যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় বিচারক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তারকা ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রিও মারা গেছেন। অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ৮৮ বছর বয়সে তিনি মারা যান। পরিবারের পক্ষ থেকে তার সরকারি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে বিষয়টি জানানো হয়। খবর বিবিসি।

ক্যাপ্রিওর ছেলে ডেভিড ক্যাপ্রিও জানিয়েছেন, ভক্তদের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য তার পরিবার কৃতজ্ঞ। তিনি আহ্বান জানান, সবাই যেন তার বাবার স্মৃতিতে ভালোবাসা ও উষ্ণতার ছোঁয়া ছড়িয়ে দেয়।

আদালতে সহানুভূতি ও রসবোধের কারণে ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রিও দ্রুত মানুষের প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। তার অনুষ্ঠান ‘কট ইন প্রভিডেন্স’ এ বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্যবার দেখা হয়েছে। এই অনুষ্ঠান থেকেই মূলত তিনি ‘বিশ্বের সবচেয়ে দয়ালু বিচারক’ এর খেতাব পেয়েছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ৩৪ লাখ অনুসারীর জন্য দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, বিচারক ক্যাপ্রিও অসংখ্য মানুষকে সহানুভূতিশীল কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছেন। তার হাস্যরস ও মানবিকতার জন্য যারা তাকে চিনতেন সবার হৃদয়ে তিনি অম্লান হয়ে থাকবেন।

নিজ শহর রোড আইল্যান্ডের প্রভিডেন্সে তিনি হাজারো মামলার শুনানি করেছেন। সেখান থেকেই শুরু হয় তার টেলিভিশন ক্যারিয়ার। অনুষ্ঠানটির প্রযোজনা সংস্থা ডেবমার-মারকারি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিচারক ক্যাপ্রিওর সহানুভূতি ও সাধারণ জ্ঞানের অনন্য মিশ্রণ তাকে অন্যদের কাছ থেকে আলাদা করেছে।

‘কট ইন প্রভিডেন্স’ চলাকালে তিনবার ডেটাইম এমি অ্যাওয়ার্ডসে মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনি। শুধু গত বছরই বিচারক ক্যাপ্রিও দুটি ব্যক্তিগত মনোনয়ন অর্জন করেন। আদালতে তার স্বতন্ত্র ধারা ছিল শিশুদের বিচারকের আসনে বসানো থেকে শুরু করে নিজের মিনি-পুতুল উন্মোচন পর্যন্ত।

64521e9c-c069-400b-88bf-6cbe89c0e874

২০২৩ সালে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি জানান, শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে তিনি প্রস্তুত। মৃত্যুর আগে নিজের শেষ দিককার এক পোস্টে তিনি লেখেন, চিকিৎসায় ব্যর্থতার কারণে তাকে আবারো হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। তাই অনুসারীদের কাছে দোয়া চেয়েছিলেন তিনি।

মৃত্যুর সময় ৬০ বছরের সঙ্গী স্ত্রী জয়স ক্যাপ্রিও, তাদের পাঁচ সন্তান, সাত নাতি-নাতনি ও দুই প্রপৌত্র-প্রপৌত্রী রেখে গেছেন ফ্রাঙ্ক ক্যাপ্রিও।