অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন তরুণ অভিনেতা সৌম্য জ্যোতি। পড়াশোনার পাশাপাশি যুক্ত হচ্ছেন নতুন অভিজ্ঞতায়। গত কোরবানির ঈদে মুক্তি পাওয়া উৎসব সিনেমায় তার অভিনয় দর্শক প্রশংসা পায়। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া জাহিদ প্রীতমের থার্সডে নাইটে অভিনয় করেছেন সৌম্য। এ ফিল্ম ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন অহিদুর রহমান

শুনেছি দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষার জন্য গিয়েছেন, বিস্তারিত যদি জানাতেন।

আমি অস্ট্রেলিয়ায় মাস্টার্স করছি। পড়াশোনার পাশাপাশি নানা অভিজ্ঞতা যুক্ত হচ্ছে। এখানে আমি অভিনয়ের ওপর বিভিন্ন ওয়ার্কশপ করছি, যা আমার ভবিষ্যৎ কাজের ক্ষেত্রেও সাহায্য করবে।

‘থার্সডে নাইট’-এ অভিনয় করেছেন। রহস্যময় এ গল্পে কাজের অভিজ্ঞতা জানতে চাই।

পরিচালক জাহিদ প্রীতমের সঙ্গে এটা আমার প্রথম কাজ। তিনি খুবই ভালো একজন পরিচালক এবং অভিনয়শিল্পীদের কাছ থেকে যেভাবে অভিনয় বের করে আনেন, সেটা তার সবচেয়ে শক্তিশালী জায়গা। তার সঙ্গে আমার কাজ করতে সত্যিই খুব ভালো লেগেছে।

এছাড়া তার গল্প বলার ধরনও বেশ ইউনিক। আমাদের সঙ্গে ছিলেন রেহান ভাই, মিথিলা আপু—তারা সবাই আমার সিনিয়র। তাদের সঙ্গে এটা আমার প্রথম কাজ। সবার সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতেও আমাকে অনুপ্রাণিত করবে।

দর্শক যে ‘উৎসব’-এর পর বিরতি লক্ষ করেছে, তার কারণ কী?

উৎসবের পরে মনে হয়নি আমি খুব বড় কোনো বিরতি নিয়েছি। উৎসব রিলিজ হয়েছিল জুলাইয়ে, আর থার্সডে নাইট নভেম্বরে। আমার কাছে এটা তেমন বিরতি মনে হচ্ছে না। একটা চরিত্র থেকে বের হয়ে নতুন চরিত্রে ঢুকতে, গল্প নির্বাচন করতে এসব ক্ষেত্রে সময়টা স্বাভাবিকভাবেই প্রয়োজন হয়। আসলে আমি ভালো কাজের অপেক্ষা করি এবং চাই প্রতিটি কাজে সময় নিয়ে মনোযোগ দিতে। তখনই মনে হয় কাজটা ঠিকভাবে করতে পারব।

দেশে ফেরার পরিকল্পনা কবে, আর ফেরার পর কী ধরনের কাজের সঙ্গে ফিরবেন?

মাস্টার্স শেষ করে অথবা সেমিস্টার ব্রেকে দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে। দেশে ফিরে কী ধরনের কাজে ফিরব, এটা এখনো নির্দিষ্ট করে ভাবিনি। পরিচালকরা আমাকে কী ধরনের কাজ অফার করেন, সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেব। আমি এক ধরনের প্ল্যান করলাম মানেই সেটা চূড়ান্ত নয়। পরিচালকরা আমাকে নিয়ে কী ভাবছেন, সেটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি কাজ করতে ভালোবাসি, অভিনয় করতে ভালোবাসি। একজন অভিনেতা হিসেবে সবসময় পরিচালকের ওপর ভরসা রাখি। যে চরিত্রে তারা আমাকে দেখতে চান, আমি চেষ্টা করি সেটাকে সেরাভাবে ফুটিয়ে তোলার।

ওটিটি, সিনেমা ও নাটক—ভবিষ্যতে কোন মাধ্যমকে বেশি গুরুত্ব দিতে চান?

আমার কাছে অভিনয়টাই আসল। সেটা ওটিটি, সিনেমা বা নাটক—যেকোনো মাধ্যমেই হোক না কেন, আমি পার্থক্য করি না। কাজের সময়কাল ১ মিনিট হোক বা ১ ঘণ্টা, এটা আমাকে ভাবায় না।

আমি ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি, আর দর্শকের জন্য অভিনয় করতে সবসময়ই ভালো লাগে। তবে সিনেমা করার ইচ্ছে আমার বেশি। দর্শক আমাকে কোন ধরনের চরিত্রে দেখতে চান, সেটাও বড় বিষয়। যদি দর্শক উৎসবের মতো চরিত্রে আমাকে আরো দেখতে চান, তাহলে আমি অবশ্যই বড় পর্দায় ভিন্নধর্মী কিছু করতে চাই।

বিদেশে সময় কাটানোর সময় কি কোনো নতুন স্কিল বা অভিনয় কৌশল শিখেছেন?

হ্যাঁ, অস্ট্রেলিয়ায় বিভিন্ন অভিনয়ের ওয়ার্কশপ করছি। এখানকার সমাজ আর মানুষের ধরন আমাদের দেশ থেকে ভিন্ন।

নতুন মানুষ, নতুন পরিবেশ সবকিছুই আমাকে শেখাচ্ছে। আমি মানুষের আচরণ পর্যবেক্ষণ করে চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে পছন্দ করি, আর এখানকার ডিফারেন্ট কালচার আমাকে সে পর্যবেক্ষণে নতুন অভিজ্ঞতা দিচ্ছে।

ভবিষ্যতে কোন ধরনের গল্প বা চরিত্র নিয়ে দর্শকের সামনে আসতে চান?

হ্যাঁ, সামনে কিছু কাজ আছে। তবে এখনই বিস্তারিত বলতে পারছি না, কারণ এগুলো এখনো প্রাইমারি ধাপে আছে। শিগগিরই হয়তো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।