বাংলাদেশ ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে স্বল্পোন্নত দেশ হতে বেরিয়ে আসবে। বাংলাদেশের জন্য স্বল্পোন্নত দেশ হতে বেরিয়ে আসা একদিকে যেমন গৌরবের, অন্যদিকে এর জন্য কতিপয় সুনির্দিষ্ট ও কঠিন চ্যালেঞ্জও মোকাবেলা করতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রস্তুতি এখনো সন্তোষজনক হয়নি। এ চ্যালেঞ্জগুলোর অন্যতম হলো অদক্ষ এবং স্বল্পদক্ষ কর্মীদের চাকরি হারানো। কারণ গ্র্যাজুয়েশনের পর আমাদের হাই ভ্যালু অ্যাডেড পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে। এর জন্য নতুন প্রযুক্তি ও নতুন দক্ষতা প্রয়োজন হবে। অধিকন্তু আমরা বর্তমান চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগ অতিক্রম করছি। যেখানে স্থানীয় ও বিশ্ব চাকরির বাজারের জন্য আমাদের নতুন প্রযুক্তি ও দক্ষতা অর্জনের আবশ্যকতা রয়েছে। দেশের বেসরকারি খাত ক্রমান্বয়ে বিকশিত হচ্ছে। কর্মসংস্থানের ৯০ শতাংশ হচ্ছে বেসরকারি খাত ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে। দেশের নাগরিকরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করছে। দেশের উন্নয়নে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে দেশে পাঠাচ্ছে। অন্যদিকে দেশের গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, আইসিটি ও পোলট্রি খাতে অনেক বিদেশী নাগরিক কাজ করছেন, যাদের জন্য দেশ থেকে প্রতি বছর প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স যায়। আমাদের আশার জায়গা হচ্ছে, বাংলাদেশ একটি তারুণ্যনির্ভর দেশ, যার রয়েছে জনমিতিক লভ্যাংশ বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড। দেশে বর্তমান ২৬ বছর গড় বয়সী মানুষের সংখ্যা ৮ কোটি। এলডিসি উত্তর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের সুনির্দিষ্ট খাতভিত্তিক দক্ষ কর্মী ও ব্যবস্থাপক তৈরি করা আবশ্যক। আমাদের উৎপাদন ও সেবা খাতগুলোর বিভিন্ন উপখাতে এবং আমাদের কর্মীদের বৈদেশিক বাজারের চাহিদা বিবেচনায় দক্ষ কর্মী ও ব্যবস্থাপক তৈরির বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ও কর্মসূচি গ্রহণ আবশ্যক।
দক্ষ কর্মী ও ব্যবস্থাপকের স্থানীয় ও বৈদেশিক কর্মবাজারে চাহিদা পর্যালোচনায় দেখা যায়, বর্তমানে দেশের উৎপাদন ও সেবা খাতে গড়ে প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ কর্মীর চাহিদা রয়েছে। উল্লেখ্য, দেশের অর্থনীতি যে দুটি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তার মধ্যে একটি হচ্ছে প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স।
স্থানীয় ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষ কর্মী ও ব্যবস্থাপকের চাহিদার প্রধান খাতগুলো (উৎপাদন ও সেবা):
কৃষি ও কৃষিজাত (কৃষি প্রক্রিয়া, মাংস ও প্রাণিসম্পদ); শিল্প (অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ); স্বাস্থ্য (নার্সিং, কেয়ারগিভার, ল্যাব টেকনিশিয়ান ও অন্যান্য সহায়ক সার্ভিস); আইসিটি (এআই, আউটসোর্সিং, বিগডাটা) ও অন্যান্য সহায়ক সেবা); ফ্যানিলিটি ম্যানেজমেন্ট (মেইনটেন্যান্স); ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট; ডিজাইন ও মিডিয়া; বিশেষায়িত উৎপাদন ও সেবা খাত (মেগা এজেন্ট, পোর্ট); নির্মাণ শিল্প; বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাত ও উপখাত এবং অগ্রাধিকার খাত (লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, অটোমোবাইল, ইলেকট্রনিকস ও প্লাস্টিক শিল্প)।
বাংলাদেশে গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল, টেলিকমিউনিকেশন, উচ্চ প্রযুক্তির উৎপাদন খাত, পোলট্রি রেয়ারিং এবং পোলট্রি ফিড ইত্যাদি খাতে প্রায় পাঁচ লাখ বিদেশী নাগরিক কর্মরত রয়েছেন। তাদের অধিকাংশ উচ্চ কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ কর্মী ও ব্যবস্থাপক। তারা প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে নিয়ে যায়।
বাংলাদেশ প্রতি বছর মধ্যপ্রাচ্য এবং অন্যান্য দেশে গড়ে প্রায় পাঁচ লাখ জনশক্তি রফতানি করে। বিদেশে যাওয়া কর্মীদের মধ্যে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়া গমনকারীদের প্রায় অর্ধেক বিশেষ কোনো দক্ষতা ছাড়াই যান। অবশিষ্ট কর্মীরা স্বল্প দক্ষতা নিয়ে বিদেশে যান বা বিদেশে গিয়ে দক্ষতা অর্জন করেন। তবে তাদের দক্ষতার কোনো সনদ স্বীকৃতি নেই। মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হতে দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের গমনের সুযোগ ও চাহিদা রয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কানাডা ও আমেরিকায় উচ্চদক্ষ কর্মী (প্রফেশনাল) হিসেবে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
পর্যালোচনায় দেখা যায়, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে শ্রমবাজারের চাহিদাভিত্তিক ব্যবস্থাপক/প্রফেশনাল তৈরির কোনো ডাটাবেজ নেই। তবে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাদের প্রায় ৪০ শতাংশ কাজের সুযোগ পাচ্ছে না।
শিল্প খাতভিত্তিক প্রয়োজনীয় দক্ষকর্মী ও ব্যবস্থাপক তৈরির বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি তেমন নেই।
দক্ষ কর্মী ও ব্যবস্থাপক তৈরির বর্তমান সুযোগগুলো: অকুপেশনভিত্তিক শর্ট কোর্স; ট্রেডভিত্তিক ভোকেশনাল শিক্ষা; ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা; বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা; বিশেষায়িত শিক্ষা/প্রফেশনাল শিক্ষা; আইসিটি খাতের চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে আইসিটি-বিষয়ক বিভিন্ন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ; নতুন প্রযুক্তি যেমন এআই-সংক্রান্ত কাজে দক্ষতা অর্জনের প্রশিক্ষণ; সারা দেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় সাধারণ ও প্রফেশনাল ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ;
দক্ষ কর্মী ও ব্যবস্থাপক তৈরির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা বা চ্যালেঞ্জগুলো: আমাদের উৎপাদন ও সেবা খাতের বিভিন্ন উপখাতগুলোয় কী ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন এবং এ ধরনের দক্ষতা কারা প্রদান করতে পারে তার কোনো পাবলিক পরিচিতি নেই এবং সুনির্ধারিত তথ্যপ্রাপ্তিরও সুযোগ নেই। দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সক্ষমতা ও মানসম্মত কারিগরি শিক্ষার সক্ষমতা ও মান এবং মূল্যায়ন পদ্ধতির অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত যুবকদের, বিশেষ করে সারা দেশের স্নাতক পর্যায়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার সময় কর্মকালীন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সীমিত। বর্তমান শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা অনুপাতে যুবকরা আইসিটি, ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড সফট স্কিলস ভালোভাবে অর্জন করতে পারছেন না। ফলে কোনো রকম দক্ষতা ছাড়াই বিপুলসংখ্যক লোক চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতায় নামছে। দেশে কারিগরি পেশাগুলোর সামাজিক স্বীকৃতি কম। সমাজ/পরিবার অন্যের কাছে গর্ব করে বলতে পারবে এমন পেশায় ছেলেমেয়েদের দেখতে চায়। আমাদের বেসরকারি খাতের আনুষ্ঠানিক খাতের কর্ম ও কর্মগুলোর প্রাপ্তিতে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা সম্পর্কে যুবকদের ধারণা কম, কারণ অধিকাংশ বেসরকারি আনুষ্ঠানিক চাকরির জন্য সচরাচর পাবলিক ডমিনে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় না। যাদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেই কিন্তু দেশ/বিদেশে কাজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বিভিন্ন ট্রেডে দক্ষতা অর্জন করেছেন তাদের দক্ষতা মূল্যায়নপূর্বক সনদ প্রদান (আরপিএল) কার্যক্রমের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং শিল্প-কারখানা ও সেবা খাতে কর্মরত কর্মীদের রি-স্কিলিং ও আপ-স্কিলিংয়ের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও সহযোগিতার অভাব রয়েছে। বিদেশগামী কর্মীদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা চাহিদা নিরূপণ, চাহিদা অনুযায়ী তাদের দক্ষ করে তোলা, দক্ষতা মূল্যায়ন এবং দক্ষতা সনদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ইত্যাদি বিষয়ে অনেক ঘাটতি রয়েছে। দক্ষতা প্রশিক্ষণ, কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রমে গ্লোবাল পার্টনারশিপ অ্যান্ড বেঞ্চ মার্কিংয়ের অভাব রয়েছে। দক্ষ ব্যবস্থাপক/প্রফেশনাল তৈরির জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট এবং সরকারি ও বেসরকারি ইনস্টিটিউটগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও যোগাযোগের অভাব রয়েছে। এসব বিষয় উৎপাদন ও সেবা খাতের উদ্যোক্তারা ভালোভাবে জানেন না।
দেশের যেসব খাতে বিদেশী কর্মীরা কাজ করেন সেসব খাতের বিভিন্ন অকুপেশন/প্রফেশনে দেশীয় কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ ও ব্যবস্থা নেই। বিশেষ করে বেসরকারি খাত এসব বিষয়ে তথ্য আদান-প্রদানে সাবলীল নয়। লাইফলং লার্নিং ও কন্টিনিউয়াস এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের (সিইটি) প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেই। দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ও কারিগরি শিক্ষা গ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের দেশ-বিদেশে উপযুক্ত কর্মে নিযুক্ত করার বিষয়ের (স্কিল মার্কেটিং) কোনো ব্যবস্থা নেই এবং বিদেশে নিয়োগকারী কর্তৃক গ্রহণযোগ্য সার্টিফিকেশনের ব্যবস্থা নেই। দেশের কারিগরি শিক্ষা বোর্ড প্রায় সব সরকারি-বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক কারিকুলাম তৈরি, পরীক্ষা গ্রহণ ও সার্টিফিকেট দেয়। একক একটি সংস্থা হিেসবে এত ব্যাপক কাজের দায়িত্ব পালনের ফলে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মানের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে কম গুরুত্ব পেয়ে আসছে।
বর্তমান শিক্ষা গ্রহণ শেষে কর্মে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে না অধিকাংশ যুবক। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন স্নাতক পর্যায়ে অধ্যয়নরত প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা অনিশ্চিত কর্ম-ভবিষ্যৎ নিয়ে শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ কর্তৃক দাতাদের সহায়তায় গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পে লক্ষ্যস্থির ও সমন্বয়হীনতার অভাবে বাংলাদেশের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়নি।
দক্ষ কর্মী ও ব্যবস্থাপকের চাহিদা পূরণে করণীয়: দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি গড় ২৬ বছর বয়সের প্রায় আট কোটি যুবশক্তিকে কার্যকর শ্রমশক্তিতে রূপান্তর করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। এক্ষেত্রে নিচের পদক্ষেপগুলো নেয়া যেতে পারে।
স্বল্পমেয়াদি: যেসব প্রতিষ্ঠান দেশে সরকারি পর্যায়ে নিজেরা প্রশিক্ষণ পরিচালনা করে এবং যেসব প্রতিষ্ঠান বেসরকারি পর্যায়ে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্থাপনের অনুমতি ও সনদ দেয় (বিএমইটি, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও এনএসডিএ) তাদের কার্যক্রম, সক্ষমতা এবং দক্ষতা উন্নয়নে প্রভাব কী ইত্যাদি জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা দরকার। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের অনুমতি নিয়ে স্থাপিত বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশিক্ষণের মান ও সক্ষমতা যাচাই করা আবশ্যক। সরকারি-বেসরকারি সব প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অকুপেশন/ট্রেডভিত্তিক পরিচালিত প্রশিক্ষণ একই মানের ও মূল্যায়ন পদ্ধতিও অভিন্ন হওয়া দরকার। এ কাজের জন্য এনএসডিএ, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড, বিএমইটি, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের কার্যক্রম সমন্বয় করে সব প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান যাচাই করে সংস্কার/উন্নয়ন/প্রয়োজনে বন্ধ করে দেয়া একান্ত জরুরি। এজন্য এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নিয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করে সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার। বাংলাদেশের অদক্ষ/অর্ধদক্ষ শ্রমিকের বড় কর্মের বাজার হলো বৈদেশিক (মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়া) কর্মসংস্থান। দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান কার্যক্রম সূচারুভাবে সম্পন্ন (কর্মী অনুযায়ী দেশ বাছাই, কর্মের জন্য উপযুক্ত সার্টিফিকেটসহ যোগ্যতা তৈরি, কর্মীকে দেশ ও পেশা নির্বাচনের সুযোগ দান, কর্মীর আর্থিক সহযোগিতা, বিদেশে কর্মপ্রাপ্তি তদারকি) ইত্যাদি কাজের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা যেতে পারে। আমাদের কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাত, শিল্প খাত, স্বাস্থ্য খাত, শিক্ষা ও শিক্ষা সহায়ক খাত, হোটেল রেস্টুরেন্ট, ট্যুরিজম ও আইসিটি সহায়ক খাতের কর্ম ও কর্মপ্রাপ্তিতে যোগ্যতা অর্জনের জন্য যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে প্রতিটি খাতের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করা দরকার।
মধ্যমেয়াদি: যেসব বিশেষায়িত খাতগুলোয় বিদেশী কর্মীরা কাজ করেন এ বিষয়গুলো চিহ্নিত করে বাংলাদেশী কর্মীদের কীভাবে রিপ্লেস করা যায় সে বিষয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা দরকার। সেবা খাতের বিশেষায়িত অকুপেশন/প্রফেশনগুলোর জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ। যারা বিদেশে বিভিন্ন অকুপেশনে দক্ষতা অর্জন করেছে এবং দেশে যারা বিভিন্ন ট্রেডে ও অকুপেশনে দক্ষতা অর্জন করে কাজ করছেন কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট নেই, তাদের জন্য আরপিএল প্রাপ্তির সুযোগ তৈরি করা। শ্রম ও কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান, শিক্ষা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা, কৃষি, যুব ও ক্রীড়া, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, স্বাস্থ্যশিক্ষা, মহিলা ও শিশু ইত্যাদি মন্ত্রণালয়, এনএসডিএ এবং বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠান এফবিসিসিআই, বিসিআই, ডিসিসিআই, এমসিসিআই, বিডব্লিউসিসিআই ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান নিয়ে দেশের কর্মসংস্থান বিষয়ে একটি জাতীয় টাস্কফোর্স করে নিয়মিতভাবে দেশের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন ইত্যাদি নিয়ে পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যবস্থা নিতে হবে। চিহ্নিত খাতগুলোর কর্মোপযোগী দক্ষতা তৈরি ও উপযুক্ত কর্মে নিযুক্ত করতে নিয়োগকর্তা, প্রশিক্ষণার্থী ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করার বিষয়েও এই টাস্কফোর্স কাজ করবে। কাজের প্রতি শ্রমিক কর্মচারী/ব্যবস্থাপকদের আগ্রহী করে তুলতে কর্মপরিবেশ নিরাপত্তা এবং প্রতিটি শ্রমিকের পেশাগত সেফটি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে গুরুত্ব দিয়ে যুবকদের উপযুক্ত কর্মসংস্থানের বিষয়ে একটি পৃথক মন্ত্রিপরিষদ/উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি গঠন করা যেতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি: দেশে সরকারি ও বেসরকারি আনুষ্ঠানিক কর্মের ধরন ও কর্মপ্রাপ্তিতে করণীয় সম্পর্কে ছাত্রদের ধারণা দেয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে। দক্ষতা প্রশিক্ষণ, কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রমে গ্লোবাল পার্টনারশিপ অ্যান্ড বেঞ্চমার্কিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। বর্তমানে শিক্ষাগ্রহণ শেষে কর্মে প্রবেশ করতে সুযোগ পাচ্ছে না—এমন শিক্ষাগ্রহণ সীমিত করতে হবে। দেশের কর্মক্ষম মানুষগুলোকে তাদের বর্তমান পেশা/দক্ষতা/অভিজ্ঞতাভিত্তিক চিহ্নিত করে একটা ডাটাবেজ/গবেষণা প্রতিবেদন প্রস্তুত করা যেতে পারে। খাতভিত্তিক কাজগুলোয় কাজের জন্য উপযুক্ত দক্ষতা চিহ্নিত করে বর্তমান দক্ষতা ও ভবিষ্যতে কাজের দক্ষতা গ্যাপ পরিমাপ করতে হবে। তাদের কাজ করার উপযোগী করার জন্য কী করতে হবে তা ঠিক করতে হবে। দক্ষ কর্মী ও ব্যবস্থাপক তৈরির পদক্ষেপগুলোকে অত্যন্ত উচ্চমাত্রার গুরুত্ব দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সমন্বিত ও সবার জন্য প্রযোজ্য নীতি বা আইন প্রণয়ন করতে হবে।
ড. মো. হেলাল উদ্দিন, এনডিসি: সেক্রেটারি জেনারেল, বিসিআই; সাবেক অতিরিক্ত সচিব, শিল্প মন্ত্রণালয় ও সাবেক মহাপরিচালক, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর










