আলী আহসান জুনায়েদ, আহ্বায়ক, ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ)। ছিলেন জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক। পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগে। স্নাতকোত্তর পর্ব শেষ করে পড়িয়েছেন জাপানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক ছিলেন তিনি। সম্প্রতি চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের নানা দিক নিয়ে কথা বলেন বণিক বার্তায়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিদিন ইব্রাহিম
আপনারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক ও সামনের সারির নেতাদের একজন। আপনি কখন বুঝতে পারলেন যে এ আন্দোলন আর কেবল কোটা সংস্কার আন্দোলনে থাকার নয়। এটা কখন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নিল?
১৪ জুলাই শেখ হাসিনা যখন সংবাদ সম্মেলনে ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলে আন্দোলনকারী ছাত্রদের অপমান করল, তখনই শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে নেমে পড়ল। প্রতিবাদস্বরূপ স্লোগান দিল, ‘তুমি কে? আমি কে? রাজাকার রাজাকার। কে বলেছে, কে বলেছে? স্বৈরাচার, স্বৈরাচার’। মূলত এর ভেতর দিয়ে রাজাকার ট্যাবুটা ভেঙে ফেলা হইছে। ভয়টা ভেঙে ফেলছে। এর ভেতর থেকেই আন্দোলন নতুন দিকে মোড় নেয়। পরদিন যখন ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করল, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর তখন বিষয়টি সবাইকে ভেতর জাগিয়ে তোলে। ওইদিন হাসপাতালেও আহতদের ওপর ছাত্রলীগের নেতারা হামলা করে। একই দিন রাতে জাহাঙ্গীরনগর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল, অমর একুশে হল ও ফজলুল হক মুসলিম হল থেকে ছাত্রলীগকে বের করে দেয়া হয়। তখনই আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে আন্দোলনকে আর ঠেকানোর উপায় নেই। ১৪, ১৫ ও ১৬ জুলাইকে আমি খুবই গুরুত্বপূর্ণ দিন বলব। ১৬ জুলাই আবু সাঈদের শহীদ হওয়ার দৃশ্যটা সবার চোখের সামনে এল। এটা সারা দেশের মানুষকে নাড়া দেয়। ১৫ জুলাই মার খাওয়ার পর আমরা সবাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলাম যে আমরা এবার প্রতিরোধ করব। তখন বিশ্ববিদ্যালয়সহ পুরো বাংলাদেশে প্রতিরোধ করার দুর্দান্ত একটা স্পৃহা তৈরি হয়। ফলে শহীদ মিনারে সবাই জড়ো হয়। তখনই আবু সাঈদ, ওয়াসিমসহ ছয়জন শহীদ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো থেকে ছাত্রলীগকে বের করে দেয়া হয়। প্রথমে রোকেয়া হল দিয়ে শুরু। নারী শিক্ষার্থীরা কিন্তু এ আন্দোলনে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে। ১৪ তারিখের স্লোগান থেকে ১৫ তারিখ মার খাওয়া, ১৬ তারিখ হল থেকে ছাত্রলীগকে বিতাড়িত করা উভয় ক্ষেত্রেই মেয়েরা নেতৃত্বে ছিল। একই চিত্র বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়। তখনই পরিষ্কার হয়ে যায় ছাত্রলীগ আর ফিরতে পারবে না। স্পষ্ট হয়ে যায় এ আন্দোলন আর কোটা সংস্কারে নেই।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগের ১৫-১৬ বছর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সরকার পতনের আন্দোলন করে ব্যর্থ হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ছাত্রদের নেতৃত্বে এটা সফল হলো। আপনারা ওই সময়টায় যে সুসংগঠিত হয়ে সিদ্ধান্ত নিতেন, সবাই সেই মোতাবেক কাজ করত; সেটা কীভাবে করেছেন? আপনাদের এ সুসংবদ্ধতা নিয়ে কিছু বলেন।
নাহিদ-মাহফুজ-আসিফ একটা গ্রুপ ছিল, হাসনাত-সারজিসরা একটা গ্রুপ, ফরহাদ-সাদিক কাইয়ুম গ্রুপ, তো প্রত্যেকটা জায়গা থেকে দ্রুত আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্তে পৌঁছা হতো। সবাই সবাইকে মানত। কারণ কারো মধ্যেই নিজস্ব পার্টি প্রতিবন্ধকতা ছিল না। সবার একমাত্র লক্ষ্য আন্দোলন সফল করা, যার ফলে সিদ্ধান্ত নেয়া ও যোগাযোগ করা খুবই সহজ হয়েছে।
আন্দোলনের একপর্যায়ে তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাতের সঙ্গে ছাত্র নেতৃত্বের একাংশের যোগাযোগ হয়। নয় দফা দাবি ঘোষণার একপর্যায়ে ছাত্র নেতৃত্বের একাংশ আপস করতে চেয়েছে বলে বিভিন্ন পক্ষ থেকে বলা হয়! সে সময় ছাত্রদের মধ্যে মতানৈক্য তৈরি হয়েছিল কি! যদি ঘটে আপনারা কীভাবে সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন?
১৮ জুলাই সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়, ফলে সবার মধ্যে একটা যোগাযোগে বিচ্যুতি ঘটে। এর মধ্যে অনেকে সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে, কাউকে ডিজিএফআই চাপ দেয়, আবার অনেককে আত্মগোপনেও যেতে হয়! ফলে একটা সার্বিক যোগাযোগে ঝামেলা তৈরি হয়। এই থেকেই সামান্য ঝামেলা হয়। তার পরও নয় দফা নিয়ে সবাই ঐকমত্যে ছিল। কিন্তু কিছু মিডিয়া আট দফা বলে ঘোষণা করে। তারপর আবদুল কাদের যখন নয় দফা ঘোষণা করে তখন বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। জনগণ তখন নয় দফাতেই আস্থা আনে। ২১ জুলাই ৯৩ শতাংশ কোটা বাতিলের একটা রায় দেন কোর্ট, জনগণ সেদিকে কোনো নজরই দেয়নি। তখন সবার নজর নয় দফায়।
আমরা দেখেছি শুরু থেকে সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেছে। আপনাদের সহায়তা করেছে। আপনারাও তখন সাধারণ মানুষের বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ওই সহযোগিতার কথাগুলো মনে আছে?
মানুষ তখন খুব সহায়তাপ্রবণ ছিল, যার ফলে প্রত্যেকে নিজ নিজ নেটওয়ার্ক মেনে বিভিন্ন জনের বাসায় আশ্রয় নেয়। ১৮ জুলাইয়ের পর নাহিদ, মাহফুজ, আসিফ, হাসনাত, সারজিসকে পাওয়া যাচ্ছিল না। তখন আবদুল হান্নান মাসুদ, আবদুল কাদের, রিফাত রশিদ, মাহিন সরকার ওরা আসে। ওদের মাধ্যমে প্রেস রিলিজগুলো দিতে থাকে। তখন তাদের নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে ছিল। নেতৃত্ব স্তরভেদে সাজানো ছিল। ওরা দ্বিতীয় স্তরে ছিল, ওরা ভেঙে পড়লে বড় সমস্যায় পড়তে হতো আন্দোলনে। এর ফলে ওদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা হয়। ওরা যেন মিডিয়া ফেস করতে পারে সে ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এটা নিয়ে সায়ের ভাই ও নাজমুল হাসান ভাই লিখেছেন এরই মধ্যে। এটা নিয়ে হান্নান মাসুদ, সাদিক কাইয়ুমও লিখেছেন। এ জায়গায় প্রত্যেকে নিজ নিজ চ্যানেলে যোগাযোগ করে ওদের সার্বিক নিরাপত্তা দেয়। এটা সফল হয়েছে—আন্দোলনে সবাই নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছিল। কে কীভাবে কাকে সহায়তা করবে তা নিয়ে সবাই খুবই অ্যাকটিভ ছিল।
জুলাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্মসূচি ছিল ফেসবুক প্রোফাইল লাল করা। আগে থেকেই আগস্ট এলে আওয়ামী লীগ কালো ব্যাজ ধারণ করে প্রোফাইল কালো করে। আগস্টের প্রথম দিনে ফেসবুক প্রোফাইল লাল করার এই আইডিয়া কীভাবে এলো?
মেট্রোরেল ও বিটিভিতে আগুন দেয়ার ঘটনা কেন্দ্র করে হাসিনা একটা কান্নার নাটক করে। তখন সবাই খুবই ধাক্কা খায়, মানুষের মৃত্যু নিয়ে তার কোনো আলাপ-অনুভূতি নেই! সে ইটপাথরের জন্য কান্না করছে! আমরা তখন ভাবছিলাম এর প্রতিবাদে কালো কাপড় বেঁধে নামব। তখনই রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শোক দিবস ঘোষণা করা হয়। কালো ব্যাজ ধারণের কথা বলা হয়। আমরা তখন এ রাষ্ট্রীয় শোকের প্রতীককে প্রত্যাখ্যান করে আমাদের নতুন প্রতিবাদী প্রতীক নিয়ে আলাপ করি। এ সময় ছাত্রদল ও শিবিরের সঙ্গেও আলাপ হয়। তখন অনেকের মধ্য থেকেই প্রোফাইল লাল করার আইডিয়াটা আসে। এবং এটাকে প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জানিয়ে দেয় ফরহাদ। এর ভেতর দিয়ে সবাই প্রোফাইল লাল করে, তখন স্পষ্ট হয়ে যায় কারা আন্দোলনের শুভাকাঙ্ক্ষী, কারা রাষ্ট্রীয় জুলুমের পক্ষের শক্তি। এটা আন্দোলনকারীদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধতা তৈরিতে সহায়তা করে ব্যাপক।
আগস্টের শুরুতেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা ঘোষণা করে গণভবনে উন্মুক্ত, চায়ের দাওয়াত দিল আপনাদের। তখন আপনারা কেন যাননি? আপনাদের চিন্তাভাবনাটা তখন কেমন ছিল?
তখন ছয় সমন্বয়ককে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছিল। এটা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সিদ্ধান্ত নিলেন তারা গিয়ে ছাত্রদের ছাড়িয়ে আনবে। তারপর ছেড়ে দিতে বাধ্য হলো। তখন অসংখ্য মানুষকে হত্যা করা হয়েছে একই সঙ্গে গণগ্রেফতার করা হচ্ছিল। বাসায় গিয়ে তল্লাশি দেয়া হইছে ছাত্র ও আন্দোলনকারী আছে কিনা! তখন অনেকেই বাসায় থাকতে পারেনি। বিশেষ করে যেসব পরিবারে শহীদ বা আহত হয়েছে, তাদের পরিবারে গিয়ে যুবলীগ-পুলিশ-ছাত্রলীগ ব্যাপক হয়রানি করেছে। মরদেহ কবরস্থ করতেও বাধাগ্রস্ত করেছে। এমন অবস্থায় হাসিনার সঙ্গে আলাপের কোনো যৌক্তিকত নেই। আমরা ভাবছি ওই মুহূর্তে হাসিনার দরজা খোলা মানে নতুন প্রতারণার ফাঁদ এবং আন্দোলন বন্ধ করে দেয়ার কৌশল। তখন ডিবি কার্যালয় থেকে একটা ঘোষণা দেয়া হলো আন্দোলন স্থগিত! আমরা তখন বললাম, বন্দুকের নল ঠেকিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমরা এটা মানি না। এরপর ওরা যখন বের হয়ে আসে, তখন গণভবনে যাওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই। তখন হেলিকপ্টার থেকে গুলি করা হচ্ছে, যাকে তাকে পেলেই গুলি করে শহীদ করা হচ্ছে! এ অবস্থায় আন্দোলন আর নয় দফায় নেই, এক দফায় ঝুঁকছে। মানুষের মনে তখন অলরেডি এক দফা চলে আসছে। ১ আগস্টে যে ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ কর্মসূচি পালন হয় তখন কিন্তু পুরো দেশে সব শহীদকে হিরো হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। মানুষ এটাকে উদযাপন করে। তারপর নাহিদের মাধ্যমে ৩ আগস্ট এক দফার ঘোষণা আসে।
হাসিনার পতন বা তার পালিয়ে যাওয়া নিয়ে আপনাদের মধ্যে কোনো পূর্ব ধারণা ছিল?
আমাদের তেমন স্পষ্ট ধারণা ছিল না। কিন্তু ১৫ জুলাইয়ের পর থেকেই বুঝে গেছি, হাসিনা আর টিকবে না। ফাইনালি ৩ আগস্টে যখন আমরা আলাপ করছিলাম রূপরেখাটা কেমন হবে, তখন আমাদের মধ্যে জাতীয় সরকারের একটা চিন্তা ছিল। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত নির্বাচনগুলোয় আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের ফ্যাসিবাদী জোট শক্তি বাদে বাকি যারা নির্বাচন করে এমপি হয়েছে তাদের থেকে ৭৫ শতাংশ এবং বাকি অংশ টেকনোক্রেট রেখে একটা জাতীয় সরকার রূপরেখার পরিকল্পনা করা হয়। আমরা রাতভর আলাপ করি। তখন আমরা হাসিনার অধীনে নেই, কারণ এক দফা মানেই অসহযোগ আন্দোলন। তখন তো হাসিনার পতনের দাবিতে পুরো দেশ নেমে পড়ে। আমরা যখন রাতে আলাপ করি তখন সাদিক কাইয়ুমের পক্ষ থেকে ড. ইউনূসের কাছে একটা বার্তা যায়, তিনি তখন হালকা গ্রিন সিগন্যাল দেন। ওই মুহূর্তে আমাদের আলাপ এগুলো নিয়েই হচ্ছিল, কিন্তু হাসিনা কীভাবে পালাবে তা নিয়ে আমরা ক্লিয়ার ছিলাম না।
৫ আগস্টের পর আপনাদের কর্মপরিকল্পনা কেমন ছিল? তখন দেখলাম ছাত্র নেতৃত্বের একাংশ একটা বেসরকারি টিভি চ্যানেলের অফিসে চলে গেল! অন্য কোনো জায়গা ছিল না? এটা কেন হলো?
৫ আগস্ট কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোকে ক্যান্টনমেন্টে ডাকা হয়েছিল। আমরা সিদ্ধান্ত নিই আমরা সেখানে যাব না। তখন আমরা বলেছিলাম, সামরিক শাসন আমরা দেখতে চাই না। মিলিটারিও পজিটিভ ছিল, তারা ক্ষমতা দখল করবে না। ৫ তারিখ যখন হাসিনা পালিয়ে যায় তখন আমরা একটা অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়েছি! এএফপির তৎকালীন ব্যুরো চিফের অফিসে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে চ্যানেল টুয়েন্টি ফোরের অফিসে যাওয়া হয়। আমাদের জাতীয় সরকার নিয়ে আলাপ হচ্ছিল, বিএনপির সঙ্গেও এটা নিয়ে আলাপ হয়। তখন তারা এতে রাজি হননি। এতে পুরো পরিকল্পনাটাই ভেস্তে যায়। কারণ বিএনপি ছাড়া তো জাতীয় সরকার গঠন সম্ভব নয়। তখন সংবাদ সম্মেলন করে ২৪ ঘণ্টা সময় চাওয়া হয় এবং মাহফুজ আলমের নেতৃত্বে একটা লিয়াজোঁ কমিটির সিদ্ধান্ত দেয়া হয়। পরে কমিটির ঘোষণা আসে ৮ আগস্ট। ওই সময়টা আমাদের খুব বিশৃঙ্খলার ভেতর দিয়ে গেছে, আমাদের কোনো পূর্বপ্রস্তুতি ছিল না। আমরা আন্দোলনে পুরোপুরি নিমজ্জিত ছিলাম। হাসিনা পালানোর ২-৩ ঘণ্টা পরও গুলি চলছে! তখন গৃহীত অনেক পদক্ষেপই আশাপ্রদ হয়নি।










