সম্প্রতি থাইল্যান্ডে শেষ হয়েছে ৭৪তম মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা ২০২৫। এতে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের মডেল ও অভিনেত্রী তানজিয়া জামান মিথিলা। এরই মধ্যে অনুষ্ঠান শেষে দেশে ফিরেছেন তিনি। প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার অভিজ্ঞতা, আগামীর পরিকল্পনা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান
মিস ইউনিভার্সের ৭৪তম আসরে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরেছেন কয়েক দিন হলো—এ মুহূর্তে কেমন বোধ করছেন?
এ মুহূর্তে খুব ভালো অনুভব করছি। অনেক দিন পর দেশে ফিরলাম। সবাই এত ভালোবাসা দিচ্ছে, এত অ্যাপ্রিশেয়েট করছে—এটা আমার খুব ভালো লাগছে।
এবারের আসরে আপনার ১৯ দিনের যাত্রার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
প্রথম দিকে বুঝিনি যে এত প্রেশার যাবে। প্রথমে মজা করেই অংশগ্রহণ করেছিলাম, তবে অবশ্যই বড় রেসপনসিবিলিটি ছিল যে ওখানে গেলে বাংলাদেশের জন্য কিছু বয়ে নিয়ে আসতে হবে। কারণ মানুষ আমার ওপর অনেক আস্থা রেখেছে। সেখানে গিয়ে বুঝেছি—এটা শুধু মানসিক না, ফিজিক্যাল স্ট্রেন্থ, টেকনিক্যাল বিষয়, মেন্টাল স্ট্রেনথ... আরো অনেক কিছু দরকার। এর বাইরেও প্রচুর প্রিপারেশন লাগে। সব মিলিয়ে আমার মনে হয়েছে—আরো প্রস্তুতি নিয়ে যেতে পারলে ভালো হতো। সব মিলিয়ে জার্নিটা আমার কাছে দারুণ লেগেছে। সবচেয়ে ভালো লেগেছে—লাল–সবুজের পতাকা নিয়ে ১৮ কোটি মানুষের স্বপ্নকে সঙ্গে নিয়ে আমি বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করতে পেরেছি।
নতুন পার্টিসিপেন্ট হিসেবে বিভিন্ন পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে কীভাবে মানিয়ে নিলেন?
আমি এর আগেও আরো বিউটি প্যাজেন্টে গিয়েছি, দেশের বাইরেও বিভিন্ন কাজ করেছি। কাজের ক্ষেত্রে এবং ব্যক্তিগত ভ্রমণেও আমি অনেক দেশে গিয়েছি। বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব, বিভিন্ন কালচারের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেয়া, নতুন দেশে গিয়ে বন্ধু বানানো—এসব আমার জন্য কঠিন ছিল না। কেউ যদি কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়া বাংলাদেশ থেকে হঠাৎ যায়, তার জন্য হয়তো কঠিন হতো—কিন্তু আমার ক্ষেত্রে হয়নি।
বললেন আরো প্রস্তুতি দরকার ছিল। কোন কোন জায়গায় মনে হয়েছে প্রস্তুতি কম ছিল?
আমার কাছে মনে হয়েছে—আমাদের আরো স্পনসর দরকার ছিল। মিস ইউনিভার্সের মতো বড় প্রোগ্রামে অনেক স্পনসর লাগে। আয়োজকদের সঙ্গে সরকারের একটা সম্পর্ক থাকতে হয়, বিভিন্ন দেশের বড় বড় স্পনসর ছিল, কিন্তু আমাদের দেশ থেকে ছিল না।
বাংলাদেশী ডিজাইনারদের আমি ভালোভাবে প্রমোট করতে পারিনি। আমাদের বড় ডিজাইনাররা বেশির ভাগই ট্র্যাডিশনাল পোশাক বানান। ট্র্যাডিশনাল পোশাক তো ইন্টারন্যাশনাল প্রোগ্রামে সব সময় পরা যায় না—এক-দুইবার দেশকে রিপ্রেজেন্ট করার জন্য পরা যায়। আমি পোশাকের ক্ষেত্রেও কোনো সাপোর্ট পাইনি।
আমি মাত্র দুই-তিনটা পোশাক নিয়ে গিয়েছিলাম। একটি পুরো প্রোগ্রামে দরকার হয় ৫০-৬০টা পোশাক। তাই আমাকে পোশাকের জন্য বিভিন্ন সময় দৌড়াতে হয়েছে। ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া—এসব দেশ থেকে পোশাক সংগ্রহ করতে হয়েছে।
এছাড়া অন্যান্য দেশ থেকে জার্নালিস্টরা গিয়ে কভার করেছে—ভিডিও করেছে, ছবি তুলেছে। কিন্তু আমাদের দেশ থেকে কেউ ছিল না। এসব দিক থেকে চিন্তা করলে মনে হয়েছে—বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে। তাই দেশে ফিরে বলেছি—বাংলাদেশকে জেতাতে হলে অনেক মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে, অনেক কাজ করতে হবে। মেয়েদের আরো ট্রেনিং দিতে হবে, স্টাইলিং জানতে হবে—অনেক সীমাবদ্ধতা আছে আমাদের।
এ আসরে নিজের পারফরম্যান্সকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
আমি জেতার জন্যই গিয়েছিলাম, ঘুরতে যাইনি। আমার মাথায় কখনই আসেনি যে বাংলাদেশ জিততে পারবে না বা আমি কিছু করতে পারব না। আমি বিউটি প্যাজেন্ট নিয়ে অনেক স্টাডি করেছি, নানা জায়গা থেকে শিখেছি। নিজের চেষ্টা অনুযায়ী যা করেছি—সেটার জন্য আমি গর্বিত।
প্রতিযোগিতার বাইরে অন্য দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
বিভিন্ন দেশের অনেক প্রতিযোগীর সঙ্গেই আমার বন্ধুত্ব হয়েছে—ব্রাজিল, থাইল্যান্ড, ভেনিজুয়েলা, ফিলিপাইন... সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক হয়েছে। সামনেও বন্ধুত্বটা বজায় থাকবে। তারা বাংলাদেশকে ইতিবাচকভাবে দেখেছে যে বাংলাদেশ থেকেও ভালো পার্টিসিপেন্ট যেতে পারে।
ভবিষ্যতে যদি কোনো বাংলাদেশী তরুণী এ মঞ্চে যেতে চায়, তাদের জন্য আপনার কোনো পরিকল্পনা আছে?
আমার কখনো ইচ্ছা ছিল না যে বিউটি প্যাজেন্টের জন্য স্কুল খুলব। কিন্তু এবার গিয়ে মনে হয়েছে বাংলাদেশের মেয়েদের অনেক কিছু শিখে সেখানে যেতে হবে, যদি সত্যিকারের উইনার হতে চায়। তাই আমি ফেসবুকে জানিয়েছি—একটি ট্রেনিং স্কুল খুলছি। এখানে মেয়েদের বিউটি প্যাজেন্টের ওপর ট্রেনিং দেব—যাতে ভবিষ্যতে যারা যাবে, তারা কিছু করে আসতে পারে।
যারা আপনাকে ভোট দিয়েছেন তাদের উদ্দেশে কী বলবেন?
যারা আমাকে সাপোর্ট করেছে, ভালোবেসেছে তারা আসলে নিজেদের প্রকৃত দেশপ্রেমিক হিসেবে প্রমাণ করেছে। কারণ তারা আমাকে ভোট করেনি, বাংলাদেশকে জেতানোর জন্য ভোট করেছে। সবাই যদি এভাবে এগিয়ে আসে, বাংলাদেশও অন্যদের মতো উইনার হবে।
জাহিদ প্রিতমের ওয়েবে আপনি যে কাজটি করেছেন—এটি মুক্তি পেয়েছে। এ ওয়েব নিয়ে যদি বলতেন?
এটা আমি যাওয়ার আগেই করে গিয়েছিলাম। এখন মুক্তি পেয়েছে। আমি অভিনয়টা কনটিনিউ করব। আমি অভিনয়টা শিখতে চাই—বড় পর্দা, ছোট পর্দা—সব জায়গাতেই কাজ করব।










