তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের জন্য দেশের অর্থনীতিতে মন্দা পরিস্থিতি রয়েছে। এ সময়ে মূল্যস্ফীতি স্থিতিশীল রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। একই সঙ্গে আরো মজবুত কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ বাড়ার মতো সমস্যা এড়ানো জরুরি। কারণ রাজস্ব আয় ও নতুন কর্মসংস্থান তৈরির জন্য উৎপাদন খরচ কমানো দরকার।
পোশাক, সিমেন্ট ও চামড়া শিল্প এখন দেশের গুরুত্বপূর্ণ খাত। কিন্তু এ খাতগুলোই বড় সংকটের মুখোমুখি। জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন বা ঘাটতি এবং চলতি মূলধনের জন্য উচ্চ সুদে ঋণ নেয়া সংকটের মধ্যে অন্যতম। এ পরিস্থিতিতে সরকার এরই মধ্যে কিছু সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকার সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য খাতভিত্তিক পুনঃঅর্থায়নের ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পগুলোকে বাড়তি ভর্তুকি দেয়া এবং বিশেষায়িত বাজেট তহবিলের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার মতো ব্যবস্থা নিয়েছে। এ পদক্ষেপগুলোর যথাযথ, স্বচ্ছ এবং সময়মতো প্রয়োগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে জাতীয় উৎপাদনও বাড়বে যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
আমাদের দেশের জিডিপি অনুযায়ী রাজস্ব আয়ের অনুপাত তুলনামূলক অনেক কম। এ সমস্যা সমাধানের জন্য প্রকৃত করদাতার সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন যেন করের হার না বাড়িয়েই কর আদায়ের পরিধি বাড়ানো সম্ভব হয়। তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির বিদ্যমান করহারের ব্যবধান করপোরেটগুলোকে পুঁজিবাজার তালিকাভুক্তিতে কাঙ্ক্ষিতভাবে আকৃষ্ট করতে পারছে না। তাছাড়া অনেক অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর ফাঁকির প্রবণতার কারণে তারা বাজারে তালিকাভুক্ত হচ্ছে না। এ পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তনে তালিকাভুক্ত এবং অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করের ব্যবধান বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিদ্যমান করনীতির যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। এর ফলে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো করের দায় বৈধভাবে কমানোর একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়াকে বিবেচনা করতে উৎসাহিত হবে।
একটি সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির পাশাপাশি শিল্প খাতে কৌশলগত সহায়তা প্রদান এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির চাপ কার্যকরভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। আসন্ন জাতীয় বাজেটে এ ধরনের দূরদর্শী ও প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ নীতি আমাদের অর্থনীতিকে আবারো প্রবৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
তানজিম আলমগীর: প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড










