আমি যে বাজারের (কারওয়ান বাজার) প্রতিনিধিত্ব করি, সেটি একটি পাইকারি বাজার। এখানে সাধারণত আলু, পটোল, মরিচ, আদা-রসুন ইত্যাদি কেনাবেচা হয়। অর্থাৎ আমরা মূলত কমিশন এজেন্টের ব্যবসা করি। এই কনক্লেভের যে দুটি মূল বিষয় রয়েছে— যৌক্তিক দাম ও বাজার তত্ত্বাবধানের কৌশল অনুসন্ধান তা একটি অভিজ্ঞতার আলোকে তুলে ধরতে চাই।

  • কিছুদিন আগে আলুর দাম অনেক বেড়ে গিয়েছিল। এ নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক, আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। সরকার আমাদের কাছে জবাবদিহি চেয়েছে—বাজার প্রতিনিধিরা কী করছেন? কীভাবে এত দাম বাড়ল?
  • আমরা আলুর দাম বৃদ্ধি নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করেছি। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, চাইলেও স্টোরেজ মালিকরা মূল্য রসিদ দেন না। যে কারণে আমাদের বাজারের চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি করতে হয়। প্রশাসনের লোকজন আমাদের মূল্য রসিদ রাখতে বলেছে, বলেছে রসিদ ছাড়া কিছু কিনবেন না। আমরাও ব্যবসায়ীদের পণ্য কেনার সময় রসিদ নিয়ে আসতে বলেছি। কিন্তু তারা জানিয়েছে, ব্যাপারিরা (স্টোরেজ মালিক) তাদের রসিদ দেন না।
  • তাহলে এক্ষেত্রে করণীয় কী হতে পারে? কেন ব্যাপারীরা রসিদ দিতে চান না, সেটি অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। দায়িত্বপ্রাপ্তদের এটি করতে হবে।
  • যেকোনো পণ্যের মূল্য রসিদ থাকতে হবে—এটি যদি নীতিমালার মধ্যে নিয়ে আসা যায়, তাহলে বাজারে যেকোনো পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে আসবে। আমরা দেখেছি, শীতের শুরুতে শীতকালীন সবজির দাম বেড়ে গিয়েছিল। এখন যদিও কমেছে। সামনে রমজান। আশঙ্কা রয়েছে সে সময়ও কিছু পণ্যের দাম বাড়বে। কারণ চাহিদা বাড়বে। চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের সরবরাহ বা দাম বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে এবং বাজার তত্ত্বাবধানের কৌশল হিসেবে পণ্যের রসিদ ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
  • প্রতিটি পণ্যের রসিদসহ কার কাছ থেকে, কী পরিমাণে, কত টাকায় কেনা হয়েছে, এসব তথ্য থাকতে হবে। তাহলেই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশিতে কোনো পণ্য বিক্রি করা যাবে না। যৌক্তিক দাম বজায় থাকবে। পরিশেষে বলতে চাই, ব্যবসায়ীদেরও উচিত উদ্দেশ্য ভালো রাখা, অধিক মুনাফার চিন্তা না করা। একই সঙ্গে সরবরাহ যেন পর্যাপ্ত থাকে এবং পণ্যের রসিদ থাকে তা নিশ্চিত করা।

ফরিদ আহমেদ রাসেল: ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, কারওয়ান বাজার ২নং কাঁচামাল আড়ত ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি

[বণিক বার্তা আয়োজিত ‘‌খাদ্যপণ্যের যৌক্তিক দাম: বাজার তত্ত্বাবধানের কৌশল অনুসন্ধান’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে প্যানেল আলোচকের বক্তব্যে]