মাইকেল মুক্তি পেয়েছে ২২ এপ্রিল। দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা টু মুক্তি পেয়েছে ১ মে। মাইকেল এক সপ্তাহে আয় করেছে ৩০ কোটি ডলারের কিছু বেশি। দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা টু প্রথম দিনই আয় করেছে ৩ কোটি ডলারের বেশি।

দুটো সিনেমা নিয়েই দর্শকের নস্টালজিয়া আছে। পাশাপাশি দর্শকের আগ্রহ ও তারকাখ্যাতিও কাজে লেগেছে। দুটো সিনেমার মধ্যে যে প্রতিযোগিতা চলছে, তা শুধু আয়ের অংকের লড়াই নয়, এটি দর্শকের রুচি, নস্টালজিয়া ও তারকাখ্যাতির এক বহুমাত্রিক প্রতিফলন। একদিকে সংগীত কিংবদন্তিকে ঘিরে নির্মিত মাইকেল, অন্যদিকে ফ্যাশন জগতের গ্ল্যামারাস গল্পের ধারাবাহিকতা দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা টু। এ দুই সিনেমা ভিন্ন স্বাদের হলেও একই মঞ্চে দর্শক টানার প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

মাইকেল মূলত মাইকেল জ্যাকসনের জীবন ও ক্যারিয়ারের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। পপ সংগীতের ইতিহাসে তিনি এক অনন্য আইকন, তার জীবনের গল্প দর্শকের জন্য সবসময়ই আকর্ষণীয়। এ আগ্রহই বক্স অফিসে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩০ কোটি ডলারের আয় পার করে সিনেমাটি এরই মধ্যে ‘এলভিস’কে (২০২২) পেছনে ফেলেছে এবং এখন ‘বোহেমিয়ার রÅvপসোডি’র (২০১৮) পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়কারী মিউজিক্যাল বায়োপিক হওয়ার পথে। তবে বোহেমিয়ান রÅvপসোডিকে টপকানো হয়তো সম্ভব হবে না, কেননা সিনেমাটি ৯১ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছিল।

এ সিনেমার সাফল্যের বড় কারণ এর আন্তর্জাতিকতা। সিনেমাটি যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ড থেকে আয় করেছে ২ কোটি ১৮ লাখ ডলার। ফ্রান্সে বৃহস্পতিবার ১৩ লাখ ডলার অর্জন করে মোটের ওপর আয় করেছে ১ কোটি ৪২ লাখ ডলার। মেক্সিকো থেকে আয় হয়েছে ১ কোটি ২৯ লাখ ডলার। জার্মানিতে এর আয় প্রায় ১ কোটি ডলার।

পরিচালক অ্যান্টোনি ফুকুয়া এ বায়োপিককে শুধু একটি জীবনকাহিনী হিসেবে নয়, বরং এক ধরনের সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতায় রূপ দিয়েছেন। ফলে দর্শক শুধু গল্পই দেখছে না, বরং এক যুগের সংগীত ইতিহাসকে অনুভব করছে।

অন্যদিকে ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা টু’ একেবারেই ভিন্ন কৌশলে দর্শককে টানছে। এটি নস্টালজিয়ার ওপর দাঁড়িয়ে তৈরি। ২০০৬ সালের জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের ধারাবাহিকতা হিসেবে মুক্তির প্রথম দিনই ৩ কোটি ২৫ লাখ ডলার আয় করে এটি প্রমাণ করেছে। সপ্তাহান্তে এর আয় ৯ কোটি ডলার পর্যন্ত পৌঁছার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ সিকুয়ালের অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো এর তারকা কাস্ট। মেরিল স্ট্রিপ অভিনীত মিরান্ডা প্রিস্টলি চরিত্র আবারো দর্শকের সামনে এসেছে। পাশাপাশি থাকছে অ্যান হ্যাথাওয়ে অভিনীত অ্যান্ডি স্যাক্স। আছেন এমিলি ব্লান্টও।

এ সিনেমার সাফল্য প্রমাণ করছে যে দর্শক শুধু নতুন গল্প নয়, পরিচিত চরিত্রের পুনরাগমনও সমানভাবে উপভোগ করে। ফ্যাশন, ক্ষমতা ও সম্পর্কের জটিলতা মিলিয়ে এ ড্রামা পুরনো দর্শকের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকেও টানছে।

তবে এ সাফল্যের মাঝেই মাইকেল কিছুটা চাপে পড়েছে। দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে এটি বক্স অফিসে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেলেও এর আয়ের ধারাবাহিকতা এখনো বজায় আছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এ সিনেমাই হয়তো বেশি লাভজনক প্রমাণ হবে, কারণ বায়োপিক সাধারণত ধীরে ধীরে আয় বাড়ায়।

সব মিলিয়ে বর্তমান বক্স অফিস চিত্র এক ধরনের দ্বৈত প্রবণতা তুলে ধরছে। একদিকে বাস্তব জীবনের কিংবদন্তির গল্প, যা আবেগ ও ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত; অন্যদিকে গ্ল্যামার ও বিনোদনের জগৎ, যা দ্রুত দর্শক আকর্ষণ করে। মাইকেল ও দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা টু প্রমাণ করছে, ভিন্ন ঘরানার হলেও সঠিক উপস্থাপন ও শক্তিশালী কনটেন্ট থাকলে উভয়ই সফল হতে পারে।

4