আশরাফ দেওয়ান, গবেষণা পরিচালক, স্কুল অব আর্থ অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্সেস, কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়া। অধ্যাপনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগেও। একই বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে তিনি জাপানের ওকাইয়ামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন ও নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপ করেন। তার গবেষণায় প্রাধান্য পেয়েছে পরিবেশ, নগর পরিকল্পনা, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি নিরসন। এছাড়া উপকূলীয় পরিবেশ, নগরীয় উষ্ণায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনে মানুষের ভূমিকা ও বজ্রপাতও তার গবেষণার বিষয়। সম্প্রতি জলবায়ু চুক্তি, প্রশমন ও অভিযোজনের জন্য বৈশ্বিক ও স্থানীয় অর্থায়ন, জলবায়ু পরিকল্পনাসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তায়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবরিনা স্বর্ণা
প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে জলবায়ু অর্থায়নের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বা আরো যেসব লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য রয়েছে, কোনোটাই সেভাবে পূরণ হতে দেখা যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনের (কপ) আলোকে প্রথমেই জানতে চাই, গ্লোবাল ক্লাইমেট ফান্ডিং (বর্তমানে গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ডিং-জিসিএফ নামে পরিচিত) কীভাবে হয়ে থাকে?
আমি কপের পক্ষেই না। কারণ একদিকে বলা হচ্ছে, বায়ুদূষণ বন্ধ করতে চায়। অন্যদিকে বিশ্বের মানুষকে দূষণ বিলিয়ে বেড়াচ্ছে। এগুলো সাংঘর্ষিক। যে কারণে কপের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না। তবে কোনো অর্জন নেই সেটাও বলা যাবে না। যেমন কিয়োটা প্রটোকল, প্যারিস জলবায়ুসহ আরো অনেক চুক্তি আছে। কিন্তু সার্বিকভাবে যা পাওয়ার কথা ছিল তেমন নয়।
বিশ্বে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা ধরে রাখতে হলে কিছু কাজ করতে হবে। সেক্ষেত্রে বলা হয়েছিল, অভিযোজন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিশ্বের শীর্ষ কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলো ১০০ বিলিয়ন ডলারের একটি ফান্ড (তহবিল) তৈরি করবে। এ ফান্ড থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তা করা হবে। এটি নিয়ে অনেক আলাপচারিতা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশসহ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তেমনভাবে কিছু করা হয়নি বা যতটুকু অর্থায়ন হয়েছে সেটি পর্যাপ্ত নয়।
অর্থায়ন যথাযথভাবে না হওয়ার পেছনে কারণ কী?
ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে অর্থায়ন না করার পেছনে প্রধান কারণ উন্নত দেশগুলোর কাছে রয়েছে তথ্যভাণ্ডার যার ভিত্তিতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সঙ্গে দেনদরবার করে। উন্নত দেশগুলো ভালো করেই জানে কীভাবে দুর্বল দেশগুলোকে ঠকানো যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের যে পরিমাণ অর্থায়ন পাওয়ার কথা তা পাচ্ছে না। শুরুতে বলা হয়েছিল, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে বৈশ্বিক তহবিলের অর্থ মঞ্জুরি হিসেবে দেয়া হবে। কিন্তু বর্তমানে বলা হচ্ছে, ঋণ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিলের অর্থায়ন বাংলাদেশ কেন ঋণ হিসেবে গ্রহণ করবে? সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণ করছে উন্নত দেশগুলো। তাদের কারণে বাংলাদেশসহ অন্য দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সমুদ্র সমতল বাড়ার জন্য জলবায়ু পরিবর্তন দায়ী।
এছাড়া অর্থায়ন কম পাওয়ার আরেকটি কারণ হলো, বাংলাদেশ বা ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জলবায়ুসংক্রান্ত ডাটাবেজ দুর্বল। কিন্তু উন্নত দেশগুলোর ডাটাবেজ অনেক শক্তিশালী। যে কারণে তারা সব ধরনের তথ্য বিশ্লেষণ করে পদক্ষেপ নেয়। বাংলাদেশ বা ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে যদি জিসিএফ থেকে বেশি অর্থায়ন পেতে হয় তাহলে সেসব দেশকে মানসম্মত তথ্য নিশ্চিত করতে হবে। মানসম্মত তথ্য ছাড়া উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে দরকষাকষি করে তহবিল পাওয়া অবশ্যই কঠিন।
উদাহরণ হিসেবে যদি বলি, বাংলাদেশের কুমিল্লা-নোয়াখালীর বন্যায় সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি ৫ হাজার কোটি টাকা। এক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির কী পরিমাণ অভ্যন্তরীণভাবে পূরণ করা হয়েছে তা আমাদের জানা নেই। আবার আন্তর্জাতিকভাবে কতটুকু পূরণ করা হয়েছে সেটিও হিসাব করতে হবে। অর্থাৎ এ ক্ষয়ক্ষতি পূরণে অভ্যন্তরীণভাবে কতটুকু পূরণ করা হয়েছে এবং জিসিএফ থেকে কতটুকু পূরণ করা হয়েছে, সেটি পৃথক করতে হলে পর্যাপ্ত তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে। পর্যাপ্ত তথ্য থাকলেই অভিযোজন ব্যবধান কমিয়ে আনা যাবে। কারণ উন্নত দেশগুলো বাংলাদেশ বা ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তুলনায় অনেক অগ্রগামী। বাংলাদেশের তথ্যভাণ্ডার শক্তিশালী না হলে জলবায়ু পরিবর্তনে তেমন ভূমিকা রাখতে পারবে না।
গত বছর দেশে তীব্র হিট ওয়েব ছিল। এবার হবে না তা আমরা নিশ্চিত নই। এ হিট ওয়েব থেকে বাঁচার জন্য আমরা কী করেছি? তাছাড়া আমাদের সমস্যা হচ্ছে, আমরা বলি বেশি, কিন্তু কাজ করি কম। এখন সময় এসেছে, সব দিক মিলিয়ে দেশের নীতিনির্ধারকদের ভাবা উচিত। জিসিএফ থেকে বাংলাদেশে সেভাবে অর্থায়ন করা হচ্ছে না। কম অর্থায়ন দিয়ে সব কাজ করাও সম্ভব নয়। আবার দেশে সুশাসনের অভাবে নিজেদের সম্পদের সদ্ব্যবহার করা হয় না। এসব নিয়ে ভাবা উচিত।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধানের তিন শূন্য নীতির কথা আমরা বরাবরই শুনে এসেছি। এর প্রথমটিই হচ্ছে শূন্য কার্বন নিঃসরণ। দেশের বর্তমান জলবায়ু পরিস্থিতিতে সরকারপ্রধানের এ নীতি কীভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে?
আমরা কতটুকু কার্বন নিঃসরণ করি তার সামগ্রিক পরিসংখ্যান আছে। কিন্তু খাতভিত্তিক পরিসংখ্যান খুবই অপ্রতুল। আমি এখন পর্যন্ত পাইনি। তর্কের খাতিরে ধরে নিচ্ছি, আমরা যদি কম কার্বন নিঃসরণ করি, তাহলে সেটাকে প্রশমন করা সহজ হবে। এজন্য ব্যক্তি পর্যায়ে কাজ করতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, তিনি সবসময় থ্রি-জিরোর (তিন শূন্য) পক্ষে। তিনি তার দিক থেকে বলেছেন। কার্বন নিঃসরণের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের এটি বাস্তবায়ন করতে হবে।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। বর্তমানে অনেক প্রযুক্তির উদ্ভাবন হয়েছে। সহজেই তা করা যায়। পাশাপাশি কঠোর তদারকিও থাকতে হবে। কিন্তু আমাদের দেশে সমস্যা হলো আমরা তদারকি করি না। আমরা কোনো কিছু প্রাথমিকভাবে খুব ভালোভাবে চালু করি। কিন্তু কিছুদিন যাওয়ার পর সেটির গুণগত মান কেমন তা আর তেমন তদারকি করা হয় না। যেহেতু প্রধান উপদেষ্টা শূন্য কার্বনের কথা বলেন, সেহেতু আমাদের সেদিকে যাওয়ার আগে কোন খাত বেশি কার্বন নিঃসরণ করছে তা নিশ্চিত করা জরুরি। বর্তমানে যে পরিমাণ গাড়ি বেড়েছে, ১০ বছর আগে এত গাড়ি ছিল না। থ্রি-জিরোর প্রথম জিরো অর্থাৎ কার্বন নিঃসরণ কমাতে হলে গাড়ি কমিয়ে মেট্রোরেলের মতো যানবাহন বাড়াতে হবে। আরেকটি বিষয় বলা দরকার, মেট্রোরেল চালু হওয়ার কারণে অনেককেই গাড়িতে চলাচল করতে হয় না। এতে অনেকের যানবাহন ব্যয়ও কমে গেছে। বাংলাদেশের প্রথম জিরোতে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে, কিন্তু বাস্তবায়নের জন্য যা দরকার তা-ই করতে হবে।
এ বছর ৮১ শতাংশ বৃষ্টিপাত হয়নি। এর প্রভাব অনেক নেতিবাচক হবে। এতে গ্রাউন্ড ওয়াটার রিচার্জ হবে না। তখন গ্রাউন্ড ওয়াটার কমে গিয়ে সুপেয় পানি কমে যাবে। নদী-নালা শুকিয়ে যাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শুধু আমাদের ওপর এককভাবে পড়বে না, সবার ওপরই পড়বে। সঠিক ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের অভাবে আমাদের দরকষাকষি করার ক্ষমতা কম থাকলে আমাদের ভুক্তভোগী হতে হবে বেশি। বাংলাদেশের যদি বিশ্বাসযোগ্য তথ্য থাকে এবং স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত ম্যাপিং থাকে তাহলে সহজেই সমস্যা চিহ্নিত করা যাবে। বাংলাদেশ সরকারের উচিত অঞ্চলভিত্তিক সমস্যাকে চিহ্নিত করা। কারণ সব অঞ্চলে সমস্যার ধরন ও প্রকার এক নয়।
স্থানভেদে কোথাও বন্যা, কোথাও ঘূর্ণিঝড়, আবার কোথাও খরার সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যাকে কম টাকায় উন্নত প্রযুক্তি দিয়ে সহজেই শনাক্ত করা যায়। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাকে শনাক্ত করে এবং লক্ষ্যভিত্তিক কাজ করা হলে অনেক কিছু সম্ভব। কিন্তু কেন এগুলো হয় না বা বিশ্বাসযোগ্য তথ্য কেন পাওয়া যায় না তা জানা নেই। দিন দিন আমাদের সক্ষমতার অভাবকে বাড়িয়ে তুলছি। মানবসম্পদ বা মেধায় আমাদের কমতি নেই। আমার কাছে মনে হয়, কাজের ও প্রতিশ্রুতির জায়গাটি দুর্বল।
বরাদ্দকৃত অর্থ তো অনুদান, ঋণ নয়। নিজেদের প্রাপ্য অনুদান নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের কী করণীয়?
আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। আর উন্নত দেশগুলোর কারণেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। সেজন্য তাদের থেকে আমাদের সহায়তা পাওয়ার কথা। তবে এমন নয় যে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। তবে তার দায় আমাদের ওপর সেভাবে বর্তায় না বা আমাদের ক্ষতি বেশি দৃশ্যমান। তাই তাদের আমাদের মতো ক্ষতিগ্রস্ত দেশকে অনুদান দেয়ার কথা। তবে সেই প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হলে তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারার মতো দক্ষ ব্যক্তি থাকবে হবে। আর পাকাপোক্ত আলোচনার জন্য বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-উপাত্ত থাকতে হবে। যেখানে উল্লেখ থাকবে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগে আমাদের কতটা ক্ষতি হয় আর কতটা ক্ষতি অভ্যন্তরীণ কারণে হয়েছে। নয়তো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদেরকে আলোচনায় পরাস্ত করা কঠিন হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রশমন বা অভিযোজনের ক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরে অর্থায়ন কীভাবে হওয়া প্রয়োজন?
বৈশ্বিক অর্থায়ন বিভিন্ন দেশে হয়ে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের অংশটা কমে আসে। স্থানীয় অর্থায়নের কথা যদি বলেন—বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট তহবিল তৈরি করা হয়েছিল। সেটা নিয়ে অনেক সমালোচনা রয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা করতে হলে নিজেদের অর্থায়ন করাটা জরুরি। কিন্তু সেজন্য জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট তহবিলে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
আমি মনে করি না যে বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক সামর্থ্য নেই, তবে সুব্যবস্থাপনা নেই। অথচ আন্তর্জাতিকভাবে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে এখন ১ ডলার বিনিয়োগ করা হলে দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে ১৫ ডলারের মতো খরচ কমানো যায়।
এজন্য চাহিদাভিত্তিক উদ্যোগ নিতে হবে। যেমন আমরা পানির দেশ হওয়া সত্ত্বেও আমাদের পানি কিনে খেতে হয়। এক্ষেত্রে প্রথম কাজ হতে হবে পানি ব্যবস্থাপনা। অথচ অস্ট্রেলিয়ায় কোনো পানি ফেলে দেয় না। ব্যবহৃত পানিকে পুনর্ব্যবহার করা হয়। সেখানে পানির অপ্রতুলতা রয়েছে। তাহলে আমাদের পানির প্রাচুর্যের কারণে কি আমরা পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি উপেক্ষা করেছি? কিন্তু এখন তো সময় এসেছে বিবেচনা করার। কারণ আগামী বছরও যদি বৃষ্টিপাত কম হয় তাহলে ঘরে ঘরে খরার আশঙ্কা রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে আমাদের অন্যতম সমস্যা হলো, আমরা সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে পারছি না। জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারছি না। আমাদের প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা কম। প্রাকৃতিক সম্পদের যে পরিমাণ প্রাচুর্য আছে, সেগুলো আমরা ঠিক মতো ব্যবহার করতে পারি না।
সময় বদলেছে। নিশ্চল জলবায়ু এখন আর নেই অর্থাৎ আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্ম যে জলবায়ু দেখেছে এখন তা নেই। অভিযোজনের জন্য তাই উদ্যোগ প্রয়োজন। সেজন্য আবারো বলছি, বিশ্বাসযোগ্য তথ্য লাগবে। জলবায়ু সাক্ষরতাসম্পন্ন জনগোষ্ঠী প্রয়োজন। কারণ সরকারের একক প্রচেষ্টায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা সম্ভব নয়।
সর্বশেষ বন্যার সময়ও আমরা স্বেচ্ছাসেবী বা সামগ্রিক কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখেছি। এমন পরিস্থিতি মোকাবেলায় তথা জলবায়ু সাক্ষরতা বাড়াতে কোন কোন জায়গাগুলোয় বিস্তর কার্যক্রম প্রয়োজন?
প্রথমত, শেখাতে হবে, প্রশিক্ষণ দিতে হবে। স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার বড় কারণ এটি যে তারা জানে না কীভাবে কাজটি করতে হয়। এজন্য শেখাতে হবে। প্রথমত, একটি জাতীয় পর্যায়ের ডাটাবেজ লাগবে যেখানে স্বেচ্ছাসেবীদের তালিকা থাকবে। তাদের নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এমন একটি গ্রুপ হতে পারে স্কাউট দল এবং বিভিন্ন দুর্যোগের জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্রশিক্ষিত দল। কারণ বন্যায় দ্রুত পানি বাড়লে এক রকম ব্যবস্থা নিতে হয়, আর ধীরে বাড়লে ভিন্ন রকম। আবার এসব পদক্ষেপ টর্নেডো মোকাবেলায় কাজে দেবে না। কিছু বিষয় মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। যেমন ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানল। এতে মানুষ মারা যাবে, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হবে কিন্তু মোকাবেলার জন্য বিশেষ প্রস্তুতি তারা রাখে। সুতরাং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় চাহিদামাফিক ট্রেনিং দিয়ে প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী গড়ে তোলা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ পদ্ধতি যুগোপযোগী করতে হবে।
প্রশিক্ষণ দেয়ার কাজটি স্কুল থেকে শুরু হতে হবে। যেমন জাপানে অনেক বেশি ভূমিকম্প হয়। তাই সেখানে শেখানো হয় ভূমিকম্প থেকে কীভাবে নিজেকে রক্ষা করতে হবে। সাধারণ জনগণ এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল যে তাকে কী করতে হবে। তারা একটা টর্চলাইট ও হেলমেট নিয়ে ঘুমায়। অর্থাৎ তারা দুর্যোগ সাক্ষরতাসম্পন্ন জনগোষ্ঠী। আমরা এমন কিছু যদি করতে পারি তবে তা সুফল বয়ে আনতে পারে।










