অক্টোবরের শেষ মানে হ্যালোইনের সপ্তাহ। আর হ্যালোইন মানে হরর—ভূত, প্রেত ও অন্যান্য। চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে শুরু থেকেই হরর ছিল জনপ্রিয়। এখনো তা কমেনি। আর এ ধারাকে আধুনিকায়ন করেছেন কয়েকজন পরিচালক। তাদের নিয়েই এ আয়োজন।

জর্ডান পিল

গেট আউট দিয়েই তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত। আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গ জীবনের বিপদ, সূক্ষ্মতা ও বৈপরীত্য নিয়ে তৈরি করেছেন রূপকচিত্রের এক নতুন অভিধান। গেট আউট ছাড়াও নির্মাণ করেছেন ‘নোপ’ ও ‘আস’। তবে গেট আউটের ধারা অনুসরণ করেছেন বহু নির্মাতা। আর পিল নিজে তৈরি করেছেন মাঙ্কিপাও নামের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। সেখানে এ ধরনের সিনেমা নির্মাণে গুরুত্ব দেয়া হয়।

রবার্ট ইগার্স

হররে ইগার্সের নাম লেখা থাকবে আলাদা করে। ২০২৪ সালে ‘নসফেরাতু’র মাধ্যমে ড্রাকুলাকে নতুন করে হাজির করেছিলেন। এছাড়া দ্য লাইটহাউজ ও দ্য উইচ প্রভাবিত করেছে তরুণ পরিচালকদের।

জেন শোনব্রুন

এই শতাব্দীর অর্থাৎ নতুন প্রজন্মকে নিয়ে তার হররের গল্প। তিনি ইন্টারনেটে বুঁদ থাকা যুগের নিঃসঙ্গতা ও অর্থপূর্ণ সম্পর্কের প্রতি সমান সংবেদনশীল। পপ সংস্কৃতির থিমগুলোকে তাদের পরিচয় ও বডি হররের ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশিয়ে ‘আই স দ্য টিভি গ্লো’র মতো চলচ্চিত্রে তিনি আত্মপরিচয়ের অনুসন্ধান করেছেন।

ডেমিয়েন লিওন

লিওনের টেরিফায়ার ত্রয়ী হলো এ শতাব্দীর হররে সবচেয়ে বড় সাফল্যের উদাহরণ। এ সিনেমাগুলো প্রমাণ করেছে, কম বাজেটের চলচ্চিত্রও হিটে পরিণত হতে পারে। জেসন বা ফ্রেডির পরবর্তী কেউ নয়, তার মানসিক বিকারগ্রস্ত ক্লাউন আর্ট প্রমাণ করে যে জনতার রক্তপিপাসা আজও আছে।

রোজ গ্লাস

সেইন্ট মড ও লাভ লাইস ব্লিডিংয়ের পরিচালক। তিনি বাস্তবতা ও বিভ্রমের সীমারেখা মুছে দিয়ে তৈরি করেছেন এমন কিছু নারীর প্রতিচ্ছবি যারা নিবেদন থেকে অপ্রাকৃতে যাত্রা করেন। গ্লাসের চলচ্চিত্র হররের এক নতুন ধারা তৈরি করেছে যা কল্পনাকে নিয়ে যায় আরো দূরে।

ড্যানি ও মাইকেল ফিলিপ্পু

ইউটিউবের পুরনো ধারা থেকে এসেছেন এই দুই ভাই। কিন্তু হররে তারা যুক্ত করেছেন নতুন মাত্রা। টক টু মি ও ব্রিং হার ব্যাকের মতো চলচ্চিত্রে তারা আতঙ্কের প্রদর্শনী সাজিয়েছেন। পাশাপাশি বিশ্বাসযোগ্যভাবে দেখিয়েছেন আজকের তরুণরা কীভাবে ভাবে ও আচরণ করে। চলচ্চিত্র-শিক্ষার্থীরা তাদেরকে অনুসরণ করে।

জুলিয়া ডুকুরনো

হররকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে কাজ করেছেন জুলিয়া। আর্টহাউজ ধারায় যেভাবে সিনেমায় সৌন্দর্য রাখা হয় তার সঙ্গে হররকে মিশিয়েছেন। টাইটান সিনেমার জন্যই তিনি বেশি বিখ্যাত। কানে পেয়েছিলেন পাম ডিঅর। উৎসবের ইতিহাসে প্রথমবার কোনো হরর চলচ্চিত্রকে দেয়া সর্বোচ্চ পুরস্কার।

না হং-জিন

এশিয়া থেকে উঠে আসা সাম্প্রতিককালের অন্যতম প্রতিভা। দক্ষিণ কোরীয় এ পরিচালক নির্মাণ করেছেন এক অনন্য লোকজ হরর দ্য ওয়েইলিং। এছাড়া সহলেখক ছিলেন দ্য মিডিয়ামের। কোরিয়ান সিনেমার পাশাপাশি বিশ্ব চলচ্চিত্রেও এ দুই চলচ্চিত্র প্রভাব রেখেছে। অপরিসীম আত্মবিশ্বাস ও পরিমিতবোধ দেখা যায় তার নির্মাণে। হলিউডের নিয়মিত ছাঁচের বাইরে গিয়ে তিনি হররে সৃষ্টি করেছেন নিজের নতুন ভাষা।

সূত্র ও ছবি: দ্য গার্ডিয়ান