আলোচনার বিষয়বস্তু খাদ্যের যৌক্তিক দাম। খাদ্যের যৌক্তিক দাম কে নির্ধারণ করেন? এটি কি উৎপাদক পর্যায়ে হয়? পাইকারি কিংবা খুচরা বাজারে এ দাম নির্ধারণ হচ্ছে? উৎপাদক হিসেবে আমি খাদ্যের দাম নির্ধারণ করতে পারি না। মূলত ট্যারিফ কমিশন এ দাম নির্ধারণ করে দেয়। জনসাধারণের স্বার্থেই এটি করা হয়। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সুদের হার ১৫-১৬ শতাংশে চলে যায়, সেখানে আমরা যৌক্তিক দাম খুঁজি। ডলারের বিনিময় হার নির্ধারিত না। যখন ট্যারিফ কমিশন দাম নির্ধারণ করে, তখন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত বিনিময় হারের ভিত্তিতেই দাম নির্ধারণ করে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা যখন ব্যাংকে যান তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত হারে ক্রয় করতে পারেন না, বরং ১ বা ২ টাকা বেশি দিতে হয়। এ বাড়তি খরচ ভোক্তাকে বহন করতে হয়। পণ্য উৎপাদনে যে খরচ হয় তা ভোক্তার কাছ থেকেই আদায় করতে হয়।

যারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে সম্পৃক্ত তাদের বেশির ভাগ কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। আবার কাঁচামাল সরবরাহকারী হাতেগোনা পাঁচ-ছয়টি বড় কোম্পানি আছে, যারা বিশ্বের পুরো বাজারে আধিপত্য বিস্তার করছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে বা পরে আমার জানামতে কোনো এলসি (ঋণপত্র) খেলাপি হয়নি। কান্ট্রি রেটিং হিসেবে এ সরবরাহকারীদের ঝুঁকি বিভাগ যখন আমরা পণ্যগুলো কিনতে চাই তখন তারা বাড়তি প্রিমিয়াম নেয়। এটি কান্ট্রি রেটিংয়ের ওপর হয়ে থাকে। বাংলাদেশ ও ভারত একই পণ্য ক্রয় করছে, তখন একই পণ্য কিনতে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে আমাদের বেশি ব্যয় করতে হয়। আবার ৫০-৬০ হাজার টন কাঁচামাল আনলোড করার জন্য অবকাঠামো আমাদের নেই। তখন ক্রেনসমৃদ্ধ এয়ার ভেসেলগুলো আমাদের নিয়ে আসতে হয়। এজন্যও আমাদের বাড়তি খরচ করতে হয়। এসবই কিন্তু আমাদের খরচের মধ্যে চলে আসছে। তাই অবকাঠামো উন্নয়ন খুবই দরকার। তা না হলে এ খরচগুলো কোনোভাবেই কমানো যাবে না। যখন আমাদের ফ্যাক্টরি থেকে চূড়ান্ত পণ্য বের হয়, পণ্য সরবরাহে তখন গাড়ির প্রয়োজন হয়। আবার আমাদের দেশের মালবোঝাই ট্রাকের সর্বোচ্চ ওজন নির্দিষ্ট করে দেয়া আছে ৫-১০ টন পর্যন্ত। আমরা যদি আরো বেশি পণ্য পরিবহন করতে পারতাম, তখনো খরচটা অনেক কমে যেত।

ব্যাংকের সুদের হার এবং ডেফার্ট পেমেন্টের কথা বলছি। ডলারের যে রেটে ডেফার্ট এলসি খোলা হয়, কিন্তু ছয় মাস পর এটি পরিশোধ করতে গেলে তখন সেই রেট আর থাকে না, বেশি দামে পরিশোধ করতে হয়। সেই ক্ষতি আমাদের নিতে হয়। তাই আমি মনে করি, একক বাজার পদ্ধতিতে হয়তো এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। আমাদের মুক্তবাজারের দক্ষতা, প্রতিযোগিতা ও নিয়ন্ত্রিত বাজারের সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে এগোতে হবে।

আমরা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সদস্য। ২০২৬ সালে আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ করতে যাচ্ছি। তখন এ নিয়ন্ত্রিত বাজারে আমরা কতটুকু টিকে থাকতে পারব, জানি না। সেজন্য আমাদের এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে।

মো. হাসান: সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক

[বণিক বার্তা আয়োজিত ‘‌খাদ্যপণ্যের যৌক্তিক দাম: বাজার তত্ত্বাবধানের কৌশল অনুসন্ধান’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে অতিথির বক্তব্যে]