ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতে সরকার ১৮টি উচ্চঝুঁকির জেলায় ৩০টি উপজেলায় ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী ১২ লক্ষাধিক শিশুকে টিকাদানের জরুরি ক্যাম্পেইন শুরু করতে বাধ্য হয়েছে। একই ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের কাভারেজ ইভালুয়েশন সার্ভে অনুযায়ী এমআর-১ কাভারেজ ৮৮ দশমিক ৬ থেকে নেমে ৮৬ শতাংশে এবং এমআর-২ কাভারেজ ৮৯ থেকে নেমে ৮০ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে; ফলে উল্লেখযোগ্য ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’ তৈরি হয়েছে, যা বর্তমান প্রাদুর্ভাবকে ত্বরান্বিত করেছে। হামের বিস্তার থামাতে দুই ডোজসহ কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ কাভারেজ প্রয়োজন।
এ সংকটের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো হাম শুধু টিকা না পাওয়া শিশুর রোগ নয়; দুর্বল পুষ্টি, মাতৃদুগ্ধচর্চার ঘাটতি, দেরিতে বুকের দুধ শুরু, শালদুধ না দেয়া, অপুষ্টি, ভুল চিকিৎসা, বিলম্বিত হাসপাতালে যাওয়া এবং ভিটামিন ‘এ’ সংকট সব মিলিয়ে এটি দ্রুত প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। ইউনিসেফের বাংলাদেশভিত্তিক ব্যাখ্যায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, বর্তমান প্রাদুর্ভাবে বড় অংশই এমন শিশু, যারা পূর্ণ টিকা সুরক্ষার বাইরে ছিল; একই সঙ্গে হাম আক্রান্ত শিশুর ক্ষেত্রে বুকের দুধ চালিয়ে যাওয়া, যথাযথ পুষ্টি, তরল এবং ভিটামিন ‘এ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ টিকা, পুষ্টি ও চিকিৎসা সহায়তাকে আলাদা করে দেখা যাবে না।
এ প্রেক্ষাপটে ‘শালদুধ’ বা কলোস্ট্রাম এবং জন্মের পর পরই বুকের দুধ শুরু করার প্রশ্নটি আবার সামনে এসেছে। ইউনিসেফ ডব্লিউএইচও বলছে, জন্মের প্রথম ঘণ্টার মধ্যে বুকের দুধ শুরু করা, প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের দুধ দেয়া এবং পরে উপযুক্ত সম্পূরক খাবারের সঙ্গে দুই বছর বা তার বেশি সময় বুকের দুধ চালিয়ে যাওয়া—এটাই শিশুর জন্য সর্বোত্তম। ইউনিসেফ বাংলাদেশ আরো বলেছে, বুকের দুধ কার্যত শিশুর ‘প্রথম টিকা’ হিসেবে কাজ করে, কারণ এটি বহু সাধারণ শৈশব রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়।
শালদুধ কেন এত জরুরি: শালদুধ হলো জন্মের পর প্রথম যে ঘন, হলদেটে দুধ নিঃসৃত হয়। বহু পরিবার এখনো ভুল ধারণায় এটিকে ‘ঘন ময়লা’, বা ‘পেটের জন্য ভারী’ বলে মনে করে ফেলে দেয়। অথচ বাস্তবে এ শালদুধেই থাকে উচ্চমাত্রার প্রতিরোধী উপাদান, অ্যান্টিবডি, সুরক্ষামূলক প্রোটিন এবং এমন সব জৈব উপাদান, যা নবজাতকের অন্ত্র, শ্বাসতন্ত্র ও সামগ্রিক রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দ্রুত সক্রিয় করতে সাহায্য করে। নবজাতক যখন পৃথিবীতে আসে, তখন তার প্রতিরোধ ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ নয়; এ অবস্থায় শালদুধই শিশুর প্রথম প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ঢাল। তাই শালদুধ বঞ্চনা মানে জন্মের শুরুতেই শিশুকে এক ধাপ পেছনে ফেলে দেয়া। ইউনিসেফের ভাষায়, জন্মের পর প্রথম ঘণ্টার মধ্যে বুকের দুধ শুরু করা এবং একচেটিয়া স্তন্যপান শিশুর বেঁচে থাকা ও সুস্থ বিকাশের জন্য মৌলিক।
ভিটামিন ‘এ’ কেন অত্যাবশ্যক: হাম ব্যবস্থাপনায় ভিটামিন ‘এ’র গুরুত্ব আলাদা করে উল্লেখ করা জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, যেসব এলাকায় ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতি জনস্বাস্থ্য সমস্যা, সেখানে ৬-৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য ভিটামিন ‘এ’ সাপ্লিমেন্টেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য হস্তক্ষেপ; এটি সামগ্রিক শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক। একই সঙ্গে হামের ক্ষেত্রে ডব্লিউএইচও দীর্ঘদিন ধরে ভিটামিন ‘এ’কে চিকিৎসার সহায়ক উপাদান হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে আসছে, কারণ এটি চোখের জটিলতা, রোগের তীব্রতা এবং মৃত্যুঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে—বিশেষত অপুষ্ট বা ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের ক্ষেত্রে। তাই বাংলাদেশের ২০২৬ সালের হাম প্রতিরোধ কর্মসূচিতে ভিটামিন ‘এ’-কে টিকার বিকল্প নয়, বরং অপরিহার্য সহায়ক সুরক্ষা হিসেবে দেখতে হবে।
হামের প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে মাতৃদুগ্ধচর্চার সম্পর্ক কী? এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা জরুরি: বুকের দুধ হামের টিকার বিকল্প নয়। হাম প্রতিরোধের জন্য টিকাই মূল সুনির্দিষ্ট সুরক্ষা। কিন্তু বুকের দুধ বিশেষত শালদুধ এবং ছয় মাস পর্যন্ত একচেটিয়া স্তন্যপান শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, পুষ্টি, সংক্রমণ সহনশীলতা এবং অসুস্থ অবস্থায় পুনরুদ্ধার ক্ষমতা বাড়ায়। ফলে হাম হলে জটিলতা কমাতে এটি সহায়ক, আর না থাকলে জটিলতা বাড়তে পারে। একইভাবে ভিটামিন ‘এ’ টিকার বিকল্প নয়; তবে হাম আক্রান্ত শিশুর জটিলতা কমাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সহায়ক উপাদান। কাজেই বার্তাটি হবে: টিকা, মাতৃদুগ্ধ ও ভিটামিন ‘এ’ তিনটিই অপরিহার্য; একটির বিকল্প আরেকটি নয়।
হাম নিয়ে এখনই জাতীয় গণসচেতনতা দরকার। বাংলাদেশের সামনে এখন চার ধরনের জরুরি যোগাযোগ বার্তা একসঙ্গে চালু করতে হবে।
প্রথম বার্তা: জন্মের সঙ্গে সঙ্গে শালদুধ দিন।
দ্বিতীয় বার্তা: ছয় মাস পর্যন্ত কেবল মায়ের দুধ, পানি পর্যন্ত নয়।
তৃতীয় বার্তা: নয় ও ১৫ মাসে সময়মতো এমআর টিকা দিন এবং মিস হলে দ্রুত ক্যাচআপ করুন।
চতুর্থ বার্তা: হাম হলে দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রে যান এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ‘এ’ নিশ্চিত করুন।
বর্তমান হাম পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে, শুধু হাসপাতালভিত্তিক বার্তা যথেষ্ট নয়। ইমাম, শিক্ষক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গ্রামপুলিশ, স্বাস্থ্য সহকারী, পরিবারকল্যাণ সহকারী, সিএইচসিপি, এনজিও, মিডওয়াইফ সবার মাধ্যমে একই বার্তা পৌঁছতে হবে। কারণ টিকাদান ক্যাম্পেইন একবারে শূন্যতা পূরণ করতে পারে, কিন্তু জন্মের পরপর স্তন্যপান, ছয় মাসের একচেটিয়া দুধচর্চা এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা নেয়া প্রতিটি পরিবারের প্রতিদিনের সিদ্ধান্ত।
২০২৬-৩১: মাঠ পর্যায় থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পর্যন্ত পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা নেয়া যেতে পারে। প্রতি বছর কী কী করা যেতে পারে?
প্রথম বছর: জরুরি নিয়ন্ত্রণ ও ভিত্তি পুনর্গঠন
প্রথম বছরে লক্ষ্য হবে দুই দিক সামলানো—হাম নিয়ন্ত্রণ এবং পুষ্টিবার্তার জরুরি পুনঃপ্রতিষ্ঠা। উচ্চঝুঁকির জেলায় এমআর ক্যাচআপ ক্যাম্পেইনের পাশাপাশি প্রতিটি টিকা কেন্দ্রে ‘শালদুধ দিন, ছয় মাস শুধু মায়ের দুধ’ কর্নার রাখতে হবে। সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, সিজারিয়ান প্রধান বেসরকারি হাসপাতাল এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে একীভূত কাউন্সেলিং প্যাকেজ চালু করতে হবে। প্রসবপরবর্তী প্রথম ঘণ্টায় বুকের দুধ শুরু হয়েছে কিনা এটি বাধ্যতামূলক রেকর্ড আইটেম করতে হবে। একই সঙ্গে মিসডোজ শিশু শনাক্তে ইউনিয়নভিত্তিক লাইন লিস্ট প্রস্তুত করতে হবে। হামে আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসা প্রোটোকলে ভিটামিন ‘এ’ নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও এই প্রথম বছরেই মাঠপর্যায়ে পরিষ্কারভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
দ্বিতীয় বছর: সেবার মান নিশ্চিতকরণ
দ্বিতীয় বছরে প্রত্যেক প্রসূতি সেবাকেন্দ্রে ‘বেবি-ফ্রেন্ডলি’ মানদণ্ড বাস্তবায়ন করতে হবে। সিজারিয়ান প্রসবের পরও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্কিন-টু-স্কিন কন্ট্যাক্ট এবং স্তন্যপান শুরু এটি প্রোটোকল করতে হবে। মিডওয়াইফ, নার্স, মেডিকেল অফিসার ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। ইপিআই সেশন দিনে টিকা দেয়ার পাশাপাশি মায়েদের জন্য ৫ মিনিটের মাইক্রো কাউন্সেলিং চালু করা যেতে পারে। পাশাপাশি ভিটামিন ‘এ’-এর প্রয়োজনীয়তা, কাদের ক্ষেত্রে এটি জরুরি, এবং হামের সময় কীভাবে দ্রুত রেফার করতে হবে—সেটিও প্রশিক্ষণের অংশ হওয়া উচিত।
তৃতীয় বছর: সামাজিক আচরণ পরিবর্তনের গভীর অভিযান
তৃতীয় বছরে গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মসজিদের খুতবা, স্কুলভিত্তিক প্যারেন্টস মিটিং এবং ইউনিয়ন পরিষদ সভায় একক ও সমন্বিত বার্তা চালাতে হবে। ‘শালদুধ ফেলে দেবেন না’, ‘ফর্মুলা দুধ চিকিৎসকের প্রয়োজন ছাড়া নয়’, ‘জন্মের ১ ঘণ্টার মধ্যে বুকের দুধ’, ‘ছয় মাস শুধু মায়ের দুধ’, ‘৯ ও ১৫ মাসে এমআর’, ‘হামের উপসর্গে দেরি নয়’, ‘চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন ‘এ’—এই বার্তাগুলোকে জাতীয় স্লোগানে রূপ দিতে হবে। ভ্রান্ত তথ্য প্রতিরোধে দ্রুত প্রতিক্রিয়া সেল গঠন জরুরি। কারণ ইউনিসেফ এরই মধ্যে টিকাবিরোধী ভুল তথ্যকে কাভারেজ পতনের একটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
চতুর্থ বছর: কর্মজীবী মা ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
চতুর্থ বছরে পোশাক কারখানা, চা বাগান, ইটভাটা, নগর বস্তি, উপকূলীয় এলাকা, চর, হাওর, পার্বত্য ও দূরবর্তী অঞ্চলে বিশেষ মডেল চালু করতে হবে। কর্মস্থলে দুধদানের কক্ষ, শিশুযত্ন কেন্দ্র, ফ্লেক্সিবল ফিডিং ব্রেক, মাতৃত্বকালীন ছুটির বাস্তব প্রয়োগ—এসবকে শ্রম আইন ও জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে নগর বস্তি ও বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীতে মোবাইল ইপিআই, স্তন্যপান কাউন্সেলিং এবং ভিটামিন ‘এ’ সংক্রান্ত পরামর্শ একসঙ্গে নিতে হবে। কারণ উচ্চঝুঁকির ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতেই হাম দ্রুত ছড়ায়।
পঞ্চম বছর: প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ, মনিটরিং ও জবাবদিহি
পঞ্চম বছরে লক্ষ্য হবে অর্জনকে স্থায়ী করা। জাতীয় পর্যায়ে একটি সমন্বিত ড্যাশবোর্ড দরকার, যেখানে জেলা-উপজেলা-ইউনিয়নভিত্তিক পাঁচটি সূচক মাসে মাসে দেখা যাবে: ১. জন্মের ১ ঘণ্টার মধ্যে বুকের দুধ শুরু ২. শালদুধ খাওয়ানোর হার ৩. ছয় মাসের একচেটিয়া স্তন্যপান ৪. এমআর-১ ও এমআর-২ কাভারেজ ৫. ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের মধ্যে ভিটামিন ‘এ’ কাভারেজ ও হামের কেস ম্যানেজমেন্টে ভিটামিন ‘এ’ প্রয়োগের হার।
যেসব জেলায় এ সূচকগুলো জাতীয় গড়ের নিচে থাকবে, সেখানে বিশেষ তদারকি, অতিরিক্ত বাজেট এবং দায়বদ্ধতাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা দিতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিবার-পরিকল্পনা অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার বিভাগ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ের মধ্যে যৌথ বার্ষিক মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করতে হবে।
মাঠ পর্যায়ে করণীয়: কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে শুরু করতে হবে। প্রতিটি গর্ভবতী মায়ের জন্য অন্তত চারটি নির্দিষ্ট বার্তা প্রসবের আগেই লিখিত ও মৌখিকভাবে দেয়া উচিত:
জন্মের পর শালদুধ দিতে হবে, প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের দুধ, সময়মতো টিকা না দিলে শিশুর জীবন ঝুঁকিতে পড়বে, হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রে যেতে হবে এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ভিটামিন ‘এ’ নিশ্চিত করতে হবে।
স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবারকল্যাণ সহকারীদের বাড়িভিত্তিক তালিকায় গর্ভবতী মা, সদ্যপ্রসূতি এবং টিকাবিহীন শিশুদের আলাদা চিহ্নিত করতে হবে। ইপিআই আউটরিচ সেশন, প্রসূতিপরবর্তী ভিজিট এবং পুষ্টিসেবা—এ তিন ধারাকে একই পরিবারকেন্দ্রিক সেবায় আনতে হবে। একেকটি পরিবারকে খণ্ডিত বার্তা নয়, সম্পূর্ণ শিশু সুরক্ষা প্যাকেজ দিতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জন্য নীতিগত সুপারিশ: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে এখন চারটি নীতিগত সিদ্ধান্ত দ্রুত নিতে হবে।
প্রথমত, হাম প্রতিরোধকে ‘শুধু টিকা কর্মসূচি’ হিসেবে নয়, ‘টিকা + পুষ্টি + কাউন্সেলিং + নজরদারি + ভিটামিন-এ’সহ কেস ম্যানেজমেন্ট হিসেবে দেখতে হবে।
দ্বিতীয়ত, সব মাতৃসেবা কেন্দ্রে স্তন্যপান শুরু ও শালদুধ খাওয়ানোকে ক্লিনিক্যাল কোয়ালিটি ইন্ডিকেটর করতে হবে।
তৃতীয়ত, ফর্মুলা দুধের অনৈতিক প্রচার ও স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর বাণিজ্যিক প্রভাব কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
চতুর্থত, হামে আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় ভিটামিন ‘এ’ নিশ্চিত করার জন্য স্পষ্ট জাতীয় গাইডলাইন, সরবরাহ ব্যবস্থা ও তদারকি কাঠামো রাখতে হবে।
পরিশেষে, বাংলাদেশের ২০২৬ সালের হাম সংকট আমাদের সামনে নির্মম সত্য তুলে ধরেছে: একটি শিশুকে বাঁচাতে শুধু হাসপাতালে শয্যা, শুধু টিকা বা শুধু সচেতনতার পোস্টার যথেষ্ট নয়। শিশুকে জন্মের প্রথম ঘণ্টা থেকে সুরক্ষা দিতে হবে; শালদুধ থেকে শুরু করে ছয় মাস পর্যন্ত একচেটিয়া মাতৃদুগ্ধ, তারপর সময়মতো টিকা, পুষ্টি, ভিটামিন ‘এ’, পরামর্শ ও দ্রুত চিকিৎসা—এসবকে একটিই অবিচ্ছিন্ন জনস্বাস্থ্য শৃঙ্খল হিসেবে দেখতে হবে। যেখানে শালদুধ বঞ্চিত শিশু, সেখানে রোগপ্রতিরোধ শুরুতেই দুর্বল; যেখানে ছয় মাস শুধু মায়ের দুধ নেই, সেখানে সংক্রমণ ও অপুষ্টির ঝুঁকি বেশি; যেখানে এমআর-১ ও এমআর-২ সময়মতো দেয়া হয় না, সেখানে হাম ফিরে আসে; আর যেখানে প্রয়োজনীয় সময়ে ভিটামিন ‘এ’ পৌঁছে না, সেখানে জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি আরো বাড়তে পারে। অতএব, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কর্মসূচির মূল স্লোগান হওয়া উচিত—
‘জন্মে শালদুধ, ছয় মাস শুধু মায়ের দুধ, সময়মতো দুই ডোজ এমআর, এবং প্রয়োজনমতো ভিটামিন “এ”, তবেই শিশুর পূর্ণ সুরক্ষা।’
ইকবাল জিল্লুল মজিদ: পরিচালক, কমিউনিটি হেলথ প্রোগ্রাম, রাড্ডা এমসিএইচ এফপি সেন্টার










