পৃথিবীর অন্যতম জনবহুল শহর ঢাকা। দ্রুত নগরায়ণের মাপকাঠিতেও ঢাকার অবস্থান প্রথম দিকে। ১৯৫৬ সালে যখন ঢাকা ইম্প্রুভমেন্ট ট্রাস্ট বা ডিআইটি প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন ঢাকার পরিধি ছিল ৩২০ বর্গমাইল। ডিআইটি তখন ৩২০ বর্গমাইল এলাকার জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন বা মাস্টার প্ল্যান তৈরি করে। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৭ সালে ঢাকার পরিধি বিস্তৃত করে ৫৯০ বর্গমাইলে উন্নীত করা হয়। ডিআইটি প্রতিষ্ঠাকালে ঢাকার জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১০ লাখ। কালের বিবর্তনে ঢাকা দেশের প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে ঢাকা শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসারও কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। স্বাভাবিক কারণেই শহরটি ৩২০ বর্গমাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। আশপাশের এলাকা নিয়ে বিস্তৃত হয়েছে ঢাকা। প্রাকৃতিক কারণেই আমাদের দেশ কৃষিপ্রধান ও নদীমাতৃক। ঢাকার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোয়ও ছিল কৃষি ও জলাশয়পূর্ণ এলাকা। ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, ঢাকার পার্শ্ববর্তী এসব কৃষিজমি ও জলাশয় ভরাট করেই নগরটির বিস্তৃতি ঘটেছে। একসময় পশ্চিম দিকে ঢাকার সীমানা ছিল মোহাম্মদপুর সাত মসজিদ রোডের মসজিদ পর্যন্ত। তার পরই ছিল বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ও জলাশয়। একইভাবে পূর্ব দিকে আফতাবনগর, বনশ্রী, বসুন্ধরা, জলসিঁড়ি এগুলো সবই ছিল কৃষিজমি কিংবা জলাশয়। ছোট থেকে আমরা এমনটি দেখেই বড় হয়েছি। কালের বিবর্তনে নগরায়ণের চাপে এসব জলাভূমি ও কৃষিজমি ভরাট করে জমির শ্রেণী পরিবর্তন হয়ে আবাসন নির্মাণ হয়েছে। একইভাবে ঢাকার মূল এলাকায়ও বেড়েছে আবাসনের চাপ। ফলে ঢাকার ভেতর একতলা-দোতলা ভবনগুলো ধীরে ধীরে পাঁচতলা, দশতলা ও বহুতল ভবন নির্মিত হতে থাকে। এক সমীক্ষায় দেখা যায়, ১৯৬৭ সালে ঢাকায় যে পরিমাণ জলাশয় ছিল, তার ৭৫ শতাংশই হারিয়ে যায় আবাসন, শিল্পায়ন ও নগরায়ণের চাপে। একদিকে যেমন জলাশয় কমেছে, অন্যদিকে ওই জায়গায় গড়ে উঠেছে কংক্রিটের দালান। তার মানে আগে যেখানে জলাশয় ছিল এখন সেখানে দাঁড়িয়ে আছে কংক্রিটের অবকাঠামো। ফলে অপর্যাপ্ত জলাশয় আর কংক্রিটে আচ্ছাদিত নগরী ঢাকা দ্রুতই আরবান হিট আইল্যান্ডে পরিণত হতে থাকে। গত দেড় দশকে ঢাকার নগর এলাকার তাপমাত্রা বেড়েছে অন্তত ৫ ডিগ্রির মতো। একইভাবে এখানের ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়েছে দশমিক ৮ ডিগ্রির মতো। প্রতি বছর ঢাকার তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কারণে নগরবাসীকে দুর্বিষহ যন্ত্রণা ভোগ করতে হচ্ছে। একদিকে তীব্র গরমে হাসফাঁস অবস্থা, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব দুটোই ভোগাচ্ছে মানুষকে।

ঢাকা আজকের এ উত্তপ্ত নগরীতে পরিণত হওয়ার পেছনে নির্বিচারে কৃষিজমি ভরাট করা ছাড়াও নানা কারণ রয়েছে। এখানে সরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে যেসব অবকাঠামো হয়েছে, যেমন রাস্তা, অফিস, আদালত, বাসা-বাড়ি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কোনোটাই পরিকল্পনামাফিক উন্মুক্ত জায়গা রাখা হয়নি। রাখা হয়নি জলাধার ও বৃক্ষবেষ্টিত জায়গা। সূর্য থেকে যে তাপ আসে তার বড় একটা অংশ শোষণ করে নেয় মাটি। বাকি অংশ শোষণ করে পানি ও গাছ। এরপর যে তাপ থাকে সেটা মানুষ ও প্রকৃতির অন্যান্য উপাদানে গিয়ে প্রভাব ফেলে। আমরা যখন নগরীর মাটি, পানি ও বৃক্ষ নিঃশেষ করে কংক্রিটের স্থাপনা দিয়ে শহর ভরিয়ে ফেললাম, তখন সূর্যের তাপ শোষণ করার মতো আর কিছু রইল না। অন্যদিকে আমাদের নির্মিত কংক্রিট তাপ শোষণ করতে পারে না। বরং তাপ ধরে রাখতে পারে। দিনে সূর্য থেকে তাপ ধরে রেখে রাতে সেটা প্রকৃতিতে ছেড়ে দেয়—এটাই কংক্রিটের বৈশিষ্ট্য। ঢাকার মূল এলাকার ৮৫ শতাংশই কংক্রিটের স্থাপনায় পূর্ণ হয়ে গেছে। আজকের ঢাকা যে তীব্র গরমের শহরে পরিণত হয়েছে, মাটি-জলাধার ও বৃক্ষ নিধনের পাশাপাশি সঠিক ভেন্টিলেশন ব্যতীত কংক্রিটের স্থাপনাও এর বড় কারণ।

ঢাকা উত্তপ্ত হওয়ার এসব কারণ আমাদের সামনে স্পষ্ট হওয়ার পরও আমরা উল্টোপথেই হাঁটছি। আমাদের প্রয়োজন ছিল গাছ, জলাধার ও মাটির পরিমাণ বাড়ানো। আমরা সেটা না করে বাড়িতে, অফিসে, যানবাহনে প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে এয়ার কন্ডিশনার বা এসি বসিয়েছি। তাপ যত বাড়ছে এসির ওপর আমাদের নির্ভরতাও তত বাড়ছে। একইভাবে আমাদের নগরীতে গ্লাস সুরক্ষিত বড় বড় অট্টালিকার সংখ্যাও বাড়ছে। যেগুলো সবসময় এসি চালিয়ে রাখতে হয়। এসি হয়তো একটা কক্ষ বা গাড়ি অথবা অফিসের অভ্যন্তরে স্বস্তি দিচ্ছে, কিন্তু বাইরের আবহাওয়াকে সেটি আরো উত্তপ্ত করে তুলছে। একদিকে আমরা বাতাস নিরোধক ভবন বানিয়ে সেখানে এসি বসিয়ে নগরকে উত্তপ্ত করে তুলছি, অন্যদিকে ভবন নির্মাণের নীতিমালা অনুযায়ী এক ভবন থেকে আরেক ভবনের পাশে ও পেছনে যে পরিমাণ জায়গা খালি রাখা প্রয়োজন সেটাও লঙ্ঘন করে চলছি। যে কারণে দুই বিল্ডিংয়ের মাঝ দিয়ে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে নগরী উত্তপ্ত হচ্ছে। একসময় ঢাকায় বাড়ির উচ্চতা ছিল দুইতলা, তিনতলা। বাড়ির চারদিক ছিল গাছপালাবেষ্টিত। নগরীর অতিরিক্ত তাপ গাছপালা শোষণ করে নিত। আর বাড়ির উচ্চতা কম থাকায় কংক্রিটজনিত কারণে অতিরিক্ত তাপ জমা হওয়ার সুযোগ ছিল না। শহরের মাঝখানে অসংখ্য খাল ছিল এবং খালে নৌ-যোগাযোগ ছিল। ঢাকার আবহাওয়া ছিল মনোরম। কালের বিবর্তনে সেসব শান্তির দিনগুলো আমরা হারিয়ে ফেলেছি।

ঢাকার তাপমাত্রা বাড়ার ক্ষেত্রে একটা কারণ বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ছে। অবশ্য সারা পৃথিবীতেই বিশেষ করে নগর এলাকায় তাপমাত্রা বাড়ছে। পাশাপাশি মানবঘটিত কারণেও ঢাকার তাপমাত্রা বাড়ছে। বিশ্ব উষ্ণায়নের চেয়ে মানবঘটিত কারণে তাপমাত্রা মাত্রাতিরিক্ত বাড়ছে বলে আমরা মনে করি। এছাড়া তাপমাত্রা বাড়ার বড় কারণের মধ্যে অন্যতম হলো অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়ন। পাশাপাশি উন্নয়নের সব কেন্দ্র ঢাকা হওয়ায় শিক্ষা, চিকিৎসা, চাকরি, ব্যবসা সবকিছুর জন্য মানুষকে ঢাকায় ছুটে আসতে হয়। অধিক জনবসতি উষ্ণায়ন বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করছে। অন্যদিকে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত মানুষ বসবাস বা জনঘনত্বের কারণেও তাপমাত্রা বাড়ছে। উন্নয়ন আর জনস্রোতের এ ধারা যদি অন্যত্র সরিয়ে নেয়া না যায় তাহলে অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই ঢাকায় বসবাস আরো অসহনীয় হয়ে উঠবে। একসময় আমরা বলতাম, মধ্যপ্রাচ্যে তাপমাত্রা অসম্ভব রকম বেশি। তাপমাত্রার কারণে সেখানে স্বাভাবিক কাজকর্ম করা অসহনীয় ঠেকে। এখন দেখা যাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে, উল্টোদিকে আমাদের তাপমাত্রা দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠছে। ঢাকায় তাপমাত্রা আরো বাড়লে বেশি বিপদে পড়বে খেটে খাওয়া মানুষ। ধনী বা একটু সচ্ছল মানুষ এসি কিনে আরামের ব্যবস্থা করতে পারলেও যাদের এসি কেনার সামর্থ্য নেই, তারা নগর এলাকা ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে বসতি গড়তে বাধ্য হবে। যখন নগরীর বেশির ভাগ মানুষ এসি ব্যবহার করতে থাকবে তখন তাপমাত্রা আরো বেড়ে যাবে। রাস্তায় বের হওয়া কিংবা কোনো কাজ করা তখন কঠিন হয়ে পড়বে। মানুষ হয়তো জরুরি কাজে রাস্তায় বের হয়ে দ্রুত কাজ সেরে আবার এসিতে গিয়ে স্বস্তি খুঁজবে। কিন্তু খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে তো এসি বহন করা সম্ভব নয়। তখন তারা এক প্রকার বাধ্য হয়েই ঢাকা ত্যাগ করবে। যেমন উপকূলীয় এলাকার মানুষ পানির অভাবে উপকূল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে, একসময় ঢাকার মানুষও তাপের কারণে নগরী ছাড়তে বাধ্য হবে।

ঢাকার তাপমাত্রাজনিত দুর্যোগ মোকাবেলায় এমন একটি কর্মপন্থা বেছে নিতে হবে যেখানে সরকার ও সাধারণ জনগণ, ধনী-গরিব, সচ্ছল-দরিদ্র সবাই স্বস্তিতে বসবাস করতে পারে। কেননা, ঢাকা এমন এক শহর এখানে মানুষ আসবেই। চিকিৎসার জন্য আসবে, শিক্ষার জন্য আসবে, কর্মের জন্য আসবে। তাহলে এখন করণীয় কী? প্রথমেই সেবা ও উন্নয়ন প্রকল্প ঢাকার বাইরে ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে ঢাকার জনস্রোতে থামাতে হবে। ঢাকায় এখন যে পরিমাণ মানুষ বসবাস করছে, এটা এমনিতেই অতিরিক্ত। আর বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। দ্বিতীয়ত, তাপ দুর্যোগ মোকাবেলায় আমরা ভবন ডিজাইনের ক্ষেত্রে তাপ নিরোধক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারি। তাপ নিরোধক পদ্ধতি ব্যবহার করে ভবন নির্মাণ করলে ভবন তাপ ধরে রাখতে পারবে না। উল্টো রুমের তাপমাত্রা সহনীয় মাত্রায় রাখবে। তখন আর রুমে এসির প্রয়োজন হবে না। তৃতীয়ত, যেটা করতে হবে এক ভবন থেকে আরেক ভবনের দূরত্ব বাড়াতে হবে। ভবনের চারপাশে ও ছাদে প্রচুর পরিমাণ গাছপালা বাড়াতে হবে। হয়তো এ কাজগুলো অনেকের কাছেই অবাস্তব মনে হতে পারে। কিন্তু একসময় এ চর্চা ঢাকায় ছিল। পৃথিবীর সব বড় শহরে আছে। তাপ দুর্যোগ থেকে বাঁচতে হলে ঢাকায় গাছের পরিমাণ বাড়াতেই হবে। এর বিকল্প আর কিছু নেই। প্রকৃতি নিজেই গাছের বিকল্প তৈরি করেনি।

চতুর্থত, ঢাকায় যেসব ছোট ছোট প্লট আছে যেমন এক কাঠা, দুই কাঠার ওপর ভবন নির্মাণ—এ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমাদের যেতে হবে এক একর, দুই একর, পাঁচ একর জায়গা নিয়ে বড় বড় ব্লক বিল্ডিং নির্মাণের দিকে। ব্লকের সুবিধা হলো এখানে সুউচ্চ ভবনকে উৎসাহিত করা যায়, তবে বাধ্যতামূলক নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গা সবুজ ও জলাধারের জন্য ছাড়তে হয়। এক একর জায়গার মধ্যে যদি ২০ কাঠা জায়গা সবুজের জন্য ছেড়ে দেয়া হয়, তাহলে ২০ কাঠা জায়গা কিন্তু অধিগ্রহণ ছাড়াই ঢাকার মধ্যে সবুজ এলাকা বা গণপরিসর হিসেবে মানুষ ব্যবহার করতে পারবে। সবুজ গণপরিসর তাপমাত্রা শোষণ ও হ্রাসে ভূমিকা রাখে এটা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। তাপ দুর্যোগের পাশাপাশি একই সময়ে ঢাকার জন্য আরো বড় দুর্যোগ হলো এখানে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনক হারে নিচে নেমে যাচ্ছে। একদিকে পানির স্তর নিচে নামছে অন্যদিকে মাত্রাতিরিক্ত কংক্রিটের কারণে ভূগর্ভস্থ পানি রিচার্জের সক্ষমতা এ নগরীর নেই। এজন্য হাতিরঝিলের মতো জলাধারকেন্দ্রিক বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণ করতে হবে। ফলে আন্ডারগ্রান্ড ওয়াটার যেমন রিচার্জ হবে পাশাপাশি নগরীর তাপ শোষণেও ভূমিকা রাখবে।

নগরীর তাপমাত্রা হ্রাসের ক্ষেত্রে সড়ক বিভাজন ও ফুটপাতের পাশে বৃক্ষরোপণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমাদের তাপ বাড়ার ক্ষেত্রে কংক্রিটের সড়ক অনেক বড় কারণ। দিনের বেলায় কংক্রিটে তাপ জমা হয়। সন্ধ্যার পর সে তাপ প্রকৃতিতে ছেড়ে দেয়া হয়। সড়কে গাছের পরিমাণ বাড়াতে পারলে গাছ অতিরিক্ত তাপ শোষণ করে নেবে। পাশাপাশি ইট পোড়ানো বন্ধ করে ব্লক ইটের নির্মাণে যেতে হবে। ছাদবাগান বাড়ানোর জন্য সরকার বিভিন্ন প্রণোদনা ঘোষণা করতে পারে। এভাবে সমন্বিত উদ্যোগ নিলে ঢাকা আবার বসবাস উপযোগিতা ফিরে পাবে। এজন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) যেমন দায়িত্ব রয়েছে, একইভাবে সিটি করপোরেশন, বিদ্যুৎ বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, স্থপতি, প্রকৌশলী ও নগর পরিকল্পনাবিদদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সর্বোপরি আমরা যারা সাধারণ জনগণ এ শহরে বসবাস করছি আমাদের দায়িত্বও কম নয়। যার যার অবস্থান থেকে এ নগরীকে বাঁচানোর জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এগিয়ে আসতে হবে। যদি আমরা অবহেলা করি, অলসতা করি, শুধু নিজে ভালো থাকতে চাই, তাহলে এ নগরী ধ্বংস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জীবনমানও ভেঙে পড়বে। আমরা অতিরিক্ত গরমের কারণে মেজাজের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলব। আমাদের মানসিক স্থিতি নষ্ট হয়ে যাবে। পানিবাহিত ও তাপজনিত রোগ যেমন ডায়রিয়া, ডিসেন্ট্রি ও হিট স্ট্রোক বেড়ে যাবে। শুধু যে মানুষই আক্রান্ত হবে তাই নয়, প্রকৃতিতে যত প্রাণিকুল আছে তাদের জীবনধারাও ব্যাহত হবে আমাদের বিলাসিতা ও অবহেলার কারণে। সবাইকে বুঝতে হবে ঢাকা কোনো সাধারণ নগরী নয়, এটা মেগা সিটি। এর জনঘনত্ব অনেক বেশি। এখানে ছোট কোনো সমস্যাও লাখ লাখ মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে। আবার ছোট কোনো ভালো উদ্যোগও লাখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে।

সবশেষে বলতে চাই, তাপ দুর্যোগ মোকাবেলায় রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের এখনই উপযুক্ত সময়। নগরীকে কীভাবে বসবাস উপযোগী করা যায়, রাষ্ট্রকেই এ নিয়ে সবার আগে ভাবতে হবে। রাষ্ট্র উদ্যোগ নিলেই হিট আইল্যান্ড ঢাকা মনোরম নগরীতে পরিণত হতে পারবে। কথায় কথায় বহির্বিশ্বের তাপ নির্গমনকে দোষারোপ করে বেশি দিন বসে থাকার সুযোগ নেই। এভাবে একটা নগরী ও নগরীর মানুষ বেশি দূর এগোতেও পারবে না। বর্তমান সরকার ঢাকার পরিবেশগত উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এ কাজে সবার সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন।

মো. আশরাফুল ইসলাম: প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)