বহু বছর ধরেই ট্রফি-বঞ্চনার এক জীবন্ত প্রতীক হয়ে ছিলেন টটেনহ্যাম কিংবদন্তি ও ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন। টটেনহ্যাম ও ইংল্যান্ডের হয়ে তিনটি ফাইনালে স্বপ্নভঙ্গের পর পায়ের নিচে অবশেষে তিনি পেলেন সাফল্যের মাটি। বুন্দেসলিগায় বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে অনেকটাই ‘অনিবার্য’ শিরোপা জিতে কেইন ভাঙলেন ‘কেইনের অভিশাপ’।

এই পথ সহজ ছিল না। জার্মানিতে আসার সময় অনেকেই ভেবেছিল, বায়ার্ন মানেই শিরোপা হাতে নিয়ে মৌসুম শেষ হবে। কিন্তু কেইনের যাত্রাপথ বরাবরই নাটকীয়, আর তেমনই রয়ে গেল বুন্দেসলিগা জয়ের কাহিনিও।

গত আগস্টে যখন কেইন বায়ার্নে যোগ দেন, তখন মিউনিখে গরম পড়েছিল ৩০ ডিগ্রির ওপরে। শহরের ফ্যান শপগুলোতে ভিড় ছিল শুধু একটি জার্সির জন্য, সাদা-লাল নকশার বায়ার্ন হোম কিট, পেছনে লেখা ‘কেইন নাইন’।

কিন্তু সেদিনই ডিএফএল-সুপারকাপে রিজার্ভ বেঞ্চে বসে কেইন দেখেন আরবি লাইপজিগের কাছে ৩-০ গোলে পরাজয়। মাঠে নামার পরেও কিছু করতে পারেননি। আর সেখান থেকেই জন্ম নেয় ‘কেইনের অভিশাপ’-এর গল্প। টানা ১১ মৌসুম বুন্দেসলিগার শিরোপা জয় করা বায়ার্নও গত বছরই লেভারকুসেনের পরে থেকে শেষ করল লিগ। ‘কেইনের অভিশাপ’-এর পালে তো কম হাওয়া লাগেনি!

kane 2

তবে সেসবকে পেছনে ফেলে মিউনিখে শুধু একজন গোলস্কোরার নন, কেইন হয়ে উঠেছেন ক্লাবের বেশ জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। খেলোয়াড়, সমর্থক ও ক্লাব সংস্কৃতির সঙ্গে এমন নিবিড়ভাবে মিশে যাওয়া– এটা লেভানদোভস্কিকেও দেখা যায়নি।

টমাস মুলার শুরু থেকেই ছিলেন কেইনের গাইড, তাকে ক্লাবের সিনিয়র লিডারশিপ টিমে টেনে নিয়েছিলেন। জার্মান ভাষা না জানলেও মাঠে কেইনের পারফরম্যান্স ছিল দারুণ। প্রথম মৌসুমেই বুন্দেসলিগায় করেছেন ৩৬ গোল, মোট ৪৪ গোল নিয়ে লেভানদোভস্কির রেকর্ডেও হুমকি দিয়েছেন। মার্চে সেন্ট পাউলির বিপক্ষে গোল করে পৌঁছে গেছেন ১০০টি গোল সংশ্লিষ্টতায়—৭৭ গোল, ২৩ অ্যাসিস্ট।

লেভানদোভস্কির মতো কেইন না ছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বী দলের তারকা, না চেয়েছেন অন্য লিগে যাওয়ার সুযোগে ক্লাবকে চাপ দিতে। কেইন তাই এখানে ‘প্রিয়’ হয়ে উঠেছেন, শুধুই ‘প্রয়োজনীয়’ নয়।

তবে সমালোচনা থেকেও মুক্ত ছিলেন না কেইন। চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টারে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে গোল মিস, কিংবা ইউরোতে পিঠের ইনজুরির কারণে ব্যর্থতা—এসব নিয়েই ছিল চাপ। কিন্তু কেইন বারবার প্রমাণ করেছেন তিনি শুধু এক গোলমেশিন নন, একজন দলনেতা, একজন অনুপ্রেরণা।

শেষ পর্যন্ত, লেভারকুসেনের ড্র আর বায়ার্নের ধারাবাহিকতায় এই মৌসুমে কেইন পেলেন তার কাঙ্ক্ষিত শিরোপা। এই সাফল্য শুধু ট্রফি জয়ের নয়, নিজের সীমাহীন নিষ্ঠার স্বীকৃতিও। সাফল্যের স্বাদ অবশেষে পেলেন তিনি—বায়ার্নের ঐতিহ্যবাহী বিয়ার-স্নানে গা ভিজিয়ে নেয়ার মতো!