মেক্সিকোর স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শিকাগোয় আয়োজিত প্যারেড সাধারণত প্রাণবন্ত, রঙিন ও জনসমাগমে ভরপুর হয়। তবে এবার দেখা গেল উল্টো চিত্র। মেক্সিকো প্যারেড এবার পরিণত হলো প্রায় শূন্য এক অনুষ্ঠানে। অভিবাসন ও শরণার্থী দপ্তর (আইসিই)–এর অভিযানের আশঙ্কায় অনেকেই ঘর থেকে বের হতে সাহস পাননি। খবর রয়টার্স।
শনিবার শহরের ঐতিহ্যবাহী পিলসেন এলাকায় আয়োজিত প্যারেডে নাচে-গানে উচ্ছ্বাস ছড়ানোর বদলে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। ঝলমলে পোশাক ও অলংকারে সজ্জিত ফোকলোরিকো নৃত্যশিল্পীরা এবার দর্শকদের হাতে বিলি করলেন ‘অধিকার জানুন’ পুস্তিকা। অশ্বারোহীরা ঘোড়ার লেজে বেঁধেছিলেন মেক্সিকান পতাকার রঙ, আর গলায় ঝুলছিল কমলা রঙের বাঁশি—যদি হঠাৎ করে আইসিই এজেন্ট হাজির হয়, তবে সতর্কবার্তা দিতে পারবেন। রাস্তায় দাঁড়ানো স্বেচ্ছাসেবীরাও নজর রাখছিলেন।
আজীবন পিলসেনে বসবাসকারী এডি চাভেজ আফসোস করে বলেন, ’এ জায়গাটা সাধারণত মানুষের ভিড়ে ভরে থাকে। কিন্তু আজ যেন ভূতুড়ে শহর।‘
অভিযোগের পটভূমি তৈরি করে দিয়েছেন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল–এ অ্যাপোক্যালিপস নাউ সিনেমার সংলাপের ঢঙে লেখেন, ‘আমি ভালোবাসি সকালের বেলায় ডিপোর্টেশনের (নির্বাসন) গন্ধ। শিকাগো এবার জানতে পারবে কেন এটিকে ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার বলা হয়।‘ সঙ্গে যুক্ত করেন নিজের সামরিক পোশাক পরা ছবি ও শিকাগোর আগুনে ঘেরা আকাশরেখা।
ট্রাম্প সম্প্রতি একটি নির্বাহী আদেশ সই করে ডিপার্টমেন্ট অব ডিফেন্স-এর নাম পরিবর্তন করে ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার করেছেন।
ইলিনয়ের গভর্নর জেবি প্রিট্জকার (ডেমোক্র্যাট) আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, মেক্সিকান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত উৎসবগুলোকে কেন্দ্র করে অভিযান চালাতে পারে আইসিই। সেই ভয়ে আশপাশের কিছু উৎসব এরইমধ্যে স্থগিত বা বাতিল হয়েছে।
তবে উৎসবে যোগ দিয়েছেন কিছু সাহসী অংশগ্রহণকারীও। নৃত্যশিল্পী ইসাবেল গার্সিয়া নেচেছেন গাঁদা ফুলের হলুদ রঙের পোশাক পরে। তিনি বলেন, ‘ভয় আছে, কিন্তু আমরা এসেছি। আমরা মেক্সিকান, আমাদের উৎসব আমরা থামাবো না।‘
আইসিইর পক্ষ থেকে বাড়তি এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে কি না, সে ব্যাপারে কোনো মন্তব্য আসেনি। স্থানীয়রা বলছেন, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের অভিযান চোখে পড়েনি। তবে শনিবার বিকালেই শিকাগোতে আইসিই বিরোধী একটি বড় বিক্ষোভ হওয়ার কথা ছিল।
এর আগে লেবার ডে উপলক্ষে হাজারো মানুষ সড়কে নেমেছিলেন। ট্রাম্প সম্প্রতি ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করে বলেছেন, তিনি আইন–শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবেন। শিকাগোর পর এবার তিনি বাল্টিমোরেও সেনা পাঠানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন।










