চালকবিহীন গাড়ি খাতে চীনের বাজারকে বড় সম্ভাবনা আকারে দেখছেন ইলন মাস্ক। বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) জায়ান্ট টেসলার প্রধান নির্বাহীর বেইজিং সফরের পেছনে রয়েছে এ পরিকল্পনা। দেশটির একাধিক পর্যায়ে পুরোপুরি চালকবিহীন গাড়ি প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি। খবর বিবিসি।
ফুল সেলফ ড্রাইভিং (এফএসডি) প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশে উন্মুক্ত হলেও চীন এ খাতে পিছিয়ে রয়েছে। অবশ্য টেসলার চালকবিহীন গাড়ি এখনো পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত প্রমাণ হয়নি। বরং এ ধরনের গাড়ির কমপক্ষে ১৩টি দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। একটি দুর্ঘটনায় একজন নিহতও হয়েছে।
চলতি সপ্তাহের এ সফরে চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইলন মাস্ক। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত মাস্কের উদ্ধৃতি থেকে জানা যায়, টেসলা আরো মুনাফা অর্জনে চীনের সঙ্গে কাজ করতে চায়। জবাবে লি কিয়াং জানান, চীনের বাজার সবসময় বিদেশী লগ্নিকারী সংস্থার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
চীন টেসলার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় এ বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে বড় ধরনের মূল্যহ্রাসের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে টেসলাকে। এছাড়া এক্সপেংয়ের মতো কিছু গাড়ি নির্মাতা চালকবিহীন প্রযুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ায় টেসলা নতুন ধরনের প্রতিযোগিতায় পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ সফরেই বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি কোম্পানিগুলো চীনের বলে উল্লেখ করেন ইলন মাস্ক।
স্থানীয় আইন অনুযায়ী, চীনা ভোক্তাদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের জন্য সাংহাইতে একটি ডাটা সেন্টার প্রতিষ্ঠা করতে চায় টেসলা। এছাড়া এফএসডি সম্পর্কে চীনা কর্তৃপক্ষকে আশ্বস্ত করতে কিছু পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে টেসলা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনএইচটিএসএ) নজরদারিতে রয়েছে টেসলা চালকবিহীন গাড়ি। সংস্থাটি বলেছে, স্বয়ংক্রিয় গাড়ির নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগগুলো টেসলা সফলভাবে সমাধান করেছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। টেসলার সফটওয়্যারটি শুধু হাইওয়ের মতো উপযুক্ত পরিবেশে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
চালকবিহীন গাড়ি নিয়ে মাস্কের পরিকল্পনা বেশ পুরনো। গত কয়েক বছরে কয়েকবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে শিগগিরই চালকবিহীন রোবোট্যাক্সি বাজারে আসবে। কিন্তু ২০১৮ সালকে লক্ষ্য করে ২০১৫ সালের ওই প্রতিশ্রুতি অর্জন হয়নি এখনো। তবে চলতি মাসে জানিয়েছেন, আগস্টে প্রকাশ্যে আসবে টেসলার রোবোট্যাক্সি।
সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে টেসলা, যার প্রভাব পড়েছে কোম্পানির আয় ও মুনাফায়। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় অটোমোটিভ খাতে বিক্রি কমেছে ১৩ শতাংশ। সামগ্রিকভাবে বিক্রি কমেছে ৯ শতাংশ। মার্চে শেষ হওয়া প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা ১১৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। আগের বছর একই সময়ে মুনাফা করেছিল ২৫১ কোটি ডলার। এছাড়া চলতি বছরে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদরের পতন হয়েছে ৩২ শতাংশ।










