বন্দিদের কাছে অবৈধভাবে পাচার করা সেলফোনের সিগন্যাল জ্যাম করার অনুমতি দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) শিগগিরই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, এসব সেলফোন ব্যবহার করে বন্দিরা কারাগারের ভেতর ও বাইরে সহিংসতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। খবর এপি।

সম্প্রতি আরকানসাসে এক সংবাদ সম্মেলনে এফসিসির চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কার জানান, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর প্রস্তাবটির ওপর ভোট হবে। এ আইন পাস হলে কারাগারে সেলফোন জ্যাম করার ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে।

বছরের পর বছর ধরে কারাগারে প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক চলে আসছে। তাই কারাগারে মোবাইল ফোন পাচার নিয়ে এটি কোনো নতুন উদ্বেগ নয়। ২০১৮ সালে সাউথ ক্যারোলাইনার এক কারাগারে সাত ঘণ্টা ধরে চলমান সংঘাতে সাত বন্দি নিহত হন। এটি ছিল ২৫ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ভয়াবহ দাঙ্গা।

এর আগে, ২০১০ সালে একই অঙ্গরাজ্যের কারাগারের বন্দিরা রবার্ট জনসন নামের এক সাবেক মাদকবিরোধী কর্মকর্তাকে গুলি করে। সেই যাত্রায় বেঁচে গেলেও তাকে ৩৬ বার অস্ত্রোপচার করতে হয়। তাই জনসন এখন জ্যামিং প্রযুক্তির একজন বড় সমর্থক।

এ উদ্যোগে সাউথ ক্যারোলিনা সবসময় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। ২০১৬ সালে এখানকার কারাগার ঘুরে দেখেন তৎকালীন এফসিসি চেয়ারম্যান অজিত পাই। পরে ২০১৯ সালে রাজ্যটির এক কারাগারে জ্যামিং প্রযুক্তির পরীক্ষা চালানো হয়। ২০২১ সালে এফসিসি এমন একটি নিয়ম অনুমোদন করে, যাতে রাজ্য কারা কর্তৃপক্ষ অবৈধ সিগন্যাল শনাক্ত করে বন্ধ করার অনুমতি চাইতে পারে। যদিও এসব আবেদন এখন পর্যন্ত ঝুলে আছে।

ফেডারেল প্রসিকিউটররা দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেসকে শতবর্ষ পুরোনো আইন পরিবর্তনের আহ্বান জানাচ্ছেন, যাতে রাজ্য কারাগারগুলো জ্যামিং প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে। এফসিসি চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কার জানিয়েছেন, নতুন ভোটের পর এ বিষয়ে আর কোনো আইনগত বাধা থাকবে না।

তবে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন সিটিআইএ বলছে, তারা অবৈধ ফোনকল প্রতিরোধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু বৈধ যোগাযোগ ও জননিরাপত্তা যেন ব্যাহত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

অন্যদিকে এফসিসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্যামিং বাধ্যতামূলক নয়। এখনো স্ক্যানার, কারাগারের চারপাশে জাল টানা ও অন্যান্য পদ্ধতিতে ফোন পাচার ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।