জিয়া হাসান, অর্থনীতিবিদ ও প্রাবন্ধিক। জার্মান ফেডারেল শিক্ষা ও গবেষণা মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প গবেষক। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ে গবেষণা করছেন। তার লেখা বই ‘উন্নয়ন বিভ্রম’ বাংলাদেশের অর্থনীতির এক দশকের মন্দা ও তথ্য বিকৃতির ইতিহাস তুলে ধরেছে। সাম্প্রতি দেশের আর্থিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা ইস্যুতে বণিক বার্তায় কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিদিন ইব্রাহিম

অন্তর্বর্তী সরকারের ১০০ দিন পার হয়েছে। এ সময়ে তাদের অর্থনৈতিক পারফরম্যান্সকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

অন্তর্বর্তী সরকার অত্যন্ত কঠিন একটি সময়ে ক্ষমতায় এসেছে। শেখ হাসিনার পতনের পর পুলিশ, প্রশাসন, সামরিক বাহিনী, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিচার বিভাগসহ সব প্রতিষ্ঠানে ১০ বছরের ফ্যাসিবাদকে প্রত্যক্ষভাবে সমর্থন দেয়া জনবল রয়ে গেছে। এ অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য যেকোনো কার্যক্রম অত্যন্ত দুরূহ ছিল। সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের গত ১০০ দিনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পারফরম্যান্স প্রত্যাশার তুলনায় কম হলেও আর্থিক টিমের পারফরম্যান্সকে মোটামুটি সন্তোষজনক বলা যায়।

কিসের ভিত্তিতে আপনি আর্থিক পারফরম্যান্স ভালো বলছেন?

অন্তর্বর্তী সরকার এমন একটি সংকটময় সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, যখন দেশ আর্থিক পতনের দ্বারপ্রান্তে ছিল। ব্যাংকিং ব্যবস্থা ছিল দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার শিকার, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল বিপজ্জনকভাবে কম, মুদ্রাস্ফীতি ছিল দুই অংকের ওপরে, মিথ্যা ডাটার মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি দেখানো হচ্ছিল, যেখানে অর্থনীতিতে প্রকৃতপক্ষে স্ট্যাগফ্লেশন অর্থাৎ একই সঙ্গে কর্মসংস্থান হ্রাস ও প্রবৃদ্ধির হার কমে আসছিল।

স্ট্যাগফ্লেশনের সময়ে প্রবৃদ্ধি হ্রাস না করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কোনো কার্যকর পদ্ধতি নেই। যখন মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশে পৌঁছায়, তখন নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়—সুদের হার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মোট চাহিদা ও উৎপাদন হ্রাস করবেন, নাকি প্রবৃদ্ধির হার ধরে রেখে অর্থপ্রবাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতিকে বাড়তে দেবেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান সাফল্য হলো, তারা মুদ্রার মানের পতন ঠেকাতে সক্ষম হয়েছেন। তিন মাস ধরে মুদ্রার দাম ১২০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে, যা একটি বড় অর্জন।

পলিসি রেট নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে টাকার মানের পতন ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। এ সাফল্য ছাড়াও প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হয়েছে।

কিন্তু ব্যবসায়ী সমাজ থেকে অভিযোগ এসেছে যে উচ্চ সুদহারের কারণে তাদের খরচ বেড়েছে এবং বিনিয়োগ থেমে গেছে।

এ অভিযোগ সত্য ও যৌক্তিক। তবে আমাদের বুঝতে হবে, সার্বিক উৎপাদন ও চাহিদার গতি হ্রাস করা একটি সচেতন সিদ্ধান্ত। শেখ হাসিনা উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে নয়-ছয় সুদের মাধ্যমে একটা ক্ষয়িষ্ণু অর্থনীতিকে ‘ড্রাগস’ দিয়ে চাঙ্গা রেখেছিলেন। সেই অসুখ সারাতে এখন যে ওষুধ দেয়া হচ্ছে, তাতে শরীরে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া হবে।

করোনার পর থেকেই বাংলাদেশের অর্থনীতি চাপে ছিল এবং টাকার মান ৮৪ থেকে ১২০ টাকায় নেমে আসায় সংকোচনমূলক মনিটারি পলিসির মাধ্যমে টাকার মান নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যস্ফীতির গতিবেগ হ্রাস করানো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অনেকেই সচেতন নন যে পলিসি রেট বৃদ্ধির লক্ষ্য শুধু মূল্যস্ফীতি হ্রাস নয়, সুদের হার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মুদ্রার মানকেও স্ট্যাবিলাইজ করা হয়।

ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও টাকার অধঃপতন ঠেকানোর জন্য পলিসি রেট বৃদ্ধি করা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। এ সাহসী ও অজনপ্রিয় পদক্ষেপের জন্য আর্থিক খাতের দায়িত্বপ্রাপ্তরা প্রশংসার যোগ্য।

মুদ্রামানের স্ট্যাবিলিটি ফিরলে রিজার্ভ বৃদ্ধি পাবে এবং বাংলাদেশের মানুষের উদ্যম উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধিকে ফিরিয়ে আনবে। কিন্তু তার আগে একটি পেইনফুল পিরিয়ডের ভেতর দিয়ে যেতে হবে। তার কোনো বিকল্প ছিল না। এটি হাসিনাকোনমিকসের দায়, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নয়।

কিন্তু আপনি কেন বলছেন, রাজনীতি ও প্রশাসনিকভাবে সরকার দুর্বল?

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে এ সরকারের পারফরম্যান্স হতাশাজনক। এ সরকারের প্রধান রাজনৈতিক দায়িত্ব ছিল সার্বিক স্ট্যাবিলিটি নিয়ে আসা। কিন্তু আজ চার মাস পরও তাদের ভঙ্গুর মনে হয়। প্রতি সপ্তাহে নতুন নতুন অস্থিরতা। যদি এ অস্থিতিশীলতার দায় আওয়ামী ফ্যাসিস্ট নেটওয়ার্ককে আমরা দিতে পারি, কিন্তু তাদের শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেও এ সরকার শুরু থেকে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

শেখ হাসিনার পতনের পরপরই সরকারের উচিত ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের সব নীতিনির্ধারক, এমপি ও জনপ্রতিনিধিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সব ট্রানজেকশন বন্ধ করা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা আইন মন্ত্রণালয় থেকে নামের লিস্ট করে বিএফআইইউকে একটি চিঠি দিলে বিএফআইইউ তার পরবর্তীতে সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিত লিস্টে উল্লেখিত সব ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট ব্লক করতে। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট নেটওয়ার্কের প্রধান সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ও তাদের প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্টকে ব্লক করলে তারা কোনো ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা নেয়ার সাহস করতেন না।

আপনার বক্তব্যে একটি বৈপরিত্য দেখতে পাচ্ছি। এদিকে ব্যাংকগুলোকে অর্থায়ন না করার প্রতিশ্রুতি দিলেও সেই স্টেপ থেকে সরে এসেছেন গভর্নর।

আমি মনে করি, এ সিদ্ধান্তের দায়ও প্রশাসনের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর বর্তায়। আমরা দেখেছি, ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ব্যাংকগুলোর অ্যাশিউরড লিকুইডিটি সাপোর্ট বন্ধ করেছেন এবং শক্তিশালী ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে অর্থায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে গ্যারান্টি থাকা সত্ত্বেও শক্তিশালী ব্যাংকগুলো সেই সাপোর্ট দিতে ব্যর্থ হয়। ফলে ব্যাংকগুলো তাদের গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে অক্ষম হয়, যা একটি মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করে।

এ পরিস্থিতি বাংলাদেশ ব্যাংকের জন্য একটি কঠিন সংকট তৈরি করে। একদিকে দুর্বল ব্যাংকগুলো, যা মূলত আওয়ামী অলিগার্কদের দ্বারা লুটপাটের শিকার, তাদের অর্থায়ন করা; অন্যদিকে মানবিক বিপর্যয়ের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সামাল দেয়া—এ দুই দিকই সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। আমার ধারণা, এ সরকার দুর্বল হওয়ার কারণে কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়ার সাহস দেখাতে পারেনি। ফলে রাজনৈতিক সরকারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ব্যাংকগুলোকে ২২ হাজার কোটি টাকা বেইলআউট করেছেন।

একই প্রবণতা আমরা মানবতাবিরোধী আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও দেখেছি। আইন মন্ত্রণালয় রাজনৈতিক দলকে শাস্তির বিধান রেখে একটি আইন প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সেই প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়।

কিন্তু ব্যাংকগুলোকে বেইলআউটের আর কী বিকল্প ছিল?

বিকল্প ছিল, খুব দ্রুত ব্যাংকগুলোর মার্জার করা অথবা একটি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠন করা। এই কোম্পানি খেলাপি ঋণ কিনে নিতে পারত এবং এর জন্য আইএমএফ বা বিশ্বব্যাংকের নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে টেকনিক্যাল ও আর্থিক সহায়তা পাওয়া যেত।

যদি সেটি সম্ভব না হয়, তবে ব্যাংকগুলোকে দেউলিয়া ঘোষণা করে বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী দেউলিয়া আইন অনুসরণ করা যেত। এর মাধ্যমে ডিপোজিটরদের ২ লাখ টাকা পর্যন্ত বীমা সুবিধার আওতায় অর্থ ফেরত দেয়া যেত এবং ঋণের বিপরীতে রাখা কোলেটরল বিক্রি করে অর্ডার অব প্রিসিডেন্স অনুসারে বাকি অর্থ ফেরত দেয়া সম্ভব হতো।

কিন্তু এর ফলে তো ডিপোজিটররা বিপদে পড়বেন।

পড়বেন। কারণ ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ খেলাপি ঋণ হওয়ার কারণে কোনো কোনো ব্যাংকের ইকুইটি ভ্যালু নেগেটিভ। কোনো কোনো ব্যাংক এখন টেকনিকালি ইনসলভেন্ট বা জম্বি ব্যাংকে রূপান্তরিত হয়েছে। ক্রমাগত ক্যাশ ইঞ্জেক্ট করা বাদে এই ব্যাংকগুলোর ডিপোজিটররা তাদের অর্থ ফেরত পাবেন না। বাংলাদেশ ব্যাংক ২২ হাজার কোটি টাকা দিয়ে যে বেইলআউট করেছে, তাতে মাত্র ১০-১৫ শতাংশ অর্থ ফেরত দেয়া গেছে। বাকি অর্থ কীভাবে ফেরত দেবেন? তার মানে, আবার কয়েক মাস পর আরো ২০ হাজার কোটি টাকা দিতে হবে। এভাবে সরকার কত টাকা দেবে?

আমি মনে করি, অন্তর্বর্তী সরকারের, যার নির্বাচিত হওয়ার দায় নেই, উচিত ছিল এ অজনপ্রিয় সিদ্ধান্তগুলো নেয়া। কিন্তু তাদের গত ১০০ দিনে উন্মোচিত দুর্বলতার কারণে সরকার এ কঠিন সিদ্ধান্তগুলো নিতে পারেনি।

সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের কী করণীয়?

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজের প্রধান সংকট উৎপাদনের প্রতিটা স্তরে বিভিন্ন ধরনের অলিগার্ক ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকদের নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদনের প্রতিটা স্তরে আমলাতন্ত্রের ঠেকতন্ত্র ও পুলিশের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উৎপাদকদের নিপীড়ন এবং বিচার বিভাগের বিচারহীনতা। যেকোনো সংস্কারের মূল লক্ষ্য হতে হবে এ চারটা বিষয়ের রূপান্তর। কিন্তু সংস্কারের যে কমিটিগুলো করা হয়েছে সেগুলোর জন্য সার্বিক কোনো লক্ষ্য দেয়া হয়নি। কমিটিগুলো বিচ্ছিন্ন লক্ষ্যে, বিচ্ছিন্ন প্রায়োরিটিতে, কমিটির সদস্যদের ব্যক্তিগত বিবেচনায় ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং অনেক ক্ষেত্রে পপুলিস্ট ডিমান্ডের ভিত্তিতে তাদের প্রস্তাব তৈরি করছে।

সেই প্রস্তাব কতটুকু এ সরকার বা আগামী সরকার বাস্তবায়ন করতে পারবে তাও স্পষ্ট নয়। কারণ মধ্যবিত্তের সংস্কার ফ্যান্টাসি দিয়ে ১/১১-তে যে সংস্কার হয়েছিল তা টেকসই হয়নি এবং ১/১১-এর সংস্কারের প্রতিক্রিয়ায় শেখ হাসিনার ১০ বছর মেয়াদি ফ্যাসিজম তৈরি হয়েছে কিনা সেটা যৌক্তিকভাবেই প্রশ্ন করা যায়। প্রশাসনে যারা আছেন তারা এরই মধ্যে টের পাচ্ছেন যে সংস্কারের প্রধান বাধা আন্তরিকতা নয়, বরং প্রশাসন। আমি প্রশাসনকেও আলাদা করে দোষ দিচ্ছি না। গেটিং থিংস ডান—অর্থাৎ যেকোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য নেতৃত্ব, প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতা দরকার, তেমন লোক বাংলাদেশে খুবই কম।

ফলে আমার ভয়, যে অলিগার্কদের প্রডাকশন দখল, আমলাতন্ত্রের ঠেক, পুলিশের টর্চার এবং বিচার বিভাগের বিচারহীনতা এ চার বিষয়ে লক্ষ রেখে সমন্বিত সংস্কার পরিকল্পনা না করে বিচ্ছিন্নভাবে, কোনো কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা ছাড়া, কোনো ভিশন ছাড়া, কোনো লক্ষ্য ছাড়া উৎপাদন প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্ক বিযুক্ত শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সংস্কার ফ্যান্টাসির বিচ্ছিন্নভাবে কমিশনের মাধ্যমে যে সংস্কারের পরিকল্পনা করা হয়েছে, তাতে শেখ হাসিনার পতনের পর পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল তা পূর্ণ হবে কিনা।

যে চারটি ওভারঅল লক্ষ্যের কথা বলেছেন, তা বাদে আর কী কী করণীয়?

কিছু বিষয় সুস্পষ্ট। প্রথমত, কুইক রেন্টাল প্রকল্প এবং বেসরকারি উৎপাদনকারীদের (আইপিপি) সঙ্গে চুক্তি পুনর্বিবেচনা করা।

দ্বিতীয়ত, যেসব দুর্বল ব্যাংক রয়েছে, সেগুলোকে একটি কমিশনের মাধ্যমে একটি বন্দোবস্তে নিয়ে যাওয়া।

তৃতীয়ত, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটানো। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি বলতে শুধু চুরি-ডাকাতি কমানো নয়, বরং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে ঢেলে সাজাতে হবে। কারণ শেখ হাসিনার শাসনামলে পুলিশই বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় ডাকাত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। মাঝারি আকারের কোম্পানি ভেঙে বড় কোম্পানি বা অলিগার্ক কিংবা বৃহৎ মূলধনের আবির্ভাবের পেছনে পুলিশের বড় ভূমিকা ছিল। মাঝারি আকারের কোম্পানিগুলোকে যে পরিমাণ ভাড়া দিতে হয়েছে, তাদের টিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন ছিল। দমন-পীড়ন ও টর্চার চেম্বার চালুর মাধ্যমে পুলিশ যদি আবার আবির্ভূত হয়, তাহলে মাঝারি আকারের কোম্পানিগুলো উঠে দাঁড়াতে পারবে না। পুলিশ যেন পূর্বের মতো আবির্ভূত না হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে।

চতুর্থত, দেশের প্রতিটি খাতেই ঠেকতন্ত্র আছে। এ কাঠামোর সবার ওপরে রাজনীতিবিদ, পর্যায়ক্রমে আছে আমলা, ব্যবসায়ী এবং রাজনীতিবিদের আশপাশে থাকা লোকজন। এরা সব খাত থেকেই আইনিভাবে অর্থের একটি ভাগ নিয়ে যাচ্ছেন। উদাহরণস্বরূপ একজন অভিবাসী শ্রমিকের সরকার নির্ধারিত ফি ৭৫ হাজার, কিন্তু দিতে হচ্ছে ৫ লাখ টাকা। বাড়তি টাকা মন্ত্রী থেকে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে হিস্যা অনুযায়ী যেত। আবার রাজধানীর ফুটপাতে যারা বসেন তারাও একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে ঠেকের হিস্যা দিতে বাধ্য হন।

এই রেন্ট অবকাঠামোর সামনে থাকা অংশে শীর্ষ রাজনীতিবিদ বা নিম্ন স্তরের কালেক্টরদের দেখা যায় যাদের ওপর দোষ চাপানো হয়, কিন্তু এ ঠেকতন্ত্রের বিভিন্ন স্তরে পুলিশ ও প্রশাসনের হিস্যা সবচেয়ে বেশি যাদের দেখা যায় না বলে দায় চিহ্নিত করা হয় না।

বিভিন্ন স্তরের ঠেকের অবকাঠামো ভাঙাই হতে হবে সংস্কারের প্রধান লক্ষ্য।