একটি দেশকে সত্যিকার অর্থে বদলাতে হলে দরকার সৎ, দূরদর্শী ও সক্ষম নেতৃত্ব। দরকার এমন এক রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিভঙ্গি, যা ক্ষমতার পুরনো রাজনীতি থেকে দেশকে বের করে এনে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, দক্ষতা, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক আত্মমর্যাদার পথে এগিয়ে নিতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে চীনের অর্থনৈতিক বিস্ময় বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে। মাত্র কয়েক দশকের ব্যবধানে একটি দেশ যদি দারিদ্র্য, পশ্চাৎপদতা ও সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে, তাহলে সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের শেখার অনেক কিছু আছে। তবে শুরুতেই পরিষ্কার করে বলা দরকার—বাংলাদেশের চীনকে অন্ধভাবে অনুকরণ করার দরকার নেই। বাংলাদেশের ইতিহাস, সমাজ, রাজনীতি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা আলাদা। কিন্তু চীনের উত্থানের পেছনের মূলনীতিগুলো থেকে বাংলাদেশ অবশ্যই শিখতে পারে। কারণ অর্থনৈতিক অলৌকিকতা হঠাৎ ঘটে না; তা তৈরি করতে হয় পরিকল্পনা, শৃঙ্খলা, উৎপাদনশীলতা, দক্ষতা, নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় প্রত্যয়ের মাধ্যমে।

চীনের অর্থনৈতিক উত্থান নিয়ে কথা উঠলে অনেকেই সহজভাবে বলেন—চীনের শ্রম সস্তা ছিল, তাই তারা এগিয়েছে। কিন্তু বিষয়টি এত সহজ নয়। পৃথিবীর অনেক দেশেই সস্তা শ্রম ছিল, এখনো আছে। তারা সবাই কি চীন হতে পেরেছে? পারেনি। চীন এগিয়েছে কারণ দেশটি উৎপাদনকে জাতীয় শক্তির কেন্দ্রে নিয়ে গেছে। একটি দেশ শক্তিশালী হয় যখন সে নিজের হাতে পণ্য তৈরি করতে পারে, সেই পণ্য বিশ্ববাজারে বিক্রি করতে পারে এবং সেই উৎপাদনের মাধ্যমে দক্ষতা, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত নিঃসন্দেহে বড় অর্জন। এ খাত লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান করেছে, বিশেষ করে নারীদের অর্থনীতিতে যুক্ত করেছে এবং বাংলাদেশকে বিশ্ববাজারে পরিচিত করেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—আমরা কি চিরকাল শুধু গার্মেন্টসের ওপর নির্ভর করে থাকব? গার্মেন্টস আমাদের শুরু দিয়েছে; এখন আমাদের এগোতে হবে পরবর্তী ধাপে। টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, ম্যান-মেড ফাইবার, ডিজাইন ও ব্র্যান্ডিং, হালকা প্রকৌশল, ইলেকট্রনিকস অ্যাসেম্বলি, ওষুধ শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প, চামড়াজাত পণ্য, জুতা, প্যাকেজিং ও মেশিন মেরামত—এসব খাতে বাংলাদেশকে ধীরে ধীরে শক্তিশালী হতে হবে।

চীনের কাছ থেকে একটি বড় শিক্ষা হলো—কারখানা একা সফল হয় না। একটি আধুনিক কারখানার পাশাপাশি যদি কাঁচামাল, দক্ষ শ্রমিক, মেশিন মেরামতের লোক, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ, ভালো রাস্তা, দ্রুততর কাস্টমস ব্যবস্থা, বন্দর সংযোগ না থাকে তাহলে সেই কারখানা কখনো বিশ্বমানের উৎপাদন করতে পারবে না। চীন এক্ষেত্রে শিল্প-ক্লাস্টার তৈরি করেছে। একেক অঞ্চল একেক শিল্পে শক্তিশালী হয়েছে—কোথাও ইলেকট্রনিকস, কোথাও টেক্সটাইল, কোথাও যন্ত্রপাতি, কোথাও সোলার প্যানেল, কোথাও অটো-পার্টস।

বাংলাদেশকেও একইভাবে ভাবতে হবে। ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ হতে পারে উন্নত গার্মেন্টস, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল ও ডিজাইনের কেন্দ্র। চট্টগ্রাম ও মিরসরাই হতে পারে রফতানিমুখী উৎপাদন ও লজিস্টিকস হাব। খুলনা ও মোংলা হতে পারে পাট, কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প, জাহাজ-সংশ্লিষ্ট শিল্প ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের কেন্দ্র। রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলকে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। সিলেট হতে পারে চা, পর্যটন ও প্রবাসী বিনিয়োগের বিশেষ কেন্দ্র। উন্নয়নের ভাষা বদলাতে হবে—শুধু ‘কারখানা’ নয়, বলতে হবে ‘শিল্প-পরিবেশ’; শুধু ‘জমি’ নয়, বলতে হবে ‘উৎপাদন ব্যবস্থা’।

বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে অনেক পরিকল্পনা হয়েছে। কিন্তু স্বপ্ন আর বাস্তব এক নয়। একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল সফল হতে হলে সেখানে শুধু জমি দিলে বিনিয়োগ আসে না; বিনিয়োগ আসে যখন পুরো ব্যবস্থা কাজ করে। বাংলাদেশের উচিত পরিমাণের চেয়ে মানের দিকে মনোযোগ দেয়া। একই সঙ্গে বহু অর্থনৈতিক অঞ্চল সফল করার চেষ্টা না করে আগে ১০-১৫টি অঞ্চলকে সত্যিকার অর্থে বিশ্বমানের করা দরকার। প্রতিটি অঞ্চলের স্পষ্ট শিল্প পরিচয় থাকা উচিত—কোথাও টেক্সটাইল, কোথাও ইলেকট্রনিকস, কোথাও ওষুধ শিল্প, কোথাও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, কোথাও লজিস্টিকস, কোথাও হালকা প্রকৌশল। অর্থনৈতিক অঞ্চল জমির ব্যবসা নয়; এটি হতে হবে উৎপাদনের ইঞ্জিন।

আবার আমরা অনেক সময় উৎপাদন নিয়ে কথা বলি, কিন্তু পণ্য সরবরাহ চেইন নিয়ে যথেষ্ট কথা বলি না। অথচ বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা অনেকটাই নির্ভর করে সময়ের ওপর। একটি পণ্য তৈরি করার পর সেটা যদি দ্রুত ক্রেতার কাছে পৌঁছাতে না পারে, তাহলে উৎপাদনের সব দক্ষতাই দুর্বল হয়ে পড়ে। চীনের শক্তির একটি বড় অংশ ছিল দ্রুত লজিস্টিকস। কারখানা থেকে বন্দর, বন্দর থেকে জাহাজ, জাহাজ থেকে বিশ্ববাজার—এ পুরো ব্যবস্থাপনা তারা দ্রুত ও সুশৃঙ্খল করেছে। বাংলাদেশকে এখানেই বড় সংস্কার করতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর, পায়রা বন্দর, রেল ফ্রেইট, নদীপথ, স্থলবন্দর, ডিজিটাল কাস্টমস—এসবকে আলাদা প্রকল্প হিসেবে দেখলে হবে না। এগুলোকে দেখতে হবে একটি সংযুক্ত জাতীয় লজিস্টিকস ব্যবস্থার অংশ হিসেবে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার মানুষ, বিশেষ করে তরুণ জনগোষ্ঠী। কিন্তু শুধু তরুণ জনগোষ্ঠী থাকলেই হয় না; তাদের দক্ষ করতে হয়। চীন সস্তা শ্রম দিয়ে শুরু করেছিল, কিন্তু সেখানে থেমে থাকেনি। তারা শ্রমিককে দক্ষ করেছে, টেকনিশিয়ান বানিয়েছে, প্রকৌশলী তৈরি করেছে, ম্যানেজার তৈরি করেছে, অটোমেশন শিখেছে। বাংলাদেশকেও সেই পথে যেতে হবে।

আমাদের দরকার বাস্তবভিত্তিক কারিগরি শিক্ষা। মেশিন চালানো, মেশিন মেরামত, ইলেকট্রনিকস অ্যাসেম্বলি, ওয়েল্ডিং, অটোমেশন, কোয়ালিটি কন্ট্রোল, লজিস্টিকস, ফ্যাক্টরি ম্যানেজমেন্ট ও শিল্প-ইংরেজিতে দক্ষ মানুষ তৈরি করতে হবে। কারিগরি শিক্ষাকে কারখানার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। শুধু সার্টিফিকেট নয়, কাজ শেখা দরকার। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ সস্তা হাত দিয়ে নয়, দক্ষ হাত দিয়ে গড়তে হবে।

এগুলোর অনেক কিছু বাস্তবায়নে বিদেশী বিনিয়োগ দরকার। কিন্তু বিদেশী বিনিয়োগের লক্ষ্য শুধু বিদেশী কোম্পানিকে সস্তা শ্রম দেয়া হতে পারে না। আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত শেখা—প্রযুক্তি শেখা, উৎপাদন শেখা, মান নিয়ন্ত্রণ শেখা, সরবরাহ ব্যবস্থা শেখা, বিশ্ববাজারে ঢোকার কৌশল শেখা।

প্রতিটি বড় বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশ্ন হওয়া উচিত: এটি কি বাংলাদেশী কোম্পানিকে শক্তিশালী করবে? এটি কি স্থানীয় সরবরাহকারী তৈরি করবে? বাংলাদেশী ম্যানেজার ও টেকনিশিয়ান তৈরি করবে? প্রযুক্তি শেখাবে? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তাহলে সেটি সত্যিকার উন্নয়ন। আর যদি বিদেশী কোম্পানি শুধু এসে সস্তা শ্রম ব্যবহার করে চলে যায়, আর বাংলাদেশ কিছু না শেখে—তাহলে আমরা মূল্য শৃঙ্খলের নিচেই আটকে থাকব।

গার্মেন্টস বাংলাদেশের বড় অর্জন, কিন্তু এক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ নয়। বিশ্ববাজার বদলায়, প্রযুক্তি বদলায়, ক্রেতার চাহিদা বদলায়, বাণিজ্য সুবিধা বদলায়। বাংলাদেশকে এখন থেকেই প্রস্তুত হতে হবে। নতুন রফতানি খাত তৈরি করতে হবে—ওষুধ শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়া ও জুতা, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, হালকা প্রকৌশল, ইলেকট্রনিকস অ্যাসেম্বলি, মেডিকেল পণ্য, প্যাকেজিং। লক্ষ্য শুধু বেশি পণ্য রফতানি করা নয়; বেশি মূল্য তৈরি করা। একটি সাধারণ টি-শার্ট থেকে লাভ কম। কিন্তু সেই টি-শার্টের ডিজাইন, ব্র্যান্ড ও বিপণন যদি বাংলাদেশী হয়, তাহলে লাভ বহুগুণ বেশি। এটাই মূল্য শৃঙ্খলের ওপরে ওঠার অর্থ।

চীন শুধু আজকের শিল্প নিয়ে ভাবেনি; ভবিষ্যতের শিল্প ধরতে পেরেছে। বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি, ব্যাটারি, সোলার প্যানেল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রিন টেকনোলজি—এসব খাতে তারা আগেভাগেই বিনিয়োগ করেছে। বাংলাদেশকেও এখন থেকেই এ খাতগুলো নিয়ে ভাবতে হবে। শুরুতেই বড় গাড়ি শিল্পে লাফ দেয়ার দরকার নেই। ইভি অ্যাসেম্বলি, ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল, ই-রিকশা, থ্রি-হুইলার, শহুরে গণপরিবহন, চার্জিং স্টেশন, ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট ও ইভি মেরামত সেবা দিয়ে শুরু করা যেতে পারে।

সোলার এনার্জির ক্ষেত্রেও বড় সম্ভাবনা আছে। কারখানা, গুদাম, অর্থনৈতিক অঞ্চল, স্কুল, হাসপাতাল, সরকারি ভবন ও আবাসিক ভবনে রুফটপ সোলার ব্যবহার করা যায়। সোলার প্যানেল অ্যাসেম্বলি, ইনভার্টার, ব্যাটারি স্টোরেজ, ইভি চার্জার, কন্ট্রোলার ও কেবল—এসব নিয়ে নতুন শিল্প ইকোসিস্টেম তৈরি করা সম্ভব। ডিজিটাল অর্থনীতিও ভুললে চলবে না। বাংলাদেশের তরুণরা ফ্রিল্যান্সিং, সফটওয়্যার, আইটি সেবা ও ডিজিটাল কাজে নিজেদের সক্ষমতা দেখিয়েছে। এ খাতকে পরিকল্পিতভাবে শক্তিশালী করলে বাংলাদেশ শুধু শ্রম রফতানিকারক দেশ নয়, জ্ঞান ও সেবা রফতানিকারক দেশ হিসেবেও দাঁড়াতে পারে।

বাংলাদেশের উন্নয়ন আলোচনায় একটি বিষয় খুব কম গুরুত্ব পায়—সেফটি কালচার। রাস্তা, নদীপথ, রেল, নির্মাণকাজ, কারখানা, ফেরিঘাট, ভবন—প্রায় সব জায়গায় নিরাপত্তার ঘাটতি দেখা যায়। এর মাশুল দেয় সাধারণ মানুষ। সড়ক দুর্ঘটনা, নৌ-দুর্ঘটনা, কারখানায় আগুন, ভবন ধস—প্রতিটি দুর্ঘটনা শুধু একটি সংখ্যা নয়; একটি পরিবার, একটি ভবিষ্যৎ, একটি জীবন ধ্বংস হয়ে যাওয়া।

উন্নয়নের মূল্য মানুষের জীবন হতে পারে না। সেফটি কোনো বাড়তি খরচ নয়; এটি উন্নয়নের মৌলিক শর্ত। বাংলাদেশে একটি জাতীয় ‘সেফটি ফার্স্ট’ সংস্কৃতি দরকার—রাস্তা, নদীপথ, রেল, কারখানা, নির্মাণ, ভবন, স্কুল, হাসপাতাল, বাজার—সব জায়গায় নিরাপত্তাকে প্রথম শর্ত করতে হবে। এটি শুধু নৈতিক দায়িত্ব নয়; অর্থনৈতিক বুদ্ধিমত্তাও। একটি বড় দুর্ঘটনা পুরো শিল্প খাতকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দিতে পারে।

সেফটি বললে আমরা সাধারণত রাস্তা, যানবাহন, ফেরিঘাট বা কারখানার কথা ভাবি। কিন্তু অর্থনীতি ও ব্যাংক খাতেও সেফটি দরকার। বরং এ সেফটির অভাব পুরো দেশকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিতে পারে। ব্যাংকের টাকা কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পদ নয়, এটি জনগণের আমানত। একজন শ্রমিক, প্রবাসী, শিক্ষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা মধ্যবিত্ত মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখে নিরাপত্তার জন্য। কিন্তু যখন বড় ঋণখেলাপিরা পার পেয়ে যায়, যখন রাজনৈতিক প্রভাব ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে দুর্বল করে, তখন ক্ষতি হয় সাধারণ মানুষের।

অর্থনৈতিক নিরাপত্তা মানে হলো আমানতকারীর সুরক্ষা, সৎ ঋণ ব্যবস্থা, শক্তিশালী কেন্দ্রীয় ব্যাংক, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংকিং, ঋণখেলাপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, অর্থ পাচার প্রতিরোধ এবং আর্থিক অপরাধের দ্রুত বিচার। জনগণের আমানত লুটপাটের জায়গা নয়। ব্যাংকের টাকা রাজনৈতিক সুবিধাভোগীদের পুরস্কার নয়। ঋণ হলো উৎপাদনের দায়িত্ব, ব্যক্তিগত লুটের সুযোগ নয়।

সুশাসন ছাড়া কোনো মডেলই কাজ করবে না। চীনের অর্থনৈতিক সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দীর্ঘমেয়াদি নীতির ধারাবাহিকতা। উদ্দেশ্য পরিষ্কার ছিল, বাস্তবায়নে শৃঙ্খলা ছিল। বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ হলো নীতির অনিশ্চয়তা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দুর্নীতি ও দুর্বল বাস্তবায়ন। সুশাসন মানে শুধু দুর্নীতি কমানো নয়। সুশাসন মানে ব্যবসা শুরু করা সহজ, চুক্তি দ্রুত কার্যকর, সম্পত্তির অধিকার সুরক্ষিত, নিয়ন্ত্রক সংস্থা রাজনৈতিক চাপমুক্ত, কর ব্যবস্থা সরল ও পূর্বানুমানযোগ্য।

শেষ কথা, চীনের কাছ থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—শিল্প অলৌকিক কোনো একক প্রকল্প দিয়ে হয় না। এটি হয় পুরো ব্যবস্থাকে একসঙ্গে গড়ে তুললে। আমাদের প্রশ্ন শুধু ‘আর কত কারখানা বানাব’ নয়। আমাদের প্রশ্ন হওয়া উচিত: কীভাবে এমন একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা গড়ব, যেখানে কারখানা উৎপাদনশীল হবে, শ্রমিক দক্ষ হবে, পণ্য দ্রুত বন্দরে যাবে, ব্যাংক নিরাপদ থাকবে, রফতানি বাড়বে, প্রযুক্তি শেখা হবে, সুশাসন নিশ্চিত হবে এবং মানুষের জীবন সুরক্ষিত থাকবে?

মহিউদ্দিন আহমেদ: কানাডাপ্রবাসী অর্থনীতি ও রাজনীতি বিশ্লেষক