২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ রফতানিমুখী নানা শিল্পপ্রতিষ্ঠান নানা কারণে বন্ধ হয়ে যায়। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সঙ্গে শিল্পের মালিকের সম্পর্ক, রাজনৈতিক পরিচয়, অর্থনৈতিক দুর্নীতি, অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রভৃতি কারণে গত সাড়ে নয় মাসে বাংলাদেশের দেড় শতাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি নিয়ন্ত্রণেও বিভিন্ন শিল্পের ওপর সাময়িক ও স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারির পাশাপাশি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। ফলে উপর্যুক্ত শিল্পসংশ্লিষ্ট বিপুলসংখ্যক মানুষ চাকরিচ্যুত হয়েছে। একই সঙ্গে অব্যবহারে শিল্পের যন্ত্রপাতির অবচয় ব্যয় (Depreciation Cost) ক্রমে বাড়ছে , যা আমাদের অর্থনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত সৃষ্টির কারণ হতে পারে।
নতুন শিল্প গড়ে ওঠা একদিকে যেমন স্বাভাবিক ঘটনা তেমনি ব্যবসায়িক কারণে কিছু শিল্পের বিনাশ অযৌক্তিক নয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এ ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই ঘটে থাকে। পরিসংখ্যান বলছে, গত প্রায় দেড় বছরে বাংলাদেশে শুধু পোশাক খাতে ১১৩ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে একই সময়ে ১২৮টি নতুন শিল্প যাত্রা শুরু করেছে। তবে নতুন শিল্পের আয়তন শুরুতে অপেক্ষাকৃত ছোট থাকায় কর্ম হারানো মানুষের তুলনায় নতুন কর্ম সৃষ্টি হয়েছে কম। ফলে নতুন করে প্রায় ২০ হাজারের ওপরে মানুষ বেকার হয়েছে। যার প্রভাব তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপরও নিশ্চিতভাবেই চেপেছে। সদ্য বেকার হওয়া এ মানুষের প্রায় সবাই যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বেকারত্বের শিকার হয়েছে। ভুলে গেলে চলবে না যে বেকারত্বের প্রভাব কেবল অর্থনৈতিক নয় বরং তা সামাজিক পরিসরেও বিস্তৃত হয়।
২০২৪ সালে ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে বন্ধ হয়ে যাওয়া রফতানিমুখী শিল্পের মাঝে পোশাক শিল্পের সংখ্যা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের মোট রফতানি আয়ের ৭৫-৮০ শতাংশ তৈরি পোশাক শিল্পের দখলে। এ খাতে যেকোনো সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত। বেতন বকেয়া থাকা, উপযুক্ত পারিশ্রমিক প্রদানে অনীহা, শ্রমিক অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রীয় তদারকির অভাব, শ্রমিক অসন্তোষ বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। এক্ষেত্রে শ্রমিকের অদক্ষতা, শক্তিশালী শ্রমিক সংঘ না থাকা, মালিক পক্ষের ইচ্ছাকৃত গাফিলতির পাশাপাশি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতির প্রত্যক্ষ দায় রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থেই এ ইস্যুগুলোর সংস্কার হওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশে সস্তা শ্রমে স্বল্প মূল্যে দ্রব্য কিনতে পাওয়া যায় সত্য, কিন্তু পোশাক শিল্পের এ অস্থিরতা প্রতিযোগিতার বাজারে বাংলাদেশকে ক্রমে পিছিয়ে দিচ্ছে। চীন, ভিয়েতনামের পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য প্রতিযোগিতার বাজারে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারত। একই সঙ্গে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পোশাক উৎপাদনে জাপান ও স্কটল্যান্ডও ক্রমে বড় নাম হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে যেকোনো অস্থিরতা ভীষণ উদ্বেগজনক। ইউরেশিয়ান দেশ তুর্কিয়েও তৈরি পোশাক শিল্পে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চেষ্টা করছে। তাদের কর্মপরিবেশ ও কাপড়ের মান যেমন ভালো, তেমনি রাজনৈতিকভাবেও বাংলাদেশের চেয়ে অনেক স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে দেশটিতে। ফলে বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তুর্কিয়ের অগ্রগণ্য অবস্থান রয়েছে (FDI Intelligence, April 17, 2024)।
সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ২০২৪ সালে তৈরি পোশাক শিল্পের অস্থিরতা ছিল ভীষণভাবে লক্ষণীয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, ক্ষমতার পালাবদলের পাশাপাশি এক্ষেত্রে অন্যান্য বিদেশী প্রভাবকের ভূমিকা লক্ষ করা যায়। ভূরাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে ওঠার ফলে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক প্রভাবকের বাইরেও নানা বিদেশী শক্তির নজরে এসেছে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যখন বিদেশী বিনিয়োগের সন্ধান করছেন তখন সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া ও অস্থিতিশীল পোশাক শিল্পের বর্তমান বাস্তবতা বিনিয়োগকারীদের অনুৎসাহিত করতে পারে। একই সঙ্গে যে বিপুল পরিমাণ শিল্পসংশ্লিষ্ট মানুষ কর্ম হারিয়েছে সেটির প্রভাব অত্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় সত্যের পাশাপাশি প্রতিক্রিয়াশীল স্বার্থান্বেষী মহলের পক্ষ থেকে অপতথ্য ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বিনিয়োগ প্রাপ্তির পরিকল্পনাকে সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, গত বছর ক্ষমতার পটপরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের অন্যতম নামকরা প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকোর কারখানা বন্ধ হওয়ায় সরাসরি কাজ হারিয়েছে ৪২ হাজারের বেশি মানুষ। যদিও সরকার শ্রমিক-কর্মীদের ৫২৫ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে বকেয়া বেতনাদি প্রদানের দায়িত্ব নিয়েছে কিন্তু সেই অর্থসংস্থান কীভাবে হবে তা স্পষ্ট নয়। ভুলে গেলে চলবে না উপর্যুক্ত শ্রমিক-কর্মীদের আয়ের ওপর আরো দেড় থেকে দুই লাখ মানুষের জীবন নির্ভর করে। একই সঙ্গে এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের মূল্য পড়ে যাওয়ায় স্টক মার্কেটে বিনিয়োগকারীরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সুতরাং অর্থনীতিতে এ বিপুল বেকারত্ব সামাজিক, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রশ্নেও নানা সংকট ও অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। তাই বেকারত্ব নিরসন ও কারখানার অবচয় ব্যয় রোধে দ্রুত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অবিলম্বে চালু করার উদ্যোগ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।
বাংলাদেশ সরকার বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পগুলোকে নতুন একটি পরিকল্পনার মাধ্যমে কাঠামোবদ্ধ করে গড়ে তোলার প্রশ্নটি বিবেচনায় নিতে পারে। প্রয়োজনে বিচ্ছিন্নভবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা শিল্পগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চলে সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। পাশাপাশি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব শিল্পের বিকাশে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। আগামী দিনগুলোয় পরিবেশবান্ধব পোশাক ও অন্যান্য শিল্পপণ্যের বিপুল বাজার সৃষ্টি হবে। সেই সময়ও খুব দূরে নয়, বরং ৫-১০ বছরের মধ্যেই এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ও চাহিদা সৃষ্টি হবে। এ অবস্থায় প্রয়োজন আধুনিক ও কর্মদক্ষ (Efficient) ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিল্পের সংযোগ না থাকা, আধুনিক শিল্পের কলাকৌশল ও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত জ্ঞান ও দক্ষতা গড়ে না ওঠা, শিল্পক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পরিচয় না হওয়াসহ নানা কারণে স্থানীয় ব্যবস্থাপনা টিমের পক্ষে নতুন দিনের শিল্প পরিচালনা করার সম্ভাব্যতাও প্রশ্নাতীত হবে না। সেক্ষেত্রে স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়া ও সাময়িকভাবে বর্তমানে কর্মদক্ষ পরিচালনা নিশ্চিতে প্রয়োজনে বিদেশী ও অভিজ্ঞ কোনো কর্ম পরিচালনা বাহিনীর হাতে দায়িত্ব অর্পণের বিষয়টিও ভেবে দেখা যেতে পারে। একই সঙ্গে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষভাবে শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়ে হাতে-কলমে শেখার ব্যাপারটি নিশ্চিত করাও জরুরি। অন্যথায় বিদেশীনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে না। সুতরাং স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি শিল্প ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে সঠিক পরিকল্পনা করার দিকেও সরকারের ইতিবাচক নজর থাকা জরুরি।
নিশ্চিতভাবেই বিনিয়োগের জন্য একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ ও নির্দিষ্ট মেয়াদি রাজনৈতিক সরকার থাকা আবশ্যক। বাংলাদেশের পরিবর্তিত বাস্তবতায় নতুন বিদেশী বিনিয়োগের নিম্নহার স্বাভাবিকভাবেই যৌক্তিক ও বোধগম্য। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশ রাষ্ট্রের একটি স্থায়ী ও দৃষ্টান্তমূলক সংস্কার। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অর্থনীতিতে বিদেশী বিনিয়োগ জরুরি তেমনি একই সঙ্গে স্থানীয় বা বাংলাদেশী উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অসংখ্য বাংলাদেশী দেশ-বিদেশে সাফল্যের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। নতুন উদ্যোক্তাদের মধ্যেও অনেকে আধুনিক ব্যবসাসংক্রান্ত ব্যবহারিক জ্ঞান ও উদ্ভাবনী নানা ব্যবসা পরিকল্পনা নিয়ে হাজির হয়েছেন। এসব বিজনেস মডেল দেশে ও বিদেশে সাফল্য পেয়েছে। বাংলাদেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া ও রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা পোশাক শিল্পের নানা প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুকরণে এ বিজনেস মডেলগুলো কার্যকর করা যেতে পারে কিনা সেটি বিবেচনা করা যেতে পারে। বাংলাদেশ সরকার দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। বিশেষত বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং পরিকল্পনা ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা হতে পারে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। উপর্যুক্ত কর্তৃপক্ষ সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে সেটি বাংলাদেশের অর্থনীতির সংকট সমাধানের একটি দিশা হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্বে তৈরি পোশাকের বাজারে ‘Made in Bangladesh’ একটি প্রতিষ্ঠিত পরিচয়। অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে বিশ্বমানের পোশাক তৈরিতে বাংলাদেশে সুনাম ও বাজার বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নানা কারণে তৈরি পোশাকের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান কিছুটা অস্থিতিশীল হয়েছে কিংবা বিপদের সম্মুখীন হয়েছে সত্য। তবে পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকায় রাজনৈতিক পরিবেশের উন্নতি, মান নিয়ন্ত্রণ, শ্রমিক ইউনিয়নগুলোকে কার্যকর করা, পুঁজিপাচার রোধ করা, অসৎ ব্যবসায়ীদের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে আসা, নানা কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ও রাষ্ট্রের দায়িত্বাধীন থাকা শিল্প-কারখানাগুলোকে আধুনিক, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পোশাক তৈরিতে সুযোগ করে দেয়ার মাধ্যমে নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়া প্রভৃতি উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে নতুন প্রাণসঞ্চার করা সম্ভব। পোশাক শিল্পে সৃষ্টি হওয়া বেকারত্ব সমস্যার সমাধানে সাম্প্রতিক সময়ে কাজ হারানো যোগ্য কর্মীদের শিল্পে পুনর্নিয়োগে অগ্রাধিকারের শর্ত আরোপ ও সেটি মনিটরিং করার ক্ষেত্রেও সরকারি বিশেষায়িত সংস্থা ভূমিকা রাখতে পারে। এটি একই সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবে পোশাক শ্রমিক ও কর্মীদের যেমন নিরাপত্তা প্রদান করবে তেমনি তাদের সামাজিক মর্যাদা, পরিবার ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ ধূলিসাৎ হওয়ার মতো বিপর্যয় থেকেও রক্ষা করবে। পাশাপাশি এ শিল্পসংক্রান্ত পেশায় অভিজ্ঞদের পেশা পরিবর্তনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণেও বিরত রাখা যাবে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের শ্রমবাজারে অনাকাঙ্ক্ষিত আস্থার সংকট সৃষ্টি হওয়া থেকে কিছুটা নিস্তার দেবে। বর্তমান বাস্তবতায় তাই বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে গ্লোবাল স্কেলে চিন্তা করা ও ব্যবসা সম্প্রসারণের কৌশল গ্রহণে আগ্রহী ও মনোযোগী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
রাষ্ট্রের অবশ্যই স্মরণে রাখা জরুরি যে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক রাষ্ট্রের সম্পদ। এখানে বৈষম্য সৃষ্টি করা বা অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশী যেকোনো নাগরিকের অর্থনৈতিক সংকট মূলত রাষ্ট্রের জন্য সংকট। বাংলাদেশ সরকার বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও কার্যকরণে উদ্যোগ গ্রহণে করবে সেটিই কাম্য। বাংলাদেশের মতো সীমিত বিকল্পের অর্থনীতিতে পোশাক শিল্পের গুরুত্ব উপলব্ধি করে ক্রমবিকাশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি নানা উদ্যোগ যেমন প্রয়োজন তেমনি নানা কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকে দ্রুত পুনরায় চালু করতে ব্যবস্থা নেয়াও জরুরি। এক্ষেত্রে প্রথাগত ব্যবসায় মডেলের পাশাপাশি আধুনিক ও টেকসই পরিবেশবান্ধব পোশাক উৎপাদনে আগ্রহী পোস্ট-মডার্ন ক্রিয়েটিভ বিজনেস মডেলে নজর দিতে সরকারি-বেসরকারি প্রয়াস হয়ে উঠতে পারে যুগান্তকারী ও তাৎপর্যপূর্ণ।
কায়সুল খান: গবেষক, নোভা স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস, লিসবন, পর্তুগাল










