ড. এ কে এনামুল হক, মহাপরিচালক, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)। তিনি ইউসিএসআই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ শাখার উপ-উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। একজন পরিবেশবিষয়ক অর্থনীতিবিদ হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশ, বিশেষ করে বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি ও শহরের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তার গবেষণা রয়েছে। বিশ্বব্যাংক, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন), সেভ দ্য চিলড্রেন, ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি), ইউএনডিপিসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশী পণ্যে মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধি ও ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যযুদ্ধের নানা ইস্যু নিয়ে কথা বলেন বণিক বার্তায়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিদিন ইব্রাহিম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। সব মিলিয়ে আমাদের শুল্ক দিতে হবে ৩৬.৫ শতাংশ। ফলে আমরা কেমন ঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছি? এ ঝুঁকি মোকাবেলায় আমাদের করণীয় কী?
যতটা ঝুঁকি আমরা ভাবছি ততটা ঝুঁকি আমি দেখছি না। অর্থনীতিতে দুটো-তিনটা সুবিধা আছে। প্রথমত, ডলারের মান বর্তমানে কিছুটা দুর্বল হওয়ায় আমরা একটা সুবিধা পাচ্ছি। দ্বিতীয়ত, দেশে ডলারের বিনিময় হারও বর্তমানে স্থিতিশীল। ডলার সুবিধা ছাড়াও আমরা গত কয়েক বছর যেভাবে কাজ করেছি, তাতে আমাদের রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। যদি ২০২৪ সালের তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের প্রবৃদ্ধির হিসাব করি, তাহলে দেখা যাবে চলতি বছরে এরই মধ্যে তৈরি পোশাক রফতানি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪০ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধির হার ২ শতাংশ। তাদের জিডিপির সঙ্গে আমাদের রফতানি স্থিতিস্থাপকতা প্রায় ২ শতাংশ। এর মানে হলো আমার দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। তার সঙ্গে ডলার বিনিময় হারে স্থিতিস্থাপকতা ১ শতাংশের কাছাকাছি। স্থিতিস্থাপকতা খুব একটা হেরফের হয় না। ফলে কিছু সুবিধা এমনিতেই আমরা পাচ্ছি।
দ্বিতীয়ত, তুলনামূলকভাবে সবাই কিছু না কিছু ভোগান্তিতে পড়বে। কিন্তু তৈরি পোশাক রফতানিতে আমাদের প্রতিযোগী দেশ, যেমন ভিয়েতনাম তাদের পণ্যে আরোপিত শুল্কহার ও আমাদের পণ্যের শুল্কহার প্রায় একই। ফলে উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব আমি দেখছি না।
আমাদের দরকার সময় বুঝে কোন দিকে যাব সে চিন্তা করা। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক একটি পরিণত শিল্প খাত। তৈরি পোশাক শিল্পের মোট রফতানি ৫০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। এর মধ্যে মাত্র আট বিলিয়ন ডলারের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হয়। এটা খুব বেশি নয়, যা মোট পোশাক রফতানি মূল্যের মাত্র ১৬-১৭ শতাংশ।
যেহেতু এটি আমাদের একটা পরিণত শিল্প, তাই আমাদের উচিত এখন নতুন বাজার সন্ধান করা। এটাই আমাদের এখন করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্যও যেন যায়, সেদিকে নজর দিতে হবে। আমাদের সমস্যা হলো বাণিজ্যের দরকষাকষির ক্ষেত্রে বা ব্যবসার ক্ষেত্রে আমরা একটা শিল্প নিয়ে অগ্রসর হচ্ছি। ফলে দেশের অন্য দশটা শিল্প বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। সুতরাং আমার হিসাবে বড়সড় কোনো পরিবর্তন দেখছি না, কারণ প্রায় প্রত্যেক দেশই সমভাবে ভোগান্তির শিকার। এর পাশাপাশি বিশ্ব রাজনীতিতেও পরিবর্তন হচ্ছে। ডলারের মানের যে দুর্বলতা এখন ধরা পড়ছে, এতে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের উন্নতি হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ১৪টি দেশ বাছাই করেছে। এর উদ্দেশ্য হলো এ দেশগুলো যাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে নেগোসিয়েট করে। পৃথক নেগোসিয়েশন করাই মূল উদ্দেশ্য। ভিয়েতনামের সঙ্গে নেগোসিয়েশন তারা আগেই করেছে। কারণ চীন ভিয়েতনামকে তাদের ব্লকে নিয়ে যেত। যেহেতু চীন বিনিয়োগ নীতি পরিবর্তন করে ভিয়েতনামের দিকে যাচ্ছে, তাই যুক্তরাষ্ট্র ভিয়েতনামকে টার্গেট করেছে। বাংলাদেশেও চীনের বিনিয়োগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চীনকে টার্গেট করেই বাংলাদেশের সঙ্গে নেগোসিয়েটে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। এমন পরিস্থিতিতে সবদিক চিন্তা করে আমাদের দেখা উচিত অর্থনীতি কোনদিকে যাবে।
একটা শিল্পকে কেন্দ্র করে এত বড় নেগোসিয়েশনে যাওয়ার পক্ষে আমি নই। নেগোসিয়েট করতে গিয়ে যদি চীনকে ছাড় দিতে হয় তাহলে পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে। কারণ আমাদের শিল্প-কলকারখানার কাঁচামালের প্রধান জোগানদাতা চীন। একটা শিল্পের জন্য বিশেষত পোশাক শিল্পের জন্য নেগোসিয়েট করতে গিয়ে পুরো অর্থনীতিকে বিপদে ফেলতে পারি না। অনেকেই হয়তো লবিস্টদের কথা বলবে। লবিস্ট বাদ দিয়ে অর্থনীতি বা অর্থনীতির কাঠামো বুঝে অগ্রসর হওয়া উচিত। দেশের সার্বিক স্বার্থে কোথায় যেতে হবে সেটি ঠিক করতে হবে। একজনকে বাদ দিয়ে আরেকজনকে নেব, আমার ধারণা সরকার এটা করবে না। আবার যারা যুক্তরাষ্ট্রের লবিস্টের কথা চিন্তা করছে, তারা ভাবছে যেকোনো মূল্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নেগোসিয়েট করতে হবে। এক্ষেত্রেও আমাদের আরো চিন্তার অবকাশ রয়ে গেছে, জ্ঞানভিত্তিক নেগোসিয়েশন করা উচিত। লবিস্ট বা কোনো গ্রুপকে দিয়ে নেগোসিয়েশন করা অর্থনীতির জন্য ভালো হবে না।
পাল্টা শুল্ক আরোপের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো আমাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো। সেজন্য আমাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়াতে হবে। আমরা কী কী পণ্য আমদানি করতে পারি?
আমরা যদি যুক্তরাষ্ট্র থেকে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি করি, তাহলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে। ফলে আমরা প্রতিযোগিতায় হেরে যাব। দেশের পোশাক শিল্প যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা কিনে কেবল যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করলে লাভ হবে। কিন্তু সেই তুলা কিনে অনেক দেশে রফতানি করা যাবে না। এতে প্রতিযোগিতা হারাবে, কারণ দামের ভিন্নতা থাকবে। যেখান থেকে অল্প দামে পাব সেখান থেকেই আমদানি করব—এটিই আমদানির নীতি। কিন্তু ভারত ও চীনের পরিবর্তে যদি যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি থেকে আমদানি করা হয় তাহলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে। আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভিয়েতনামের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছি কিনা। আমাদের এমন কোনো পোশাক শিল্প-কারখানা বলতে পারবে না যে তাদের পুরো রফতানি যুক্তরাষ্ট্রে যায়। তবে যারা কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই রফতানি করে তারাই কেবল যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা এনে চলতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা এনে যদি ইউরোপে বিক্রি করতে চাই, তাহলে কিন্তু প্রতিযোগিতায় হারাব। এজন্যই বলেছি, আট বিলিয়ন ডলার নিয়ে নেগোসিয়েশন করতে গিয়ে যেন বাকি ৩৭ বিলিয়ন ডলারের বাজার নষ্ট না করি। এটা চিন্তা করা উচিত।
পোশাক শিল্প মালিকদের অনেকেই বলছেন তাইওয়ানসহ বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতি আনায় শ্রমব্যয় হ্রাসে তুলনামূলক ভালো দাম পাচ্ছেন। কীভাবে পণ্যের উৎপাদন খরচ আরো কমিয়ে ভালো দাম পাওয়া যেতে পারে? যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের যে পোশাকগুলো যায় সেগুলো কম দামের। পোশাক শিল্প উচ্চমূল্যের পণ্য রফতানিতে কেমন ভূমিকা রাখতে পারে? আমাদের পোশাক শিল্পের সেই সক্ষমতা আছে কিনা?
আছে, নেই বলব না। আমাদের দক্ষ শ্রমিকের অভাব। বাংলাদেশে এখনো একটা স্যুট তৈরি করতে ১০-১৫ দিন লাগে। কিন্তু থাইল্যান্ডে সকালে অর্ডার করলে বিকালে তা রেডি হয়ে যায়। এ থেকেই বোঝা যায় আমাদের দক্ষ শ্রমিকের অভাব। যদিও সেটা আরেকটা শিল্প। তবে সেটাকেও পোশাক শিল্পের আওতায় আনা যায়। সেটা করতে গেলে আমাদের শ্রমিকের দক্ষতা ও উৎপাদনক্ষমতা লাগবে, সেটা বর্তমানে আমাদের নেই। নেই বলেই আমরা সস্তা পণ্য উৎপাদন করছি। এটা হলো প্রথম কথা। দ্বিতীয়ত, পাশ্চাত্য অর্থনীতিতে যখন পরিবর্তন হয়, যখন অর্থনীতির অবনমন ঘটে তখন ওই সস্তা পণ্যগুলোই প্রভাবিত হয়। সুতরাং স্বল্প দামে পণ্য বিক্রি করা খারাপ নয়। সস্তা দামে পণ্য বিক্রি করা শঙ্কামুক্ত। কারণ যখন অর্থনীতি ঊর্ধ্বমুখী হয় তখনো আমরা পণ্য বিক্রি করতে পারি, আবার যখন অর্থনীতিতে মন্দা হয় তখনো বিক্রি করতে পারি। তবে এটা বলছি না আমরা উচ্চমূল্যের পণ্য বিক্রিতে যাব না। উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনে গেলে মুনাফা বেশি পাওয়ার সম্ভাবনাও বেশি। যখন সার্বিক পরিবেশ তৈরি হবে, কর্মদক্ষ শ্রমিক পাব, তখন আমরা ধীরে ধীরে ওইদিকে এগোব। একসময় আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পই ছিল না, এখন আমাদের হয়েছে। একইভাবে আমরা দামি ও উন্নত পণ্যের দিকেও এগোব। একটা পণ্যের জন্য নেগোসিয়েট করতে গিয়ে পুরো অর্থনীতির সম্ভাবনাকে যেন বিপদে না ফেলি। এটা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের যদি মনেই হয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে এনেই আমরা সব করতে পারব তাহলে আমরা চীন থেকে কাঁচামাল আমদানি করি কেন? চীন সস্তায় বিক্রি করে বলেই আমরা সেখান থেকে আমদানি করি। সস্তা আমদানি ছিল বলেই আমরা সস্তায় সরবরাহ করতে পারি।
প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১০-১২ লাখ তরুণ কর্মবাজারে প্রবেশ করছে। বিদ্যমান শিক্ষিত বেকারের তালিকা ভারী করছে। আপনিসহ অনেকেই বলছেন পোশাক শিল্প উন্নতির দিকে যাচ্ছে। কিন্তু শিক্ষিত শ্রেণীর জন্য পোশাক শিল্প কেন ভালো কর্মসংস্থানের জায়গা হয়নি?
শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর জন্য যে পোশাক শিল্প খুব কিছু একটা করে দেবে তা নয়। দেশে পাঁচ-ছয় হাজার ফ্যাক্টরি রয়েছে। সেখানে শিক্ষিতদের কর্মসংস্থান খুব বেশি না। শিক্ষিত জনগোষ্ঠী বেশি যায় বায়িং হাউজে। আমদানি-রফতানির ব্যবসায় যায়। শিক্ষিত শ্রেণী এর সঙ্গে জড়িত কিন্তু সার্বিক অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত না। দ্বিতীয়ত সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি। সেবা খাতের প্রবৃদ্ধির জন্য আমাদের কৌশল ভিন্ন হওয়া উচিত। পোশাক খাত দিয়ে সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি এত বেশি হবে না। কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি করতে হলে অর্থনীতিতে বিনিয়োগ আনতে হবে। কোন বিনিয়োগ? যে বিনিয়োগে শিক্ষিত শ্রেণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। সুতরাং সেটা ভিন্ন পলিসি। পোশাক শিল্প যে প্রবৃদ্ধি দেয় সেটা এই দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ যে আমার দেশে বাইশ লাখ যে কৃষি শ্রমিক আছে তারাও ধীরে ধীরে অকৃষিজ শ্রমের দিকে ধাবিত হচ্ছে। গত হাউজহোল্ড ইনকাম অ্যান্ড এক্সপেন্ডিচার সার্ভেতে (এইচআইইএস) দেখা যাচ্ছে, আমাদের কৃষি গৃহস্থালির ৫০ শতাংশ আয় আসে অকৃষি থেকে। অর্থাৎ কৃষকরাও এখন কৃষির বাইরে চলে যাচ্ছে। তাহলে আমরা গড় শ্রমিক প্রবৃদ্ধি যদি দুই মিলিয়ন ধরে নিই, সেক্ষেত্রে আরো দুই মিলিয়ন কৃষি থেকে বেরিয়ে আসছে। ফলে নিম্ন পর্যায়ের চাকরিগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পোশাক শিল্প একটা প্রধানতম পর্যায়ের শিল্প, এর পাশাপাশি আমাদের আরো অনেক ক্ষুদ্র শিল্প, চামড়া ও জুতা শিল্প আছে। বাংলাদেশে আগামীতে আসা উচিত টয় ইন্ডাস্ট্রি। এগুলো অনেক নিম্ন দক্ষতার শ্রমিককে কাজে নিয়ে নেবে। আর শিক্ষিতদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে মূল টার্গেট হচ্ছে উচ্চমূল্যের বিনিয়োগ করা, যেখানে শিক্ষিতদের তারা কাজে লাগাতে পারবে। এটা ভিন্ন নীতি। পোশাক শিল্প এটা করতে পারবে না।
পোশাক শিল্প কি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সেচুরেশনের জায়গায় চলে গেছে, যেটাকে আপনি চাকরিহীন প্রবৃদ্ধি (জবলেস গ্রোথ) বলছেন?
গত ১৫-২০ বছরে আমাদের অর্থনীতির যে পরিমাণ অগ্রগতি হয়েছে সেই তুলনায় আমাদের কর্মসংস্থান বাড়েনি। এক্ষেত্রে একটা উদাহরণ দিই, আমরা বিপুল ব্যয়ে পদ্মা ব্রিজ তৈরি করেছি, কিন্তু সেখানে কতটা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে? এগুলো আসলে জিডিপিকে বাড়িয়েছে, কর্মসংস্থান নয়। ঢাকায় ফ্লাইওভার তৈরি হয়েছে, এগুলো কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যেটা অর্থনীতির ভিত। এর সঙ্গে কর্মসংস্থানের সম্পর্ক নেই। কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি কখন হবে? যখন শিল্প-কলকারখানা হবে তখন। সেজন্যই বলছি, কর্মসংস্থান তৈরি করতে গেলে আমাদের ম্যানুফ্যাকচারিং বিনিয়োগ লাগবে। কৃষি বরং সেচুরেটেড, কৃষি থেকে আমরা বের করতে চাচ্ছি। তাহলে ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরে অগ্রগতি না হলে অগ্রগতি হবে না। পোশাক শিল্পে গত দশ বছরে (২০১৪-২৪) যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে, সে অনুযায়ী কর্মসংস্থান খুব একটা হয়নি। অধিকাংশ শিল্প-কলকারখানা ম্যাকানাইজড সিস্টেমে চলে যাচ্ছে। অর্থাৎ শ্রম প্রবৃদ্ধি ততটা হয়নি। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে পোশাক শিল্প শ্রমিকদের এক-দুই শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অথচ গত দশ বছরে আমার আউটপুট বেড়েছে শতভাগ। কিন্তু কর্মসংস্থান সেই তুলনায় হয়নি, এটাই হলো কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধির উদহারণ। আমার অর্থনীতি যেদিকে যাচ্ছে সে তুলনায় কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি আসছে না। এটা আমাদের আগে ছিল না। ফলে এখন অনেক বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনীতিতে বিনিয়োগ আনা। বিনিয়োগ শুধু বাইরে থেকেই নয়, ভেতর থেকেও আসতে হবে। যাতে কর্মসংস্থান তৈরি হয়। কর্মসংস্থানে প্রবৃদ্ধি বাড়ে।
অনেকে বলছে আমাদের জন্য সম্ভাবনাময় খাত হচ্ছে ফুটওয়্যার ও লেদার ইন্ডাস্ট্রি। কিন্তু এ খাতে আমাদের রফতানি মাত্র ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, যেটা খুবই কম। অথচ এটি দ্বিতীয় প্রধান রফতানি খাত। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে ইটিপি (অ্যাফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট) নেই। পোশাক শিল্পে আন্তর্জাতিক মানের কোম্পানি হয়েছে। কিন্তু ফুটওয়্যার ও লেদার ইন্ডাস্ট্রিতে আমরা আন্তর্জাতিক মানের হতে পারছি না কেন? আমাদের ফুটওয়্যার ও লেদার ইন্ডাস্ট্রি সম্ভাবনাময় থাকা সত্ত্বেও প্রতিযোগী হতে পারলাম না কেন?
হচ্ছি, একেবারেই হচ্ছি না তা নয়। আমাদের মূল সমস্যা হলো আমাদের লেদার সরবরাহ সারা বছর সমান নয়। এছাড়া ঈদের সময় একটা বিশাল সরবরাহ আসে। সে সময় প্রচুর ছোট ছোট শিল্প তৈরি হয়, যারা লেদার প্রক্রিয়াজাত করে। আমাদের এপেক্স ও বাটা ভালো ইন্ডাস্ট্রি। তাদের নিজস্ব ইটিপি আছে। বড় ইন্ডাস্ট্রিগুলোর নিজস্ব সক্ষমতা রয়েছে সার্বিক কাজের জন্য। ঢাকায় যেটা নিয়ে আমরা বেশি হইচই করি সেটার জন্য ইন্ডাস্ট্রির চেয়ে সরকারের দোষ বেশি। সাভারে জোন করে তাদের সেখানে যেতে বলা হলো। কিন্তু সেখানে ইটিপি চলে না, সিইটিপি চলে না। এর অর্থ সরকার সঠিকভাবে পরিকল্পনা করতে পারেনি। এটা বেশিদিন আগের নয়। ২০০৬ সালে আমাদের একটা প্রতিবেদনে বলেছিলাম, প্রত্যেকটা ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্টেটে সিইটিপি করতে হবে। এটা যদি না করে তাহলে দূষণ বেড়ে যাবে। আর এ সিইটিপি করার দায়দায়িত্ব যদি পুরোটা ইন্ডাস্ট্রিকে দিই তাহলে তার খরচ বেড়ে যাবে। সুতরাং নগরায়ণের কৌশলগত নীতিমালা তৈরি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে একজনকে দোষ দিলে সেটা হবে না। আমরা একসময় লেদার শিল্পকে দোষ দিলাম সেটা নিয়ে গেল সরকার, নিয়ে সেটাকে বেশি দূর নিতে পারেনি। সেখানে একই অবস্থা। তাতে বোঝা যাচ্ছে আমরা সমন্বয়ের ভিত্তিতে পরিকল্পনা করছি না। আমরা প্ল্যানিং করছি অনেকটা তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধানের জন্য। এ মুহূর্তে ট্রাম্পের সমস্যাকে যদি কেবল পোশাক শিল্পের সমস্যা বলি সেটা ঠিক হবে না।
দ্বিতীয়ত, পোশাক শিল্পকে যেসব সুযোগ-সুবিধা বিশেষত ব্যাংক থেকে শুরু করে বন্ডেড ওয়্যারহাউজসহ ট্যাক্স সুবিধা দেয়া হয়, এই একই সুবিধা কখনো লেদার শিল্পকে দেয়া হচ্ছে না। একই সুবিধা ক্ষুদ্র শিল্প ও ইলেকট্রনিকস মেশিনারিজে দেয়া হচ্ছে না। টয় ইন্ডাস্ট্রিতে দেয়া হচ্ছে না। যদি একই সুবিধা সব ইন্ডাস্ট্রিকে দেয়া হয় তাহলে অগ্রগতি ভিন্ন হবে। সব সুযোগ-সুবিধা একটি শিল্পকেন্দ্রিক। সমস্যা হচ্ছে পাবলিক পলিসিতে। যারা পোশাক শিল্পের মালিক তাদের বিশাল অংশ রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন ও আছেন। তারা সবাই তাদের ইন্ডাস্ট্রির কথাই বলেছেন, তারা দেশের অন্য ইন্ডাস্ট্রিগুলোর বিষয়ে কথা বলেন না। পোশাক শিল্পে কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধি খুবই কম। কর্মসংস্থান বাড়াতে হলে এখন দরকার অন্য শিল্পগুলোকে বিকশিত করা। ফলে প্রথম দিকে কর্মসংস্থানের হার বেশি থাকবে, কারখানার বয়স যত বাড়বে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার তত কমতে থাকবে। এভাবে চিন্তা করেই পরিকল্পনা করতে হবে। এভাবে পরিকল্পনা করে যদি আমি কর্মসংস্থান বাড়াতে চাই তাহলে বাকি শিল্পগুলোকে ইনসেনটিভ বা প্রণোদনা দিতে হবে। যে প্রণোদনা আশি-নব্বইয়ের দশকে পোশাক শিল্পকে দেয়া হয়েছিল।
পোশাক শিল্প শুরু থেকেই এমনকি কভিড মহামারীতেও সরকারের আনুকূল্য পেয়েছে। অন্য খাতগুলো এমনটা পায়নি। ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর আমরা আরো অস্থির ও অনিশ্চিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় চলে যাচ্ছি। বাণিজ্যযুদ্ধের এমন বিশ্ববাস্তবতায় আমরা কীভাবে বৈদেশিক বাণিজ্য পরিচালনা করব?
এতে পোশাক শিল্পের কোনো ক্ষতি হয়নি। আমরা যদি রফতানি তথ্য বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখা যাবে, যুক্তরাষ্ট্রে গত এক বছরে অর্থাৎ ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত রফতানি প্রায় ৪০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এটা নিয়ে এত ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এগুলো আমরা যতটা বলি ততটা ঘটে না। আমরা একসময় তৈরি পোশাক ১০ বিলিয়ন ডলার রফতানি করতাম। এখন আমরা ৫০ বিলিয়ন ডলার রফতানি করছি। এজন্যই বলি এটা খুব প্রতিযোগিতামূলক শিল্প। পৃথিবীতে অনেক অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও পোশাক শিল্পের ক্ষতি হয়নি। যেহেতু পোশাক শিল্পের মালিকরা ক্ষমতাশীল, তারা সরকারে আছে, তাই তারা কেবল তাদের কথাই বলবে। এটার সঙ্গে দ্বিমত করছি না। আমি যদি সরকারে থাকতাম তাহলে আমি আরো অন্য ১০টি শিল্পের কথা ভাবতাম। সব শিল্পকে একই পলিসিতে নিয়ে আসা গেলে অগ্রগতি হবে। সেভাবেই চিন্তা করা উচিত। কেবল একটা শিল্পকে নিয়ে চিন্তা করা কখনই উত্তম পলিসি নয়।
আমরা মোটা দাগে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় তৈরি পোশাক রফতানি করি। এদিকে এশিয়া বৈশ্বিক জিডিপিতে ৫০ শতাংশ অবদান রাখছে। চীন, জাপান, ভারতের মতো বাজারের পাশাপাশি আসিয়ান জোটভুক্ত দেশ ও অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড রয়েছে। পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য হাব ভবিষ্যতে আরো গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। এ বাজারগুলোয় আমাদের অবস্থান দুর্বল কেন?
এখানে অনেকগুলো কারণ আছে। এসব জায়গায় আমাদের ভাষার সমস্যাটা অনেক বড় বাধা। আমরা একসময় ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিলাম। ফলে আমরা ইংরেজি ভালো জানি, তাই আমরা ইংরেজি ভাষাভাষীদের কাছে চলে যাচ্ছি। সুতরাং এটা আমাদের প্রাকৃতিক সুবিধা। দ্বিতীয়ত, আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা সেখানেই টাকা বিনিয়োগ করে, পাচার করে, সেখানেই ব্যবসা বাণিজ্য করে। তারা সেখানে তাদের পরিবারসহ স্থায়ী হতে চায়। ইউরোপে নাগরিকত্ব পাওয়া অন্যান্য দেশের তুলনায় সহজ। যেসব দেশে নাগরিকত্ব পাওয়া কঠিন তারা সেসব দেশকে নিরাপদ মনে করে না। ফলে তারা ইউরোপে বিনিয়োগ করে। আমাদের ব্যবসায়ীরা নাগরিকত্ব নেয় সিঙ্গাপুরের, দুবাইয়ের। অন্যদিকে চীন ও সিঙ্গাপুরের বড় ব্যবসায়ীরা তারা নিজ দেশকেই অগ্রাধিকার দেয়, তারা নিজ দেশেই পরিবারসহ স্থায়ী হতে চায়। তাহলে বোঝা যাচ্ছে, ব্যবসায়ীর উদ্দেশ্য ব্যবসা করা নয়, মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যবসা করে টাকা পয়সা ইনকাম করে বিদেশে পরিবারসহ স্থায়ী হওয়া। আমাকে যদি বলেন আমি কোথায় যেতে চাই? সেটা অবশ্যই ইউরোপ হবে। ফলে সেখানেই আমার বিনিয়োগ হবে, আমার অগ্রগতি সেখানেই হবে। এটাই তো প্রাকৃতিক বিষয়। এছাড়া আমি এটা অন্য কোথাও করতে পারব না। এর সঙ্গে রাজনীতি, দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিং জড়িত। ফলে যদি বিষয়টাকে একভাবে দেখা হয় তখন আমি এর সঙ্গে একমত নই। তাদের উচিত ইন্ডাস্ট্রিগুলোকে বিস্তৃত করে এক বিলিয়ন মানুষের বাজারে প্রবেশ করা। চীন এক্ষেত্রে বিশাল মার্কেট। জাপান আমেরিকার মতোই বড় বাজার। ব্যবসায়ীদের চিন্তা করতে হবে কীভাবে এসব বাজারে প্রবেশ করা যায়। ভারত ও ইন্দোনেশিয়ায় কীভাবে প্রবেশ করা যায় সেগুলো নিয়ে ভাবা দরকার। এগুলো বড় মার্কেট। কিন্তু আমরা সেখানে যাচ্ছি না। আমাদের চিন্তাটা পুরোপুরি ব্যবসাকেন্দ্রিক সেটা মনে হচ্ছে না। এর বাইরেও অনেক চিন্তা আছে। সরকারের উচিত এসব বাজারে অনুপ্রবেশে প্রয়োজনীয় প্রণোদনা দেয়া।
বাণিজ্যযুদ্ধে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ব্রাজিলের মতো অনেক দেশ সুবিধা নিতে পারলেও আমরা কেন তেমন সুবিধা করতে পারিনি?
এখানে ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার উদাহরণের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য আছে। প্রথমত, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার সঙ্গে চীনের একটা ভালো বোঝাপড়ার সম্পর্ক বহুদিন ধরে চলে আসছে। চীনের ব্যবসা, বিনিয়োগ ও জনগণ—এ সুবিধা তাদের প্রাকৃতিক। চীনের অর্থনীতিতে যেহেতু লেবার ইনটেনসিভ ইন্ডাস্ট্রি তৈরি হচ্ছে না, ফলে তারা শিফট করে যাচ্ছে। তারা শিফট করে সেখানেই যাবে যেখানে চীনারা বসবাস করছে। ফলে ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া এ সুযোগ নিচ্ছে। আমাদের উচিত হবে আমাদের লক্ষ্য ঠিক করা। আমাদের লক্ষ্য যদি একবার আমেরিকা একবার চীন, আবার আমরা চিন্তা করি যে চীন বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নেগোসিয়েট করব, তাহলে চীন এখানে বিনিয়োগে কীভাবে আসবে? ভিয়েতনামের উন্নয়ন কেবল ভিয়েতনাম দিয়ে হয়নি, ভিয়েতনামের অগ্রগতিতে চীনের ভূমিকা আছে। কারণ চীনের বিনিয়োগ ভিয়েতনামে বা কম্বোডিয়ায় শিফট করে গেছে। আমরা যদি মনে করি আমরা কেবল ইউরোপের সঙ্গে থাকব, তাহলে আমাদের উন্নয়ন খুবই সীমিত হয়ে যাবে। তখন ইউরোপ আরো নতুন নীতি নিয়ে আসবে। শ্রম মানদণ্ড, উৎপাদন নীতিমালা এবং সোর্সিং ঠিক করার কথা বলবে। তখন আমাদের উৎপাদন ব্যয় আরো বাড়তে থাকবে। সুতরাং ভিয়েতনামের সঙ্গে আমরা যেভাবে তুলনা করছি, সেটা সমান নয়। আরেকটা বিষয় হলো ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শিক্ষার হার আমাদের চেয়ে বেশি। শিক্ষার হার বেশি হলে কিছু ন্যাচারাল অ্যাডভান্টেজ আছে। শিক্ষার সঙ্গে জীবনযাপন পদ্ধতি জড়িত। শিক্ষার হার বেশি হলে সব ধরনের রোগের হার কমে। ফলে সেখানে অনেক নীতি সহজে বাস্তবায়ন করা যায়। আমাদের ক্ষেত্রে এগুলো চ্যালেঞ্জ। সুতরাং আমাদের এগোতে হবে সাবধানে। গত দশ বছরে পোশাক শিল্প খাতে কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি হয়নি। আমরা হয়তো পৃথিবীর সেরা পরিবেশবান্ধব শিল্প করেছি। কিন্তু তা কর্মসংস্থান তৈরিতে কাজে লাগেনি। যেহেতু পোশাক খাতে কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি কমে গেছে তখন সেই খাতের দিকে ধাবিত হওয়া উচিত যে খাতে কর্মসংস্থানের অগ্রগতি আছে। কারণ জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে আমাদের প্রথম চ্যালেঞ্জ হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। কর্মসংস্থানকে টার্গেট করে পলিসি আসা উচিত।
নতুন যুগের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় কী ধরনের সংস্কার করা উচিত?
আমাদের শিক্ষাকে ঔপনিবেশিকতা থেকে বের হওয়া উচিত। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় পুরোপুরি ঔপনিবেশিক কাঠামো টিকে আছে। আমাদের শিক্ষার উদ্দেশ্য কোনো কিছু তৈরি করা না, কোনো রকম একটা ডিগ্রি দেয়া! ঔপনিবেশিক আমলে শিক্ষার উদ্দেশ্য ছিল এমন একটা ডিগ্রি তৈরি করা, যাতে সিভিল সার্ভেন্ট হতে পারে। আমাদের পুরো জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল উদ্দেশ্য ছিল, ছাত্ররা যেন সিভিল সার্ভেন্ট হতে পারে। সুতরাং এতে বোঝা যায় আমরা শিক্ষার ক্ষেত্রে ঔপনিবেশিকতার ভেতর আছি। ঔপনিবেশিকতা থেকে বের হতে হলে শিক্ষাকে এ কাঠামো থেকে মুক্ত হতে হবে। দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে সিলেবাস একই রকম হবে কেন? সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সিলেবাস হলে সেটা কোনো শিক্ষা হলো না। একটা উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ভিন্ন ভিন্ন সিলেবাস হবে। হার্ভার্ডের সিলেবাসের সঙ্গে প্রিন্সটনের সিলেবাসের মিল নেই। প্রিন্সটনের সঙ্গে স্ট্যানফোর্ডের মিল নেই। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) মিল নেই। আমাদের দেশে ঔপনিবেশিক মানসিকতার জন্য আমরা একই শিক্ষা সব জায়গায় দেয়ার চেষ্টা করছি। এটা কাজ করবে না।










