এই পলিসি কনক্লেভে যেসব সুপারিশ উঠে এসেছে, আশা করি বাজারদর সহনীয় রাখার ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সেগুলো বাস্তবায়ন করবে। এর বাইরে কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমরা নতুন কৌশলও গ্রহণ করব। যেমন বাজারমূল্য সহনীয় রাখতে আমাদের স্থানীয় যেসব পণ্য উৎপাদন হয় তা আরো কীভাবে বাড়ানো যায় এবং মানসম্মত উৎপাদন নিশ্চিত করা যায় সেদিকে নজর দিতে হবে বলে মনে করি। প্রয়োজনে আমদানিতে ভর্তুকি ও আমদানির ক্ষেত্রে আরো কিছু নিত্যসহায়তা দিয়ে এটি করতে পারি। তারপর আমাদের কৌশলগত মজুদের দিকে নজর দিতে হবে। সিঙ্গাপুরের বাজার ব্যবস্থার দিকে তাকালে দেখবেন কৌশলগত মজুদ প্রধান ভূমিকা রাখছে। আমাদের যে নিত্যপণ্য আছে সেগুলোয় কৌশলগত মজুদের নীতিগত কৌশল অবলম্বন করতে পারি।
- আমরা অনেক সময় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের কথা বলি। এখানেও সংস্কারের সুযোগ রয়েছে। যেমন কৃষিপণ্য বিপণন অধিদপ্তর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান নয়। অথচ বাজারে পণ্যের ১ টাকা দাম বাড়লে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দিকে তীর চলে আসে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভোক্তা অধিকার বা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যক্রম খুব সীমিত। এটি প্রসারিত করার আর্থিক সংগতি সবসময় আমাদের বাজেটে থাকে না। এদিকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিভিন্ন সংস্থা একই সঙ্গে উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত। সেখানে মূল্যবৃদ্ধিও আমাদের স্পর্শ করেছে। সুতরাং এক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের সুযোগ আছে।
- এছাড়া আমরা পণ্যভিত্তিক এমআইএস গড়ে তোলার ব্যবস্থাও নিতে পারি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পণ্যভিত্তিক এমআইএস গড়ে তুলতে পারলে কোথায় কতটুকু পণ্য উৎপাদন হচ্ছে, কতটুকু আমদানি হচ্ছে, ভোক্তার চাহিদা কী সেটি আমরা জানতে পারব, যা কৌশলগত মজুদ তৈরিতে সহায়তা করবে। সেক্ষেত্রে বাজারমূল্য সবসময় একটি টেকসই অবস্থায় রাখার জন্য আমরা ইনস্ট্রুমেন্টাল মেকানিজম ডেভেলপ করার সুযোগ পাব। আমরা আমদানি উদারীকরণের পক্ষে। দেখা যায় যে আমদানির ক্ষেত্রে বড় ব্যবসায়ীরা সক্রিয় বেশি। সেখানে আমরা যদি ছোট ছোট আমদানিকারককে সুযোগ করে দিতে পারি তাহলে হয়তো এটাও বাজারমূল্য সহনীয় রাখতে ভূমিকা রাখবে।
- বাংলাদেশে একবার এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ) করেছিলাম, যেখান থেকে রফতানিকারকদের সহায়তা দিয়ে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে সাহায্য করত। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গভীরভাবে আলোচনা করছে কীভাবে একটি ইমপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড তৈরি করা যায়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে বিভিন্ন কমার্শিয়াল ব্যাংক ছোট ছোট আমদানিকারককে আর্থিক সাহায্য করবে। অবশ্যই সেটা স্বল্প সুদে হতে পারে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এটি নিয়ে পর্যালোচনা করছে এবং যদি অনুমোদন করে তাহলে এ রকম একটি ফান্ড করার চেষ্টা করব।
- প্রশ্ন হচ্ছে, কৃষক কীভাবে বাজারে সংযুক্ত হবে, যেখানে ভোক্তা যায়? এখানে কৃষক সমবায় পদ্ধতিতে কাজ করতে পারেন। আগে কৃষকদের সমবায় পদ্ধতি ছিল। সেখানে ভোক্তার কাছে কৃষকের উৎপাদিত পণ্য পৌঁছে দেয়া সহজ হতো। কিন্তু করপোরেট বা অন্য কোনো কারণে সে সমবায় পদ্ধতি হয়তো এখন নেই। মন্ত্রণালয় সেক্ষেত্রে নজর দিতে পারে।
- আবারো আমরা এর প্রচলন করতে পারি। যেখানে থাকতে পারে কীভাবে ‘কৃষক সমবায়’ ভোক্তার কাছে উপযুক্ত মূল্যে তার পণ্য পৌঁছে দেয়া নিশ্চিত করবে। এ বিষয়ে যদি গভীরভাবে গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক সেটআপ করতে পারি তাহলে বাজারকে সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব।
মো. আবদুর রহিম খান: অতিরিক্ত সচিব (রফতানি), (সচিবের রুটিন দায়িত্ব), বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
[বণিক বার্তা আয়োজিত ‘খাদ্যপণ্যের যৌক্তিক দাম: বাজার তত্ত্বাবধানের কৌশল অনুসন্ধান’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে]










