জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওপর ক্রমাগত নানা চাপ থাকে। এর মধ্যে প্রথম চাপ হচ্ছে দেশের আর্থিক প্রয়োজন মেটানো। কিন্তু বাস্তবতা হলো পৃথিবীর সর্বনিম্ন কর-জিডিপি অনুপাতের দেশগুলোর মধ্যে আমাদের দেশ অন্যতম। এমনকি আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়েও আমাদের কর-জিডিপি অনুপাত অনেক কম। বাংলাদেশে মাত্র ৭ দশমিক ১ শতাংশ কর-জিডিপি অনুপাত। আমরা যখন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা থেকে ঋণ নিই তখন প্রায় ক্ষেত্রেই জিডিপির কত শতাংশ ঋণ নেয়া হচ্ছে এবং উন্নত দেশ বা শিল্পোন্নত দেশগুলোর সঙ্গে ঋণের তুলনামূলক অবস্থান দেখিয়ে বলা হয়ে থাকে যে আমরা খুব ভালো অবস্থানে রয়েছি। তখন আমরা মনে করি, আরো বেশি ঋণ নেয়া যেতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হলো উন্নত বিশ্বের দেশগুলো জিডিপির প্রায় ৪৫ শতাংশ কর আদায় করে। যেহেতু তাদের আয় বেশি তাই ঋণ বেশি হলেও তাদের সেই ঋণ পরিশোধ করার ক্ষমতা আছে।

কিন্তু রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের আয় অত্যন্ত কম, অর্থাৎ একদম তলানিতে। সুতরাং শুধু জিডিপির ভিত্তিতে যদি ঋণ করা হয় তাহলে সেটা কখনো টেকসই হবে না। এখানে ব্যাংকার ও ব্যবসায়ীরা বলেছেন, নানা কারণে আমাদের রেটিং নিচে হলে ব্যবসায়ে জড়িতদের অতিরিক্ত বা বেশি টাকা পরিশোধ করতে হয়। কারণ হলো যারা এ সার্ভিসগুলো দেন, যারা রফতানি করেন, এলসি খোলেন, তারা মনে করেন, এ দেশের ব্যবসায়ীদের থেকে টাকা ফেরত পাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। যেহেতু ঝুঁকি বেশি, তাই রিস্ক প্রিমিয়াম দাবি করেন তারা।

ড. মোয়াজ্জেম বলেছেন, আমরা নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে একটা বড় রকমের দুষ্টচক্রে আটকে পড়েছি। ক্রমাগত একই অক্ষেই ঘুরছি। আমি আরো যুক্ত করতে চাই যে শুধু নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রেই নয়, আমরা বাস্তবায়নের জায়গাতেও এ দুষ্টচক্রে আটকে আছি। সর্বোপরি সুশাসন প্রক্রিয়া দুষ্টচক্রের প্রভাবে ভুগছে।

ব্রিটিশদের তৈরি পলিসি, আইন-কানুন ও বিধি-বিধান শক্ত থাকা সত্ত্বেও আমরা দেশে সুশাসন নিশ্চিত করতে পারছি না। মুশকিল হলো আমরা এসবকে ক্রমাগত অবহেলা করছি। এসব বিধি-বিধান ও আইন-কানুন মানি না এবং এসব না মানার কারণে দায়িত্বশীল কোনো পক্ষ তৈরি হয়নি। ফলে যাদেরকে যেভাবে জবাবদিহি করা দরকার তাদেরকে সেভাবে জবাবদিহিতার আওতায় আনা যায়নি। জাতি হিসেবে আমরা সেই চক্রের মধ্যে আটকা পড়েছি এবং বাংলাদেশ রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে আমি নিজেও সেই চক্রের বাইরে নই। কারণ আমার করের আওতা যত বড় হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি। বিশেষ করে আয়কর আদায়ের মাধ্যমে ধনীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা। কিন্তু আমাদের কোষাগার এখনো গরিবের টাকায় পূর্ণ হচ্ছে।

১৯৭২ সালে বাংলাদেশের প্রথম বাজেটে আমরা রাজস্ব সংগ্রহ করি। সে সময় মোট রাজস্ব আয়ের ৯০ শতাংশ আসে পরোক্ষ কর বা গরিব মানুষের পকেট থেকে। সেই পরিস্থিতির যে খুব উন্নতি ঘটেছে তা নয়। এখনো রাজস্ব আয়ের দুই-তৃতীয়াংশ আসে পরোক্ষ কর থেকে। আয়কর দেন মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মানুষ। আমাদের এখন পর্যন্ত ১ কোটি ১১ লাখ করদাতা রয়েছেন। এর মধ্যে ৬০ শতাংশই করদাতা নিয়মিত আয়কর দেন না। আয়কর না দিলেও এর জন্য তারা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হন না। অন্যদিকে যারা আমাদের নিয়মিত করদাতা, আমরা যেহেতু তাদেরকেই চিনি এবং আয়কর প্রদানে তাদেরকেই আরো বেশি চাপ দিই। এতে করে তারা বিরক্ত হয়ে যান। এ অবস্থা থেকে আমরা পরিত্রাণ পেতে চাই। এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছি। বিশেষ করে অর্থ উপদেষ্টা, আমিসহ এনবিআরের আরো ১৬ জন সদস্য মিলে আমরা এর ওপর কাজ করছি। সামনে অনেক ধনাঢ্য ব্যক্তি আয়কর নোটিস পেতে যাচ্ছেন। বিশেষত দীর্ঘদিন ধরে যাদের টিআইএন আছে, ব্যবসা-বাণিজ্য আছে এবং জীবিত আছে অথচ আয়কর দাখিল করেন না। তাদেরকে নিয়ম মানাতে আমরা এ জায়গায় কাজ করছি। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ভ্যাট আইন আনেন সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমান। এর একটা সহজাত শক্তি ছিল যে একজন অন্যজনকে বাধ্য করবে ভ্যাট চালান দেয়ার জন্য। তা না হলে ইনপুট ক্রেডিট পাওয়া যাবে না। পরবর্তীকালে দীর্ঘদিন ধরে আমরা এ পদ্ধতি ধ্বংস করে দিয়েছি। তারপর ২০১২ সালে পাস হওয়া ভ্যাট আইনও আমরা বাস্তবায়ন করতে পারিনি। সাত বছর ধরে ঝগড়াঝাটি করে আবার সেই কমপ্রোমাইজ ফর্মুলাতেই চললাম।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভ্যাট নিয়ে একটি ভুল ধারণা আছে যে তারা মনে করেন ব্যবসায়ীরাই ভ্যাট প্রদান করেন, কিন্তু বাস্তবতা হলো তারা ভ্যাট দেন না। বরং তারা সরকারের হয়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে ভ্যাট সংগ্রহ করে সরকারের কাছে জমা দেন। অর্থাৎ এখানে তারা রাষ্ট্রীয় এজেন্ট/প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছে এবং সংগৃহীত কর রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিচ্ছে। সুতরাং মূলত এটি দিচ্ছে ভোক্তারাই। এক্ষেত্রে একটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে, তুলা থেকে সুতা হয়, সুতা থেকে কাপড় হয়, কাপড় থেকে পোশাক হয়, সেই পোশাক হোলসেল হয় এরপর সেটি খুচরা বাজারে বা বিক্রেতার কাছে যায়। একটি শার্ট ১ হাজার টাকার পোশাকের ওপর খুচরা বিক্রেতা/রিটেইলার ১৫ শতাংশ ভ্যাট বা ১৫০ টাকা ধরা হয় তাহলে সেই ১৫০ টাকার করের অর্থ ভোক্তার পকেট থেকেই যাচ্ছে। আর এ ১৫০ টাকাই বিভিন্ন স্তর থেকে সংগ্রহ করাই আমাদের কাজ। কাজটি আমরা ধাপে ধাপে করে থাকি মূল্য সংযোজন কর (মূসক) সিস্টেমের মাধ্যমে। উপস্থিত ব্যবসায়ীদের বলব, আপনারা ১৫ শতাংশ ভ্যাট দেন এবং ইনপুটের ওপর ক্রেডিট দেন। এতে করে ১ শতাংশের কম কর দিতে সক্ষম হবেন ব্যবসায়ীরা। অনেক আন্দোলনের পর আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু আমরা যেভাবে চলছি সেভাবে চললে আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ কোনো দিনও গড়তে পারব না। অনেকেই বলেন বাংলাদেশের বয়স কম, বয়স হলে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার অনেক দেশ রয়েছে যাদের স্বাধীনতার বয়স ১৫০-২০০ বছর। অথচ তারা রাষ্ট্র হিসেবে এখনো শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াতে পারেনি। আবার অনেক কম বয়সী রাষ্ট্র সফল হয়েছে। আমাদের এশিয়াতেই এমন উদাহরণ আছে। সিঙ্গাপুর প্রথম দিন থেকেই শৃ্ঙ্খলা নিশ্চিত করায় বর্তমানে তারা বিশ্বের অনেক দেশকে ছাড়িয়ে যেতে পেরেছে।

সুতরাং আমাদেরকেও নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে আসতে হবে। প্রয়োজনে আমরা ভ্যাটের হার কমিয়ে দেব। কিন্তু এই যে কলাকৌশল, সিঙ্গেল রেটের ভ্যাট প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গা থেকে নিশ্চিত করতে হবে যেন ভ্যাট চালান নিশ্চিত করা হয়। আপনি যদি আমাকে ভ্যাট চালান না দেন তাহলে কিন্তু আমি ক্রেডিট পাব না। এটাই ছিল ভ্যাটের সৌন্দর্য। সেটাকে বিনষ্ট করে এখন আমরা গুটিকয়েক নিয়মিত ও অনুগত করদাতার ওপর চাপ বাড়িয়েই চলেছি।

আমি নিজেও যখন কোনো কিছু কেনাকাটা করি, তখন অনেক সময় ভ্যাট রসিদ গ্রাহকদের সঠিকভাবে প্রদান করা হয় না। মেশিন থাকা সত্ত্বেও না বললে রসিদ দেয়া হয় না। এর ওপর পুরস্কার থাকা সত্ত্বেও এখনো কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। সেজন্য আমরা এমন ম্যাকানিজম তৈরির চেষ্টা করছি যাতে ভোক্তারা তাদের ন্যায্য হিস্যা ভ্যাট রসিদ সংগ্রহ করতে পারেন। একই সঙ্গে ভোক্তাদের আলাদাভাবে পুরস্কৃত করা যায় সেটি দেখব।

এখন একটা প্রশ্নটা উঠছে, আমরা কেন আবার ভ্যাট বাড়ালাম এবং আমরা কেন এখনো একই নীতিতে হাঁটছি। আসলে কি তাই? আপনারা লক্ষ করলে দেখবেন, প্রথম থেকেই বর্তমান সরকার চিন্তা করেছে যে রাষ্ট্রের স্বার্থে কাজ করবে। আগে আমাদের রাষ্ট্রকে টেকাতে হবে, এরপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ (এনবিআর) অন্য রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো টিকবে।

সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে বারবার শুল্ক প্রত্যাহার করেছি। চাল, চিনি, পেঁয়াজ, সয়াবিন তেল, ডিম, কীটনাশক ও খেজুর আমদানিতে ব্যাপক হারে আমদানি শুল্কে ছাড় দেয়া হয়েছে। শুল্ক ছাড়ের বিষয়টি প্রতিটি প্রেস রিলিজে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে আমরা ৪০-৫০ টাকা করে শুল্ক ছাড় দিয়েছি। আগামী রমজান সামনে রেখে খেজুরেও ব্যাপকভাবে শুল্ক ছাড় দেয়া হয়েছে। খেজুরের দামভেদে কেজিতে ৬০-১০০ টাকা পর্যন্ত কমার কথা। তার পরও খেজুরের দাম ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। কিন্তু এটা হওয়ার কথা নয়, দাম অবশ্যই কমার কথা। অনুষ্ঠানে একজন বলেছেন ফলের ওপর কীভাবে কর কমানো যায়। এরই মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর ব্যাপক হারে করছাড় দেয়ায় সরকারের অভ্যন্তরীণ আয়ে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। কিন্তু সরকারের যেসব অভ্যন্তরীণ ঋণ, বিশেষ করে ব্যাংক খাত থেকে নেয়া ঋণ ও সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে নেয়া ঋণগুলো নিয়মিতভাবে পরিশোধ করতে হয়। সরকার যদি এসব ঋণ পরিশোধ করতে একবার ব্যর্থ হয় তাহলে আমাদের ক্রেডিট রেটিং ও বিশ্বস্ততায় মারাত্মকভাবে আঘাত আসবে। এ কারণে আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আয় বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। যেসব পণ্যে শুল্ক ছাড় দিয়েছি, সেই করের শূন্যতা পূরণের জন্য কিছু কিছু পণ্যে বছরের মাঝখানে শুল্ক বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে জনমতকে বিবেচনায় নিয়ে অনেকগুলো পণ্যে শুল্কও বাড়ানোর নীতি প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ কাজগুলো মূলত আমাদের করতে হয়েছে রাজস্ব বাড়ানোর জন্য।

অনেকেই বলছেন আমাদের প্রামাণ্য দলিল ও তথ্য-উপাত্ত নেই। এর সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে, অনেক নথিপত্রকে ডিজিটালাইজড করেছি, এগুলোকে এখনো একত্রীকরণ বা সমন্বয় করে ডিসপ্লে করা যায়নি। এনবিআর চেষ্টা করছে। তবে সময় লাগবে। আমাদের নিজস্ব মেধা, জনবল, ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতা ও প্রযুক্তি দিয়ে তথ্য-উপাত্তকে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করার চেষ্টা করতে হবে। আমাদের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়াররা দেশের বাইরে গিয়ে ভালো কাজ করছেন। তাদের নিয়োজিত করে ছোট ছোট সফটওয়্যার করে সমন্বয় করা সম্ভব হলে এবং ডাটা আমাদের হাতের নাগালের মধ্যে থেকে সেই ব্যবস্থা করা সম্ভব হলে আমাদের অনেকগুলো সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।

এখানে অনেকে অলিগোপলি নিয়ে কথা বলেছেন। সরকারকে কিছু কিছু জায়গায় নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। যখন অল্প কয়েকজন মিলে একটা ব্যবসা খাতের সুবিধাভোগী তখন সরকারের উচিত সেগুলো উন্মুক্ত করে দেয়া। বাজার যত উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ হবে অনেক সমস্যা আপনি আপনি সমাধান হবে। এর পরও বাজার গুটিকয়েকের হাতে চলে যাবে, তখন সরকারের হস্তক্ষেপ দরকার হবে। কিন্তু যখন বৃহৎ আকারে সরকার হস্তক্ষেপ করে তখন বাজার উল্টো প্রতিক্রিয়া দেখায়, অর্থাৎ ব্যয় বাড়াতে ভূমিকা রাখে। বরং ক্যাটাগরিক্যালি এ জায়গাগুলোয় হাত দিলে দাম নিয়ন্ত্রণে সাধারণ জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন কিছুটা হলেও ঘটাতে পারব। রাষ্ট্রের উন্নয়ন ঘটাতে হলে অবশ্যই যার যার জায়গা থেকে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। প্রত্যেককে একটি বিষয় ভাবতে হবে যে কারো জন্য যেন নতুন কোনো সমস্যার সৃষ্টি না হয়। অন্যজন কী করল আর কী করল না সেদিকে নজর না দিয়ে প্রত্যেককে নিজের কাজ সম্পর্কে দায়িত্বশীল হতে হবে। কারো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাষ্ট্রে যেন নতুন সংকট সৃষ্টি না হয় সেদিকে গুরুত্ব দেয়া উচিত। একে অন্যের ওপর ধাক্কাধাক্কির রীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বের না হতে পারলে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে। তাই প্রত্যেককে ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ হতে হবে।

পৃথিবীতে বাংলাদেশের মতো দেশ একটিও নেই। এ দেশের মানুষ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে জীবন দিয়েছে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিয়েছে এবং ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতা আরেকবার রক্ত দিয়েছে। আমরা আরো উন্নত জীবনের প্রত্যাশা করি এবং আমাদের সেই সক্ষমতা আছে। এ দেশের ছেলেমেয়েরা যখন বিদেশে যায়, তারা কোথাও কোনো আইন ভঙ্গ করে না। তারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজকর্ম করে। কিন্তু বাংলাদেশে কেন পারছি না? তার একমাত্র কারণ হচ্ছে, আমরা আইনের যথাযথ প্রয়োগ করি না। আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করলে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ সহজ হবে। যে প্রতিশ্রুতি আমরা আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছ থেকে পেয়েছি, তারা আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে, আমরা অনেক ত্যাগ করেছি, এখন আমাদের সঠিক পথে আসার সময়। সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করে আমাদের এ দেশকে গড়ে তুলি।

মো. আবদুর রহমান খান: চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)

[বণিক বার্তা আয়োজিত ‘‌খাদ্যপণ্যের যৌক্তিক দাম: বাজার তত্ত্বাবধানের কৌশল অনুসন্ধান’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে]