ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার ধনীদের মধ্যে নিজেদের অর্থ দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছিল। সম্প্রতি নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে উল্টো চিত্র। বর্তমানে রাশিয়ার অতিধনীদের মধ্যে দেশীয় ব্যাংকে টাকা রাখার হার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ফলে দেশটির বেসরকারি ব্যাংক খাতে অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধির দেখা মিলেছে। ব্যাংকিং কনসালট্যান্সি প্রতিষ্ঠান ফ্রাঙ্ক আরজির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে। খবর আরটি।
প্রতিবেদন অনুসারে, রাশিয়ার ব্যাংকগুলোয় অতিধনী বা ১০ লাখ ডলারের বেশি সম্পদের মালিকের (হাই-নিট-ওর্থ ইনডিভিজুয়ালস) সংখ্যা ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে ৫০ শতাংশ বেড়েছে।
ফ্রাঙ্ক আরজির মতে, বেসরকারি ব্যাংক খাতের এ উচ্চ প্রবৃদ্ধির অন্যতম কারণ রাশিয়া থেকে অর্থ বাইরে না যাওয়া। রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুসারে, ২০২২ সালের চেয়ে ২০২৩ সালে আন্তঃসীমান্ত অর্থ স্থানান্তরের পরিমাণ ৩৫ শতাংশ কমেছে। এছাড়া রাশিয়ায় আমানতের ওপর উচ্চ সুদহার অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে। এ বিষয়টিও সম্পদ দেশে রাখার প্রবণতায় অবদান রেখেছে। ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ দেশটির অতিধনীদের রাখা অর্থের মধ্যে ২৯ দশমিক ৪ শতাংশই ছিল বৈদেশিক মুদ্রায়। বাকি ৭০ দশমিক ৬ শতাংশ রুবলে।
ফ্রাঙ্ক আরজি আরো জানায়, তাদের বিশ্লেষকরা প্রথমবারের মতো রাশিয়ায় অতি উচ্চ ধনী (ভেরি-হাই-নেট-ওর্থ ইনডিভিজুয়ালস) ব্যক্তিদের চিহ্নিত করেছেন। অতি উচ্চ ধনী হিসেবে তাদেরই ধরা হয় যাদের মোট সম্পদের পরিমাণ ৫০০ মিলিয়ন রুবল বা ৫০ লাখ ডলার ছাড়িয়েছে। ২০২৩ সালের শেষে অতি উচ্চ ধনীদের সংখ্যা প্রায় চার হাজার জনে দাঁড়িয়েছে, যা এর আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি।
ফ্রাঙ্ক আরজির তথ্যানুসারে, ২০২৩ সালে রাশিয়ার অতিধনী ব্যক্তিদের মোট মূলধনের পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৬২ শতাংশ বেশি। তবে সামগ্রিকভাবে দেশের অভ্যন্তরে সম্পদ রাখার হার আগের তুলনায় বাড়লেও ধনী রাশিয়ানরা এখনো তাদের সম্পদের ৬০-৬৫ শতাংশ দেশের বাইরে রেখেছেন।
২০২২ সালে ইউক্রেনে আক্রমণের পর থেকে আন্তর্জাতিক নানা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে মস্কো। দেশটির বেশির ভাগ ব্যাংককে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা সুইফট (সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টার ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন) থেকে বাদ দেয়া হয় রাশিয়ার ব্যাংকগুলোকে। রাশিয়ার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ৩০ হাজার কোটি ডলার জব্দ করা হয়। এসব কারণে ২০২২ সালে অতিধনীদের সংখ্যা কমে গিয়েছিল।










