ড. মো. মিজানুর রহমান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক। তিনি থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এআাইটি) থেকে রিজিওনাল ও রুরাল ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানিংয়ে এমএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। পরিবেশ-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তার গবেষণায় অগ্রাধিকার পেয়েছে। বৃহত্তর রাজশাহীর নগরায়ণ ও পরিবেশগত সংকট নিয়ে সম্প্রতি তিনি কথা বলেন বণিক বার্তায়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আল ফাতাহ মামুন

রাজশাহী একটি নদীবিধৌত অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও এখানকার মাটি, জলবায়ু ও উচ্চতা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ভিন্ন। এ প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য কৃষিকাজ, জনজীবন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে কীভাবে ভূমিকা রাখছে?

বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যেটির উত্তরে হিমালয় পর্বতমালা এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। বঙ্গোপসাগরের আকৃতিগত বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে পশ্চিম দিকে ভারতের বর্ধিতাংশ এবং পূর্বদিকে মিয়ানমারের বর্ধিতাংশ একটি ফানেলের সেপ তৈরি করেছে, যার ওপর বাংলাদেশের অবস্থান। যে কারণে বাংলাদেশে জলাবায়ুগত প্রভাব প্রকট আকারে দেখা যায়। এ অঞ্চলটা মৌসুমি জলবায়ুর অন্তর্গত। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিম এবং উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু এখানে সক্রিয়। উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর কারণে এ অঞ্চলটা শীতকালে শুষ্ক থাকে। অন্যদিকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে এ অঞ্চলে বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে।  দুই কারণে সারা বছর একই রকম আবহাওয়া পরিলক্ষিত হয় না। অর্থাৎ কখনো শীত, কখনো গ্রীষ্ম আবার কখনো বর্ষা দেখা যায়। তবে বিশ্বব্যাপী জলবায়ুর পরিবর্তনে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে এর ব্যাপক প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে নর্থওয়েস্টার্ন পার্ট বা রাজশাহী অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি। যেমন এখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম, উষ্ণতা বেশি আবার শীতও বেশি। জলবায়ুগত প্রভাবের আলোচনায় ‘চরমভাবাপন্ন’ বলে একটা কথা আছে, যেটা রাজশাহী অঞ্চলে বেশি দেখা যায়। এখানে যেহেতু বৃষ্টিপাত কম, তাই এর প্রভাব সরাসরি কৃষিতে পড়ে। এক সময় এ অঞ্চলের কৃষি মূলত একফসলি এবং সম্পূর্ণ বৃষ্টিপাত নির্ভরশীল ছিল। বর্তমানে প্রযুক্তির কারণে ব্যাপক পরিমাণে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করে চাষাবাদ করা হচ্ছে। ফলে সারা বছর চাষাবাদ হচ্ছে। রাজশাহীর ভূমির আলাদা একটি বৈশিষ্ট্য আছে। এটাকে আমরা বলি টেরাস রিজিয়ন বা বরেন্দ্রভূমি অঞ্চল। বরেন্দ্রভূমির বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে আন্ডারগ্রাউন্ডের পানির স্তর অনেক নিচে এবং ভূমির ঢাল অনেক বেশি। সে কারণে বর্ষা ছাড়া অন্য সময়ে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার ছাড়া কৃষিকাজ করার খুব একটা সুযোগ নেই। বিষয়টি অনুধাবন করে বরেন্দ্র বহুমুখী প্রকল্প শুরু করে সরকার। সেখানে ভূগর্ভের পানি ব্যবহার করে বরেন্দ্র এলাকায় কৃষিকাজ চলমান রাখা হয়, ফলে পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিপন্ন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেক নিচে চলে গেছে। যে কারণে আমরা দেখতে পাই, সাম্প্রতিক সময়ে রাজশাহীর আবহাওয়া আরো রুক্ষ হয়ে গেছে। কেননা সয়েল ময়েশ্চার অনেকটা হারিয়েছে। রুক্ষতা বৃদ্ধির কারণে আমরা গরমের সময় তীব্র গরম এবং শীতের সময় তীব্র শীত দেখতে পাচ্ছি। শুধু তাই নয়, রাজশাহীতে এখন বৃষ্টিপাতযুক্ত দিনের সংখ্যা কমে শুষ্ক দিনের সংখ্যা বেড়েছে। একইভাবে শীতকাল কমে গ্রীষ্মের দৈর্ঘ্য বেড়ে গেছে। সারা দেশেই এটা হচ্ছে, কিন্তু রাজশাহীতে বেশি হচ্ছে। কৃষিতে প্রভাব পড়ছে সবচেয়ে বেশি। যদি শীতকালে পর্যাপ্ত শীত না পড়ে তাহলে রবিশস্যের উৎপাদন কমে যায়। ফসলেরও একটা নিজস্ব জার্মিনেশন, গ্রোথ টেম্পারেচার প্রয়োজন। শীতল দিন কমে গেলে তা হয় না।

অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দীর্ঘ খরা, তীব্র তাপপ্রবাহ, বৃক্ষহানি বা জলাধারের সংকোচন—এসব নানা সংকটের ভিড়ে রাজশাহীর জন্য আপনি কোনটিকে সবচেয়ে বিপজ্জনক মনে করছেন?

রাজশাহী বলতে যদি রাজশাহী অঞ্চল বলতে চান, তাহলে আমি বলব, বৃহত্তর রাজশাহীর জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিবেশগত হুমকি হলো পানি সংকট। পানি সংকটের কারণে আগামী দিনগুলোয় কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে মানুষকে। যখন আমাদের ভূগর্ভের পানি নেমে যাচ্ছে, তখন তো পুরো অঞ্চল রুক্ষ হয়ে পড়ছে। কিছুদিন পর এখানে আর হাতে চাপা কলে পানি পাওয়া যাবে না। তখন গভীর নলকূপে যেতে হবে। এরই মধ্যে খাবার জন্য গভীর নলকূপ দিয়ে পানি তোলা শুরু হয়ে গেছে। আমাদের দেশের সমস্যা হলো, মানুষের সচেতনতা একেবারেই কম। মানুষ প্রচুর পানি অপচয় করে থাকে। ভূগর্ভের পানি নিচে নামার সঙ্গে সঙ্গে এ অঞ্চলের নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। সঙ্গে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে গেছে। যে কারণে ভূগর্ভের পানি আর পুনর্ভরতি হচ্ছে না। তার মানে আগামী দিনের রাজশাহী তীব্র পানি সংকেটের অঞ্চলে পরিণত হতে যাচ্ছে। পানি সংকট শুধু যে মানুষকে ভোগাবে তা নয়, পুরো পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করবে। পানির সঙ্গে পুরো জীবকুল জড়িয়ে আছে। পানির স্বল্পতা প্রকৃতিতে এক ধরনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে। ফলে জীববৈচিত্রের আবাসস্থল অনিরাপদ হয়ে উঠবে। তারা আবাসভূমি হারাবে।

রাজশাহী শহরের ক্ষেত্রে কোন সমস্যাটি প্রকট বলে মনে করেন?

শহর এলাকায় দিন দিন বায়ুদূষণের পরিমাণ বাড়ছে। যেহেতু রুক্ষ ও উষ্ণতা দিন দিন বাড়ছে, ফলে বায়ুদূষণও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও আমরা বলি রাজশাহী ক্লিন ও গ্রিন সিটি, কিন্তু আসল ব্যাপার তা নয়। অন্যান্য শহরের তুলনায় রাজশাহী অনেকটাই গ্রিন ও ক্লিন, কিন্তু এটা যথেষ্ট নয়। ক্ষুদ্র পরিসরেও যেহেতু দূষণের মাত্রার পার্থক্য দেখা যায় সেহেতু রাজশাহী দূষণমুক্ত শহর বা কম দূষণের শহর আমরা এমনটা বলতে পারি না। শুষ্ক মৌসুমে এখানে বায়ুদূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করে। বিশেষ করে যখন দক্ষিণে অবস্থিত পদ্মা নদী থেকে বাতাস প্রবাহিত হয়, তখন চরের বালিকণা শহরে ঢুকতে থাকে। এখানের ভালো দিক হলো, শহরের ভেতরে ইন্ডাস্ট্রি নেই। কিন্তু গাড়ি থেকে যে কালো ধোঁয়া বের হয়, সেটা আবার মারাত্মক ক্ষতি করছে। আর শহরের বাইরের দিকে কিছু ইন্ডাস্ট্রি আছে, সেগুলোর প্রোপার ম্যানেজমেন্ট নেই। প্রোপার ম্যানেজমেন্ট না থাকার ফলে ইন্ডাস্ট্রি থেকে নির্গত বর্জ্য ড্রেনের মধ্যমে প্রবাহিত হয়ে পার্শ্ববর্তী নদীগুলো দূষিত হচ্ছে। এখানে বারণই নদীর একটা চ্যানেল আছে, সেখানে এখনো গেলে দেখবেন পানিগুলো ফেনা ফেনা হয়ে নদীতে গিয়ে মিশছে। ওই পানিটা আবার সেচকাজে ব্যবহার হচ্ছে। এ পানিতে আছে ভারী ধাতু। সেগুলো মৃত্তিকা দূষণ করছে এবং ফসলের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করছে। মোটাদাগে বলতে গেলে, রাজশাহীতে মাটি, পানি, বায়ু ও শব্দ দূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে রাজশাহী অঞ্চলে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, শুষ্কতা ইত্যাদি ক্ষেত্রে কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে?

বিশ্বব্যাপীই জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে রাজশাহী অঞ্চলের জলাবায়ুর চরমভাবাপন্নতা বেড়ে যাচ্ছে। এখানে অ্যাটমোস্ফিয়ারিক প্রেশার বেল্টের বিষয়ও আছে। যখন তাপমাত্রা বাড়ছে তখন হাই প্রেশার বেল্ট ও লো প্রেশার বেল্ট কিছুটা স্থানান্তরিত হয়। এর সঙ্গে এল নিনো, লা নিনার প্রভাব যোগ হচ্ছে। ফলে রাজশাহী অঞ্চলের জলবায়ু আরো চরমভাবাপন্ন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে, তাপমাত্রার তীব্রতা বাড়ছে। বৃষ্টিপাত কমে গেছে। এগুলো অবশ্যই জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণেই হচ্ছে।

গ্রীষ্মে রাজশাহীতে অতিরিক্ত গরমের পেছনে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কোন কোন কারণ কাজ করছে বলে আপনি মনে করেন?

এখানে দুটো বিষয়ই আছে। প্রাকৃতিক ব্যাপারটি যেহেতু বৈশ্বিক জলবায়ুগত বিষয়ের সঙ্গে জড়িত, বৈশ্বিক গরম বাড়লে এখানেও বাড়বে, বৃষ্টিপাত কমলে এখানেও কমবে। তবে রাজশাহীতে মানবসৃষ্ট প্রভাব অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। একটা এলাকা পরিবেশ ব্যবস্থাপনার জন্য ২৫ শতাংশ বনভূমি প্রয়োজন। কিন্তু রাজশাহীতে কি তা আছে? কোনোভাবেই নেই। যদিও আমরা বলছি রাজশাহী শহর গ্রিন সিটি, কিন্তু কত শতাংশ গ্রিন হলে গ্রিন বলা যায়। আমরা মুখে মুখে প্রচার করেছি রাজশাহী শহর গ্রিন সিটি, সবাই তাই বলছে। এবার আসুন ওয়াটার বডির প্রশ্নে। একটা শহরে কত শতাংশ ওয়াটার বডি প্রয়োজন? এখানে কিন্তু তা নেই। বড় বড় লেক নেই, পুকুর নেই। একটা সময় এ শহরে প্রায় এক হাজারটির মতো পুকুর ছিল, এখন সেগুলো অনেক কমে গেছে। আমরা যদি ভূমি ব্যবহারের মানচিত্র দেখি, তাহলে দেখব কংক্রিট আচ্ছাদিত ভূমির পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে। এ সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য আমাদের একটা প্রোপার মাস্টারপ্ল্যান দরকার ছিল, প্ল্যান আছে, কিন্তু সেটা ত্রুটিযুক্ত। রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) সর্বশেষ যে প্ল্যানটা রিভাইজড করেছে, সেখানে দেখলাম খড়খড়ি এলাকায় দ্বিতীয় বিসিক এলাকা নেয়া হয়েছে। এখানে বিসিক দেয়ার যৌক্তিকতা কী? যেকোনো শিল্প সাধারণত ওয়াটার চ্যানেলের পাশে হয়। ব্যবহৃত পানি ট্রিট করে সেখান দিয়ে চলে যাবে। আমাদের দেশে যদিও ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এখনো সফলভাবে কাজ করেনি, তার পরও শিল্প এলাকা সবসময় আবাসিক এলাকা থেকে দূরে স্থাপন করা উচিত। বিসিক কাসিয়াডাঙ্গা বা কাটাখালীর দিকে দেয়া যেত, পদ্মা নদীর পাশে হতে পারত। একটু আগে বায়ুদূষণের কথা বলেছি। আমার মনে হয় পদ্মা তীর ধরে একটা সবুজবেষ্টনী তৈরি করা যেতে পারে। নদীর পাশে এ রকম বেষ্টনী করা হলে বাতাসে যে ধূলিকণা আসে সেগুলোর অনেকাংশই গাছে আটকে যাবে আর শহরে ঢুকতে পারবে না। তাহলে রাজশাহীর দূষণ কমে আসত। এখানে যে গরম পড়ছে তার বড় কারণ পদ্মা শুকিয়ে যাওয়া। চরের বালুতে সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে হিট জেনারেট হয়। এসব কারণই আসলে ম্যানমেড।

রাজশাহীর কৃষি খাতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কীভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে—ফসলের ধরন, ফলন বা কৃষকের জীবনে?

কৃষিতে প্রভাব আছে এবং থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। কৃষিতে পরিবর্তনের কথা যদি বলি, একসময় বরেন্দ্র অঞ্চলে বোরো ধানের আবাদ ছিল বেশি। তখন আন্ডার গ্রাউন্ডে প্রচুর পানি ছিল। পানি তুলে পুরো এলাকা সবুজ ফসলে ভরিয়ে দেয়া হয়েছে। যখন পানিস্বল্পতা দেখা দেয়া শুরু করল, কৃষকরা তাদের চাষ পদ্ধতি বদলে ফেললেন। তারা ধান বাদ দিয়ে আমের দিকে ঝুঁকল। বিশাল এলাকায় আগে যেখানে ধান হতো এখন সেখানে আম হচ্ছে। ড্রাগন হচ্ছে। পেয়ারা হচ্ছে। এগুলোর যেহেতু রিটার্ন ভালো, পানি কম লাগে তাই কৃষকরা এদিকে ঝুঁকছেন।

রাজশাহী শহরের সম্প্রসারণ ও নগরায়ণ কতটা পরিবেশবান্ধব এবং কোথায় কোথায় সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে বলে আপনি মনে করেন?

পরিবেশবান্ধব প্রেক্ষাপটে যদি বলেন, তাহলে বলব, এখনো পরিবেশটা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়নি, তবে যতটুকু থাকলে পরিবেশবান্ধব শহর বলা যেত সেটা অনেকটাই দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। একে তো এ শহরের ভালো মানের পরিকল্পনা নেই, দ্বিতীয়ত, এখানে সবুজ, নীল এগুলো দিন দিন কমে আসছে। পার্ক, মাঠ এগুলো সে অর্থে সিটিতে নেই।

বাংলাদেশের পরিবেশ নীতি ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণার মধ্যে কী ধরনের দূরত্ব বা অসামঞ্জস্য আপনি লক্ষ করছেন?

আমাদের দেশে পরিবেশসংক্রান্ত অনেক নীতিই আছে, হয়তো এতগুলোর দরকারও ছিল না। কিন্তু প্রয়োগ তো কোনোটারই দেখছি না। আপনি দেখেন, প্রকাশ্যে ধূমপান করলে জরিমানা হওয়ার কথা ছিল। মুখের সামনে ধূমপান করে, সবাই নির্বিকার। বাংলাদেশে পরিবেশ নীতি অনেক আছে। নদী দখল নিয়ে বহু কিছু আছে, জেল হবে, জরিমানা হবে, কিন্তু এখনো তেমন কিছু হয়েছে? বর্তমান সরকার এসেও অনেক আশা দিয়ে দিয়ে উদ্ধার করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু কিছুই হয়নি। নদী দখলের অপরাধে একজনকেও শাস্তির মুখোমুখি করা হয়নি। আমাদের আইন আছে অনেক। পরিবেশ নিয়ে যারা সোচ্চার ছিলেন, তারা এখন সরকারে আছেন, তার পরও কিছু করতে পারছেন না। আইনের সঙ্গে বাস্তবতার অনেক গ্যাপ। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ যেগুলো হয় সেগুলো কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে সরকারের চরম অনীহা লক্ষ করা যায়। যেটি খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। একমাত্র কৃষি-সংক্রান্ত রিসার্চগুলো সরকার কিছুটা কাজে লাগিয়েছে, ফলে কৃষিতে ভালো ফলাফল দেখা যাচ্ছে। অন্য কোনো বিষয়ের রিসার্চ সরকার তেমন কাজে লাগায় না। এক্ষেত্রে সরকারের উচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগুলোর গুরুত্ব অনুধাবন করা এবং বাস্তব প্রেক্ষাপটে কাজে লাগানো।