উচ্চশিক্ষার জন্য বৃত্তি নিয়ে বিদেশে পড়তে যাওয়ার বিষয়টিকে একসময় এ দেশে খুবই সম্মানের চোখে দেখা হতো এবং এটিকে সর্বোচ্চ মাত্রায় উৎসাহিতও করা হতো। তবে বৃত্তি ছাড়া শুধু নিজস্ব অর্থ ব্যয়ে বিদেশে পড়তে যাওয়ার রীতি ১৯৯০ সালের আগ পর্যন্ত এ দেশে প্রায় ছিল না বললেই চলে। কিন্তু ১৯৯০ সালের পর থেকে বিদেশে পড়তে যাওয়ার এ প্রবণতা খুবই দ্রুত হারে বাড়তে থাকে। বাড়তে বাড়তে বর্তমানে তা এতটাই ব্যাপক আকার ধারণ করেছে এবং এমন এক প্রবণতার রূপ পরিগ্রহ করেছে যে বুঝে বা না বুঝে, প্রয়োজনে বা অপ্রয়োজনে, আর্থিক সামর্থ্যে কুলাক বা না কুলাক শিক্ষিত-স্বল্পশিক্ষিত নির্বিশেষে তরুণ মাত্রেরই বিদেশে যাওয়া এখন ‘অবশ্য কর্তব্য’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সে ক্ষেত্রে বিষয়টি এখন আর শুধু পড়তে যাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং পড়ার নাম করে কোথাও গিয়ে সেখানে চাকরি-বাকরি করে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করা অর্থাৎ দেশে ফিরে না আসাই এখন ওই বিদেশগামীদের মূল উদ্দেশ্য। আর দেশান্তর চেষ্টার এ ধরন দেখে মনে হচ্ছে, নিকট ভবিষ্যতে এটি এমন এক সর্বগ্রাসী রূপ ধারণ করতে পারে যে এ দেশ হয়তো সহসাই তারুণ্যের শক্তিমুক্ত এক সর্বস্বান্ত সমাজে পরিণত হবে।
উল্লিখিত এ বিষয় নিয়ে প্রায় সর্বত্রই ব্যাপক আলাপ-আলোচনা হচ্ছে এবং অনেকে এ ব্যাপারে গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করছেন। বলছেন, তরুণরা এভাবে দেশ ছাড়তে থাকলে এ ভূমি অচিরেই মেধাশূন্য হয়ে পড়বে এবং দেশ, রাষ্ট্র ও সমাজের প্রায় কোনো সৃজনশীল কাজেই মেধাবীদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। সেই সঙ্গে তারা উদাহরণ দিয়ে এটাও বলছেন যে একসময় মেধাবীরা রাজনীতিতে আসত বলেই রাজনীতির গুণগত মান অনেক উঁচু ছিল, রাজনীতির দৈনন্দিন চর্চার ক্ষেত্রে হীনতার মাত্রা ছিল অনেক কম এবং রাজনীতিকদের আচরণে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহনশীলতার ঘাটতি ছিল না। একই ধরনের চর্চা বহাল ছিল ছাত্ররাজনীতির ক্ষেত্রেও। ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ মধ্যবর্তী রাজনীতিতে ছাত্রদের যে গৌরবময় ভূমিকা, সেখানে অগণিত মেধাবী শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ ও অবদানের বিষয়টি এখনো ইতিহাসের পাতায় ঝলমলে জ্যোতি ছড়াচ্ছে। সে সময়ের রাজনীতিকরা দলমত নির্বিশেষে পরস্পরকে ধারণ করতেন ভলতেয়ারের সে উক্তির ভিত্তিতে যে ‘তুমি যা বলবে তাতে আমার সমর্থন নাও থাকতে পারে, কিন্তু তোমার বলার অধিকারকে আমি প্রাণ দিয়ে রক্ষা করব।’ এটি ছিল বস্তুত তাদের মেধাজাত চিন্তারই ফসল। কিন্তু রাজনীতিতে মেধাবীদের উপস্থিতি হ্রাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ভলতেয়ারীয় ভিন্নমত লালনের সংস্কৃতি এখন অনেকটাই বিলুপ্ত। নতুন সময়ের রাজনীতিকরা এখন মবকেই তাদের কাজের অন্যতম কৌশল হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছেন।
একইভাবে মেধার ঘাটতি এখন শিক্ষকতায়, আমলাতন্ত্রে, সমাজ সমন্বয়ে, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায়, গবেষণায়, লেখালেখিতে, সাংবাদিকতায়, এমনকি দৈনন্দিন আড্ডা ও কথোপকথনেও। অধিকাংশ শিক্ষিত মানুষ এখন নির্ভুল বা ইংরেজি-বাংলার মিশ্রণবিহীন বাক্যে কথা বলতে পারেন না—লিখতে তো না-ই। টক শোসহ টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পাত্রপাত্রীরা যে মানের চিন্তাভাবনা এবং ভাষা ও বাক্যে সেখানে নিজেদের উপস্থাপন করেন, ১৯৯০-এর আগ পর্যন্ত তা ভাবাই যেত না। সমাজের গড়পড়তা মানুষের চিন্তাভাবনা ও মানগত অবস্থাটি এখন আরো ভালো বোঝা যায় বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দিকে চোখ বোলালে, যেখানটা আসলে মানহীনতার এক লাগামহীন প্রতিযোগিতা। একসময় দৈনিক পত্রিকার সাহিত্যের পাতা ও বিশেষ সংখ্যাগুলোর লেখা পড়ার জন্য পাঠকেরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন। এখন সেসব পৃষ্ঠার অধিকাংশই সাজানো হয় পুরনো লেখা পুনর্মুদ্রণের মাধ্যমে। মানের ঘাটতিসংক্রান্ত এরূপ উদাহরণ আরো বহু টানা যাবে। কিন্তু ফলাফল সেই একই—এ ধারা ক্রমেই নিম্ন থেকে আরো নিম্নমুখী হচ্ছে।
বিষয়টি অর্থাৎ সর্বত্র বিস্তৃত মানহীনতার অনিবার্য ফলাফল হিসেবে বন্যার স্রোতের মতো মেধাবীদের দেশত্যাগের এ প্রবণতা নিঃসন্দেহে উদ্বেগের। কিন্তু যারা উদ্বিগ্ন হলে বিষয়টির সমাধানমূলক সূত্র খুঁজে পাওয়া সহজ হতো, অর্থাৎ রাষ্ট্রের পক্ষে এ বিষয়ে যারা সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার রাখেন তারা যদি এক্ষেত্রে এগিয়ে আসতেন, তাহলে পরিস্থিতির হয়তো এতটা অবনতি ঘটত না। কিন্তু তারা তো এ ব্যাপারে একেবারেই নিশ্চুপ, যা শুধু দুর্ভাগ্যজনকই নয়—হতাশারও। এমনি পরিস্থিতিতে তরুণদের দিগ্বিদিক শূন্য হয়ে এরূপ ‘অসীমের পানে’ ছুটে চলার কারণগুলোকে আরেকটু গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করি।
তরুণদের বিদেশমুখী হওয়ার একেবারে প্রথম কারণ হচ্ছে দেশে তাদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকা। তবে পর্যাপ্ত কাজ থাকলেই যে তারা তা পেয়ে যেতেন, এমনটি মনে করারও কোনো কারণ নেই। কারণ কাঙ্ক্ষিত মানের দক্ষতা ও যোগ্যতা না থাকাটাও দেশে এ তরুণদের কাজ না পাওয়ার একটি বড় কারণ, যার জন্য দায়ী দেশের মানহীন ও ধারাবাহিকতাবিহীন অস্থির শিক্ষা ব্যবস্থা। ফলে দেশে শিক্ষার মানের যদি উন্নতি ঘটানো না যায় এবং সেখানে যদি মানসম্মত কারিগরি শিক্ষা কার্যকর অগ্রাধিকার না পায়, তাহলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার পরও তাদের কাজ পাওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিতই থেকে যাবে। আর সে ক্ষেত্রে খুব স্বাভাবিকভাবেই কাজ না পাওয়া ওই তরুণেরা হন্যে হয়ে আরো অধিক বেসামাল গতিতে বিদেশের দিকে ছুটতে থাকবেন। অতএব তরুণদের বিদেশগামিতা ঠেকাতে শুধু কর্মসংস্থান সৃষ্টি করলেই হবে না, একেবারে প্রথমেই মানসম্পন্ন কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে তাদের দক্ষতার উন্নতি ঘটাতে হবে। নইলে এরূপ দক্ষতা ঘাটতির কারণে দেশীয় কর্মবাজারের কাজগুলোর একটি বড় অংশই ক্রমান্বয়ে বিদেশীদের হাতে চলে যাবে, যেমনটি এরই মধ্যে যেতে শুরু করেছে। আর এমনটি ঘটার কারণেই বর্তমানে ফিলিপাইন, শ্রীলংকা, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড প্রভৃতি দেশের প্রায় ১০-১৫ লাখ কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন প্রকৌশলী, ফোরম্যান, তত্ত্বাবধায়ক, ব্যবস্থাপক, চিকিৎসক ও অন্যান্য পেশার লোকজন বাংলাদেশের বিভিন্ন কলকারখানা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে। মতান্তরে এ সংখ্যা আরো অনেক বেশি।
১৯৯১ সালের পর থেকে যখনই যে রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তখনই তারা সস্তা জনপ্রিয়তার লোভে ও নিজেদের দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে হাজার হাজার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বাছবিচারবিহীনভাবে ও ঢালাও প্রক্রিয়ায় রাতারাতি সরকারীকরণের আওতায় নিয়ে আসে। এতে অসংখ্য মানহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সেখানে কর্মরত আরো অধিক মানহীন শিক্ষকেরা চোখের পলকে রাতারাতি বড় বড় শিক্ষক পদে অধিষ্ঠিত হয়ে এমন শিক্ষাই দিতে শুরু করেন যেটি আর কোনো কাজে লাগুক বা না লাগুক সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম, লোগো ও সিল সংবলিত সনদ তৈরিতে ভীষণ কাজে দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে দৃঢ়তার সঙ্গে বলা প্রয়োজন যে শিক্ষার মানের অধঃপতনের জন্য বিভিন্ন সময়ের যেসব সিদ্ধান্ত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে, তার মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এ ঢালাও রাষ্ট্রায়ত্তকরণ অন্যতম। এটির মতোই রাষ্ট্রের আরেকটি বড় ভ্রান্তিপূর্ণ সিদ্ধান্ত হচ্ছে দেশে ১১০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমতি দান। আজকের তরুণদের বিদেশগামিতার পেছনে এ দুটি ভ্রান্তিপূর্ণ সিদ্ধান্তেরও প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে বৈকি! কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে এ উভয় সিদ্ধান্তের কোনোটির ধারাবাহিকতাই এখনো বন্ধ হয়নি। এ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও ঢালাওভাবে হাজার হাজার মাদ্রাসার রাষ্ট্রায়ত্তকরণ চলছে এবং নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমতিও এরই মধ্যে দেয়া হয়ে গেছে।
এখন সে পূর্ব প্রসঙ্গে ফেরা যাক: নিজ দেশে দক্ষতার অভাবে কাজ না পাওয়া যে তরুণেরা কাজের খোঁজে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন, সেখানে যেয়ে তারা তাহলে কীভাবে কাজ পাচ্ছেন? এর ব্যাখ্যা হচ্ছে বিদেশগামী এই তরুণদের একটি বড় অংশই আসলে বিদেশে যেয়ে স্থানীয়দের অপছন্দের নানা ছোটখাটো কাজে যুক্ত হচ্ছেন। তজ্জন্য তারা মজুরিও যে খুব বেশি পাচ্ছেন, তাও নয়। তবু সান্ত্বনা, বিদেশে আছেন এবং নিয়ম-শৃঙ্খলা দ্বারা পরিচালিত মোটামুটি একটি যৌক্তিক সমাজে বসবাস করছেন, যেখানে মবের উৎপাত নেই, অফিস-আদালতে ঘুস-দুর্নীতি নেই, রাস্তায় নিয়ম ভঙ্গের উৎপাত নেই এবং সবচেয়ে বড় কথা, ওই ছোটখাটো কাজগুলোকে সেখানে কেউ ছোট করে দেখেন না। এমনি পরিস্থিতিতে এরূপ ছোটখাটো কাজ নিয়েও উল্লিখিত বাঙালি তরুণেরা বিদেশে মোটামুটিভাবে ভালো আছেন বলেই মনে করছেন এবং সে বার্তা দেশের অন্য তরুণদের কাছে পৌঁছা মাত্র গভীর আগ্রহ নিয়ে বাকিরাও সেদিকেই ছুটছেন।
শিক্ষিত বা স্বল্পশিক্ষিত তরুণেরা যে শুধু কাজ নেই বলেই কিংবা কাজ থাকা সত্ত্বেও দক্ষতা ঘাটতির কারণে কাজ পাচ্ছেন না বলে বিদেশে ছুটছেন—এমন নয়। রাষ্ট্র ও সমাজের নানা হীনতা, অনিয়ম, দুর্নীতি, অনাচার এবং রাজনীতি ও সমাজে বিরাজমান নষ্ট সংস্কৃতির পীড়নে অতিষ্ঠ হয়েও বহু আত্মমর্যাদাসম্পন্ন তরুণ যখন-তখন বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। বছরের পর বছর ধরে দেশে বিরাজমান অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে তারা কিছুতেই সহজভাবে নিতে পারছেন না এবং এতে তারা স্বাচ্ছন্দ্যও বোধ করছেন না। তারা অত্যন্ত হতাশার সঙ্গে লক্ষ করে আসছেন যে এখানকার রাজনীতি আসলে অনেকটাই ক্ষমতা কুক্ষিগত করে বৈষয়িকভাবে লাভবান হওয়ার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। তারা এটাও লক্ষ করেছেন যে কিছু বছর পর পর যে এখানে একেকটা আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সরকারের পরিবর্তন ঘটছে, সেগুলো আসলে এক পক্ষকে সরিয়ে অন্য পক্ষের ক্ষমতা পুনর্দখলের হীন প্রয়াস মাত্র—এসবের সঙ্গে সাধারণ জনগণের স্বার্থের কোনো সম্পর্ক নেই। হতাশার ঘূর্ণিপাকে পড়ে তারা পরিষ্কার বুঝতে পারছেন, দেশে বর্তমানে যা চলছে সেটিকেও ওই হিসাব-নিকাশের বাইরে অন্যকিছু ভাবার সুযোগ নেই। বস্তুত বাংলাদেশের গত ৫৫ বছরের রাজনীতির প্রায় পুরোটাকেই তারা দেখতে পাচ্ছেন হিংসা, প্রতিশোধ, ক্ষমতা দখল, ক্ষমতা থেকে বিতাড়ন, ক্ষমতা পুনর্দখল, পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, প্রতিহিংসা বাস্তবায়ন ইত্যাদির ন্যায় মধ্যযুগীয় দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে।
মোটকথা, এ দেশের তরুণদের সামনে এ রাষ্ট্র হতাশাভিন্ন আর প্রায় কিছুই হাজির করতে পারেনি। মানসম্মত শিক্ষা নেই, কাজের বন্দোবস্ত নেই, রাজনীতি ও প্রশাসনে জবাবদিহিতা নেই, বিচার বিভাগের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার নেই, ন্যায্যতাপূর্ণ সামাজিক আচরণ নেই এবং সবচেয়ে বড় কথা, চোখের সামনে এমন কোনো দৃষ্টান্ত নেই যা দেখে সে এ দেশেই টিকে থাকার সাহস ও অনুপ্রেরণা সঞ্চয় করবে। এমতাবস্থায় প্রচণ্ড ঝুঁকি আছে জেনেও বিদেশের অনিশ্চিত গন্তব্যে পাড়ি জমানোটাকেই সে তুলনামূলকভাবে সহজ বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছে। তবে আবারো বলি, এ বিকল্প সে শুধু এজন্য বেছে নিচ্ছে না যে দেশে পর্যাপ্ত কাজ নেই বা বিদেশে গেলেই সে সোনার হরিণ হাতে পেয়ে যাবে। বরং সে এটি বেছে নিচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতি তার দীর্ঘদিনের সঞ্চিত ঘৃণা ও ক্রমপুঞ্জিত হতাশা থেকে। নইলে কে স্বেচ্ছায় নিজের পারিবারিক বন্ধন, পরিচিত পরিবেশ, আর নিজ মাতৃভূমির প্রতি সহজাত মমতা বিসর্জন দিয়ে অচেনা, অজানা, অনিশ্চিত বিদেশ-বিভুঁইয়ে পাড়ি দিতে চায় বলুন? এমনি পরিস্থিতিতে এ তরুণরা যদি ন্যূনতম আত্মসম্মান ও আয়-উপার্জন নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য সূর্যের আলোয় হাসিমুখ আর গোপনে চোখের জল ফেলে নিজ মাতৃভূমি ত্যাগ করে, তাহলে এ রাষ্ট্রের কী নৈতিক অধিকার আছে তার পথ আগলে তাকে বাধা দেয়?
আবু তাহের খান: অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি; সাবেক পরিচালক, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক), শিল্প মন্ত্রণালয়










