দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনার শহরে যেন এক অলৌকিক রাত। নাপোলি আবার সিরি আ চ্যাম্পিয়ন। কাগলিয়ারির বিরুদ্ধে এই জাদুময় রাতে মঞ্চ আলোকিত করলেন এক স্কটিশ, স্কট ম্যাকটোমিনে— নেপলসের নতুন নায়ক। তার নাম এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে ঘোরে ‘ম্যাকফ্রাটম’ নামে—নাপোলিতান ভাষায় ‘আমার ভাই’।

লিগের শেষ দিনের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে মাত্র এক পয়েন্টে এগিয়ে থাকা আন্তোনিও কন্তের নাপোলি যখন মাঠে নামে কাগলিয়ারির বিপক্ষে, তখন পাশের মাঠে কোমোর বিরুদ্ধে খেলছে ইন্টার। ২০ মিনিটেই ইন্টার স্টেফান ডে ভ্রেইয়ের হেডারে এগিয়ে গেলে স্কুদেত্তো মনে হচ্ছিল সরে যাচ্ছে নাপোলির হাত থেকে। কিন্তু ৪২তম মিনিটে ঘটে যায় সেই মুহূর্ত। ম্যাটেও পলিতানোর দুর্দান্ত ক্রসে ভেসে উঠে এক দুর্দান্ত বাইসাইকেল কিকে গোল করেন ম্যাকটোমিনে। সেই গোলেই ফেরে আত্মবিশ্বাস, ফেরে স্বপ্ন।

mctominay

ম্যাকটোমিনের বাইসাইকেল কিক। ছবি- এপি

দ্বিতীয়ার্ধের ৫১ মিনিটে রোমেলু লুকাকু তার দিকে বাড়ানো লম্বা বল নিয়ন্ত্রণে এনে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে সরিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় ফিনিশ করেন। সেই সঙ্গে নাপোলির জন্য নিশ্চিত হয়ে যায় ৩৩ বছরের অপেক্ষার অবসান—ফিরে এল স্কুদেত্তো।

২০২২–২৩ মৌসুমের শিরোপাজয়ের পর নাপোলির চতুর্থ সিরি আ শিরোপাটি গত তিন মৌসুমে তাদের দ্বিতীয় সাফল্য। আন্তোনিও কন্তের অধীনে আবার নাপোলির প্রথম শিরোপা, আর এর মাধ্যমে কন্তে সিরি আ ইতিহাসে প্রথম কোচ হিসেবে তিনটি ভিন্ন ক্লাব—জুভেন্টাস, ইন্টার এবং নাপোলির সঙ্গে স্কুদেত্তো জয়ের অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করলেন।

nap 2

একজন বিদেশী হয়েও নেপলসের হৃদয়ে রাজত্ব করা ম্যাকটোমিনে ম্যাচশেষে বলেন, ‘এ শহরের মানুষ প্রথম দিন থেকেই আমাদের পাশে থেকেছে। এদের জন্যই আমাদের এই লড়াই। এটা আমার স্বপ্নের মতো। ফেস্টেজিয়ামো, আন্দিয়ামো! চল শুরু হোক উৎসব!’

৩৪টি লিগ ম্যাচে ১২ গোল ও ৬ অ্যাসিস্ট করে মৌসুমের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়া এই মিডফিল্ডার বললেন, ‘ইতালীয় ভাষা বোঝা যায়, বলা কঠিন। কিন্তু ভালোবাসা সব ভাষার ঊর্ধ্বে।‘

অন্যদিকে, কোমোর মাঠে ইন্টারও তাদের কাজটা ঠিকঠাক করেছিল। ডে ভ্রেইয়ের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে হোয়াকিন কোরেয়ার নিখুঁত ফিনিশে ব্যবধান ২-০ করে তারা। তবে নাপোলির জয়েই শিরোপা চলে যায় দক্ষিণের শহরে।

ullash

শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে ডিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা স্টেডিয়ামে যেন আক্ষরিক অর্থেই লেগে গেল আগুন—আতশবাজি, রঙিন ধোঁয়া, হুইসেল আর কান্নাভেজা হাসি। ১৯৮৭, ১৯৯০ আর এখন ২০২৫—ম্যারাডোনার শহর তার চতুর্থ লিগ শিরোপা পেল। নেপলসের সব পথ নাকি এক ঠিকানাতেই মিশে— ফুটবল মাঠ নয়, নয় ভিসুভিয়াসের চূড়া। সেই ঠিকানা আকাশ, যেখানে তাদের দিয়েগো থাকেন। নেপলসবাসীর উল্লাসের গানে ওঠে এল সেটাই—‘দিয়েগো আমাদের দেখছেন, ওর আত্মা আজ পুরো নেপলসে জেগে উঠেছে’।