যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুককে বরখাস্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। ফেডারেল রিজার্ভের ১১১ বছরের ইতিহাসে প্রথম কোনো প্রেসিডেন্ট কোনো গভর্নরকে বরখাস্ত করলেন। খবর সিএনএন।
এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ ট্রাম্পের সঙ্গে ফেডের চলমান বিরোধকে নতুন মাত্রায় উন্নীত করল। সুদের হার কমাতে দেরি করার জন্য ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ফেডকে দায়ী করে আসছিলেন।
তবে পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন গর্ভনর। সোমবার রাতে সিএনএনকে দেয়া এক বিবৃতিতে কুক বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাকে কারণ দেখিয়ে বরখাস্ত করার দাবি করেছেন, অথচ আইনের দৃষ্টিতে কোনো কারণ নেই। তাছাড়া তার এ ধরনের কোনো ক্ষমতাও নেই। আমি পদত্যাগ করব না। ২০২২ সাল থেকে যেমন আমেরিকার অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে কাজ করে আসছি, তেমনই দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখব।’
ফেড এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
ট্রাম্প আদৌ কুককে বরখাস্ত করার ক্ষমতা রাখেন কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আইনে বলা আছে, প্রেসিডেন্ট কেবল কারণ দেখিয়ে ফেড বোর্ডের কোনো সদস্যকে অপসারণ করতে পারেন। তবে কারণ বলতে সুনির্দিষ্টভাবে কী বোঝানো হয়েছে, তা কখনো স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত হয়নি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার চিঠিতে লিসা কুকের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আর্থিক বিষয়ে আপনার প্রতারণামূলক ও সম্ভাব্য অপরাধমূলক আচরণের প্রেক্ষিতে, আমি আপনার সততার ওপর আস্থা রাখতে পারছি না। অন্ততপক্ষে, সংশ্লিষ্ট আচরণ আর্থিক লেনদেনে চরম অবহেলার নিদর্শন, যা একজন আর্থিক নিয়ন্ত্রক হিসেবে আপনার দক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আমি মনে করছি আপনার পদ থেকে অপসারণের যথেষ্ট কারণ রয়েছে।’
সম্প্রতি ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের সদস্যদের সমালোচনার মুখে পড়েন লিসা কুক। তার বিরুদ্ধে মর্টগেজ জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগ প্রথম উত্থাপন করেন ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স ডিরেক্টর বিল পুল্টে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তারা এ অভিযোগের তদন্ত করবে। তবে এখন পর্যন্ত কুকের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের হয়নি।
সাবেক ফেডারেল প্রসিকিউটর শান উ সিএনএনকে বলেন, এখন পর্যন্ত বিচার বিভাগ কিছু খোলেনি, তাকে অভিযুক্তও করা হয়নি। তাই ‘কারণ দেখিয়ে’ বরখাস্ত করার বিষয়টি আপাতত প্রশ্নবিদ্ধ। বিষয়টি নিশ্চিতভাবেই আদালতে যাবে।
২০২২ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কুককে ফেড বোর্ডে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তিনি ফেড গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী। ট্রাম্পের এই বরখাস্তের সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে, এমনকি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে। এতে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে পড়ে গেছে।
এখনও পরিষ্কার নয়, কুককে অবিলম্বে বোর্ড ছাড়তে হবে কি না, আর হলে ট্রাম্প তার স্থলাভিষিক্ত নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন কি না। কুকের আইনজীবী অ্যাবে ডেভিড লোয়েল সিএনএনকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা এ বেআইনি প্রচেষ্টা ঠেকাতে যা যা পদক্ষেপ প্রয়োজন, তা নেব।’
ফেডের পরবর্তী আর্থিক নীতিনির্ধারণী বৈঠক আগামী ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা।










