গল্পনির্ভর এ সিরিজটি দর্শকদের ব্যাপক সাড়া পেয়েছে। ৫২তম পর্বে এসে থেমেছে নাটকটির যাত্রা। গতকাল বেলা ৩টায় ইউটিউবে ‘সিনেমাওয়ালা’ চ্যানেলে এসেছে এর শেষ পর্ব। এই সিরিজ ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে নির্মাতা মোস্তফা কামাল রাজ কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন অহিদুর রহমান

‘এটা আমাদেরই গল্প’ ৫২ পর্বে শেষ হয়েছে, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যাত্রাটা কেমন ছিল?

এই যাত্রাটা আমার জন্য ভীষণ আবেগের, চ্যালেঞ্জিং এবং একই সঙ্গে পরিপূর্ণ এক অভিজ্ঞতা। শুরুতে ছোট একটা ভাবনা থেকে যাত্রা শুরু হলেও ধীরে ধীরে এটি একটি পরিবারের মতো হয়ে উঠে। প্রতিটি চরিত্র, প্রতিটি দৃশ্য, প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের জীবনের অংশ হয়ে গিয়েছিল। হাসি, কান্না, সংগ্রাম আর ভালোবাসা সব মিলিয়ে এই ৫২ পর্ব যেন এক জীবন্ত গল্পের পথচলা।

ধারাবাহিকটি দর্শক প্রশংসায় ভাসছে, শুরু করার সময় কি এত বড় সাফল্যের কথা ভেবেছিলেন?

এত বড় সাফল্যের কথা শুরুতে কল্পনাও করিনি। আমি শুধু একটি গল্প বলতে চেয়েছিলাম। তবে বিশ্বাস ছিল, যদি গল্পটা হৃদয় ছুঁতে পারে, তাহলে দর্শক তা আপন করে নেবেন। আল্লাহর রহমতে দর্শকদের ভালোবাসা আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি পেয়েছি।

ধারাবাহিকটি ৫২ পর্বে শেষ করার সিদ্ধান্ত কেন নিলেন? আরো বাড়ানোর সুযোগ কি ছিল?

প্রতিটি গল্পের একটি স্বাভাবিক পরিণতি থাকে, সেটাকে মাথায় রেখে ৫২ পর্বে শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চাইলে হয়তো আরো বাড়ানো যেত, কিন্তু তাতে গল্পের গভীরতা ও গুণগত মান নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। আমি চেয়েছি দর্শক যেন একটি পূর্ণাঙ্গ ও সুন্দর সমাপ্তি পান।

শেষ পর্ব ৯২ মিনিট কেন?

শেষ পর্বটিকে আমি একটু বিশেষ পর্ব করে তুলতে চেয়েছি এবং সেটা শুরু থেকেই প্ল্যান ছিল। এতদিনের গল্পের সব আবেগ, সম্পর্কের সমাধান এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরার জন্য সময়টা প্রয়োজন ছিল। তাই ৯২ মিনিটের একটি বিস্তৃত সমাপ্তি দেয়া হয়েছে, যাতে দর্শক সম্পূর্ণ তৃপ্তি পান।

এই সিরিজ নির্মাণে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল?

সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ধারাবাহিকভাবে গল্পের মান বজায় রাখা এবং প্রতিটি চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করা। পাশাপাশি সময়, শিডিউল এবং টিম ম্যানেজমেন্ট সব কিছু মিলিয়ে কাজটা সহজ ছিল না। তবে পুরো টিমের আন্তরিকতা ও পরিশ্রমের কারণেই আমি এই চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করতে পেরেছি।

দর্শকদের প্রশংসা, একদিনে কোটি ভিউ পাওয়ার মতো রেকর্ড—এ অর্জনকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

এটা আমার জন্য শুধু একটি সংখ্যা নয়, এটি দর্শকদের ভালোবাসার প্রতিফলন। একদিনে কোটি ভিউ পাওয়া সত্যিই আনন্দের, তবে এর চেয়েও বড় বিষয় হলো, মানুষ গল্পটার সঙ্গে নিজেদের খুঁজে পেয়েছে। এই ভালোবাসাই আমার এবং আমার টিমের সবচেয়ে বড় অর্জন ও অনুপ্রেরণা।

পাকিস্তানি সিরিয়াল থেকে অনুপ্রাণিত হলেও আপনি এটিকে সম্পূর্ণ দেশীয় করে তুললেন—এ রূপান্তরের প্রক্রিয়াটা কেমন ছিল?

অনুপ্রেরণা থাকলেও আমরা শুরু থেকেই চেয়েছি গল্পটিকে আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের সমাজ এবং আমাদের আবেগের সঙ্গে মানানসই করে তুলতে। চরিত্র, সংলাপ, পারিবারিক সম্পর্ক সবকিছুই দেশীয় বাস্তবতার আলোকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। তাই এটি শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ আমাদের নিজেদের গল্প হয়ে উঠেছে। আর যারা কপি করে, তাদেরকে বলতে চাই, কপি আর অনুপ্রেরণা এক জিনিস না।

নতুন কোনো ধারাবাহিক নিয়ে কাজ করছেন কি?

জি, নতুন কিছু কাজের পরিকল্পনা চলছে। শিগগিরই হয়তো নতুন একটি গল্প নিয়ে দর্শকদের সামনে আসব। আগের মতোই চেষ্টা থাকবে একটি হৃদয়ছোঁয়া, অর্থবহ গল্প উপহার দেয়ার। দর্শকদের ভালোবাসা ও দোয়া সবসময়ই আমার প্রেরণা।