যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অর্থায়নে পরিচালিত সংবাদ সংস্থা ভয়েস অব আমেরিকার (ভিওএ) প্রায় ৫০০ কর্মীকে ছাঁটাই করার পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ভিওএকে ‘চরমপন্থী’ আখ্যা দিয়ে এর কার্যক্রম সীমিত করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খবর বিবিসি।

ভিওএ-এর মূল সংস্থা এজেন্সি ফর গ্লোবাল মিডিয়ার (ইউএসএজিএম) ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কেরি লেক বলেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে ফেডারেল আমলাতন্ত্র কমবে, সেবার মান উন্নত হবে ও আমেরিকার জনগণের অর্থ সাশ্রয় হবে। তবে কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি ইউনিয়ন এই পদক্ষেপকে অবৈধ বলে দাবি করেছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসিদের প্রচারণার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের উদ্দেশ্যে ভিওএ প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এটি একটি বড় আন্তর্জাতিক সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান। ইউএসএজিএম জানিয়েছে, মোট ৫৩২টি পদ বাতিল করা হবে, যার বেশির ভাগই ভিওএ'তে। একটি আদালতের নথি অনুযায়ী, এই ছাঁটাইয়ের পর ভিওএ'তে মাত্র ১০৮ জন কর্মী অবশিষ্ট থাকবেন।

এর আগে, গত জুনে কেরি লেক ৬৩৯ জন কর্মীকে ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু নথি সংক্রান্ত ত্রুটির কারণে পরে আবার সেই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করা হয়। কিছু কর্মী এই সিদ্ধান্ত ঠেকাতে মামলা করেছেন।

পরে শুক্রবার রাতে নতুন করে ছাঁটাইয়ের ঘোষণা আসে। এর কিছুক্ষণ আগে এক বিচারক রায় দেন, ভিওএ-এর পরিচালক মাইকেল আব্রামোভিট্জকে বরখাস্তের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করেনি। আদালত কেরি লেককে জবানবন্দি দেয়ারও নির্দেশ দেন।

ভিওএ বন্ধের চেষ্টা ঠেকানোর জন্য কিছু কর্মী মামলা করেছেন। তারা বলেছেন, ‘লেক আমাদের প্রতিষ্ঠানের ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ চালাচ্ছেন। আমরা তার জবানবন্দির অপেক্ষায় আছি, যাতে বোঝা যাবে ভিওএ ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা কংগ্রেসের নিয়ম মেনে হয়েছে কিনা।’

তারা আরো জানিয়েছেন, হাতে কোনো প্রমাণ না থাকায় তারা আইন অনুযায়ী লড়াই চালিয়ে যাবেন।

সমালোচকরা বলছেন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর ট্রাম্পের এই আক্রমণ যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ভিওএকে ট্রাম্প-বিরোধী ও চরমপন্থী বলে অভিযুক্ত করেছে।