দুই বছর পর আবারো নাটকে ফিরেছেন সারিকা সাবাহ্। এ বিরতিতে তিনি টিভিসি, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শো ও ওটিটিতে কাজ করলেও নাটক থেকে ছিলেন দূরে। দীর্ঘ বিরতির পর নাটকে ফেরা ও অন্যান্য বিষয়ে সারিকার সঙ্গে কথা বলেছেন অহিদুর রহমান
বিরতির পর আবার ক্যামেরার সামনে, এ ফেরার অনুভূতি কেমন?
আমি আসলে গত দুই বছর অনেক টিভিসি করেছি। অনেক ব্যান্ডের সঙ্গে ছিলাম, শো করেছি। এছাড়া মাঝখানে ওটিটি সিরিজ ‘গুলমোহর’-এ কাজ করেছি। আমি গত দিনগুলোয় ক্যামেরার বাইরে ছিলাম না। শুধু নাটক করা হয়নি এ সময়ে। কারণ নাটকের গল্পগুলো সব একঘেয়েমি মনে হতো। আমার মনে হয়েছিল ভালো গল্প ও ভালো ডিরেকশন লাগবে, সে কারণেই নাটক থেকে বিরতি নিয়েছিলাম। যেহেতু দর্শক আমাকে নাটকে চেনে, আমি দীর্ঘ সময় পর নাটকে কাজ করে যখন দর্শকের সাড়া পাচ্ছি, তখন মনে হচ্ছে আমি আবার আমার নিজের জায়গায় ফিরে এসেছি। অবশ্যই এ অনুভূতি ভালো লাগার।
দীর্ঘ বিরতির কারণ কী ছিল?
আমার কাছে মনে হয়েছিল, আমার গল্পগুলো সব একঘেয়েমি হয়ে যাচ্ছে, ডিরেক্টর সংকটও ছিল। আমাকে নিয়ে এমন গল্প এমন চরিত্র পাচ্ছিলাম না। দেখা গেছে, কোনো ভালো ডিরেক্টরের তৈরি করা চরিত্র যা আমি করেছি, পরবর্তী সময়ে সেই একই ধরনের চরিত্রই পাওয়া যেত। তাই মনে হয়েছিল, আমি একটু ভিন্ন কিছু করতে চাই। সে কারণে নাটক থেকে বিরতি নিয়েছি। আমি দুই বছর নাটক থেকে গ্যাপ নিয়েছি; এর মাঝখানে আমি অনেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছি।
অনেক নাটকে চরিত্র প্রায় একই রকম হয়ে যায়। আপনি কীভাবে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করতে চান?
দর্শক আমাকে আমার অভিনয়ের জন্য পছন্দ করেন। আমি সবসময় গল্পের নায়িকা হতে চেয়েছি। যেকোনো গল্প আমি অভিনয় দিয়ে জয় করতে চাই। আমি মনে করি এমন ধরনের গল্প চাই, যেখানে অ্যাক্টিং দেখানোর সুযোগ আছে এবং আমার চরিত্রের ভ্যারিয়েশন পাওয়া যায়, এমন গল্পেই আমি কাজ করতে চাই। এখনো বেশ কয়েকটি কাজের ব্যাপারে কথা চলছে এবং আমি যেমন চাই, তেমন ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রের স্ক্রিপ্ট পাচ্ছি।
চরিত্র বেছে নেওয়ার সময় সবচেয়ে বেশি কোন বিষয়গুলো বিবেচনা করেন?
আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ যে গল্পগুলো আমি দর্শককে বলতে চাই — যে ধরনের গল্পের আমি নিজে একজন দর্শক, সেই ধরনের গল্পে আমি অভিনয় করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। এমন ক্রিপ্ট পেলে অবশ্যই হ্যাঁ বলি। যে কাজে সমাজে নেগেটিভ মেসেজ যাবে — এমন কাজ আমি স্ক্রিনে দেখাতে চাই না। যখন আমি অভিনয় শুরু করেছিলাম তখন অনেক বিষয়ে জ্ঞান ছিল না; অনেক ধরনের কাজ করেছি যেগুলো পরে রিগ্রেট করেছি। মনে হয়েছে আমি এটা না করলেও পারতাম। এ কারণেই এখন আমি যে ধরনের চরিত্রে বিশ্বাস রাখি এবং যে ধরনে কাজের আমি নিজে দর্শক—সে ধরনের ক্রিপ্টে কাজ করতে চাই। আর অবশ্যই ভালো ডিরেকশন চাই।
গুলমোহরের মতো ওয়েব প্রজেক্টে কাজ করে অভিনয়ের দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে বদলেছে?
গুলমোহরে আমি সবচেয়ে জুনিয়র অ্যাকট্রেস ছিলাম। আমার চেয়ে সবাই অনেক জ্ঞানী ও অভিজ্ঞ ছিলেন। অভিনয়ের বিষয়ে সবার থেকে আমার জ্ঞান কম ছিল। আমি এখন পর্যন্ত যা করেছি, বেশির ভাগই দেখে দেখে শিখেছি। গুলমোহরে কাজ করে বুঝেছি, সিনিয়ররা কত কষ্ট করে অভিনয় করেন। তাদের অভিনয়ের জ্ঞান অনেক বিস্তর, যা আমাদের বর্তমান জেনারেশনের তুলনায় বেশি। গুলমোহর টিমের সঙ্গে কাজ করে আমি সিনিয়র শিল্পীদের কাছ থেকে অনেক কিছুই শিখেছি এবং তাদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছি।
ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ইনিংসে সারিকা সাবাহ্ কেমন হবেন?
ক্যারিয়ারে নাটকের জন্য এটি আমার দ্বিতীয় অধ্যায় বলা যায়। আগে যে ভুলগুলো করেছি, সেগুলো আর করতে চাই না। নিজেকে নতুন গল্পে, নতুন ক্যারেক্টারে প্রেজেন্ট করতে চাই।
বড় পর্দায় সুযোগ এলে কি সে সুযোগ গ্রহণ করবেন?
আমি প্রায় ছয় বছর ধরে কাজ করছি। এখন অনেক ভালো সিনেমা হচ্ছে, আমার বয়সের অনেকে সিনেমা করছে। যেহেতু আমি এখনো সিনেমা করিনি, তাই আমি চাই একটু বেশি প্রস্তুতি নিয়ে শুরু করতে। আমি এ মুহূর্তে সিনেমা করার জন্য প্রস্তুত, তবে যদি আমার মনের মতো গল্প, চরিত্র ও ভালো ডিরেক্টর পাই। যারা আমাকে সুন্দরভাবে রিপ্রেজেন্ট করতে পারবেন, তখনই আমি সিনেমা করব।
কাজের বাইরে কী নিয়ে বাঁচেন?
অভিনয়ের বাইরে আমি ঘুরতে পছন্দ করি। পরিবারকে সময় দিতে পছন্দ করি। বই পড়তে পছন্দ করি। গান করতে পছন্দ করি। এছাড়া রান্না করতেও পছন্দ করি।
নতুন কাজের খবর আছে কি?
কিছু ফিকশন নিয়ে কাজের কথা আছে। এছাড়া ওটিটির কিছু সিরিজ ও ওয়েবফিল্ম নিয়েও কথা চলছে। এগুলো নিয়ে আপাতত এগিয়ে যাচ্ছি।










