতকরণ থেকে গঠিত ডাউডুপন্ট তিনটি স্বতন্ত্র কোম্পানিতে বিভক্ত হয়। ডুপন্ট, ডাউ কেমিক্যাল ও কর্টেভা নামের কোম্পানি তিনটি কৃষিকেন্দ্রিক রাসায়নিক পণ্য উৎপাদনের কাজ করে। 

এক বিবৃতিতে ডুপন্ট জানিয়েছে, উদ্ভাবন ও অভিযোজনে কোম্পানির উত্তরাধিকার বজায় রেখে বিশেষায়িত রাসায়নিক, উচ্চ কার্যক্ষমতাসম্পন্ন উপকরণ ও টেকসই সমাধানের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করবে কোম্পানিটি। নবগঠিত ইলেকট্রনিকস কোম্পানি সেমিকন্ডাক্টর খাত ও উন্নত ইলেকট্রনিক পণ্য তৈরিতে মনোযোগ দেবে। এছাড়া নতুন পানি কোম্পানি গঠন হলে এটি পরিশোধন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের পরিষেবা দেবে। এছাড়া অন্যান্য পণ্যভিত্তিক বিভাগ ডুপন্টের অংশ হিসেবেই থাকবে।