এ প্রজন্মের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জিনিয়া জাফরিন লুইপা। সম্প্রতি তার ইউটিউব চ্যানেলে নতুন গান ‘চুড়ি ছাম ছাম’ নিয়ে আবারো শ্রোতাদের সামনে হাজির হয়েছেন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর গানটি প্রকাশের পর পরই মিলেছে দারুণ সাড়া, ফিরে পেয়েছেন পুরনো পরিচিত উচ্ছ্বাস। নিজের নতুন গান ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন অহিদুর রহমান
সম্প্রতি আপনার গাওয়া ‘চুড়ি ছাম ছাম’ গানটি প্রকাশ পেয়েছে। দর্শক–শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়া কেমন পাচ্ছেন?
আমি অনেক দিন পর গান রিলিজ করলাম। দর্শক-শ্রোতাদের কাছ থেকে যে ভালো সাড়া পাচ্ছি, এটা আমার জন্য অনেক আনন্দের। পাশাপাশি এটি আমার জন্য একটি পজিটিভ সাইন। দেশে শো কম হচ্ছে, কাজ কম হচ্ছে, ফিল্ম কম হচ্ছে—এ অবস্থায় মানুষ এ গানটিতে সাড়া দিচ্ছে, এটি আমাকে নতুনভাবে উৎসাহ দিচ্ছে।
দীর্ঘদিন পর আপনার একটি গান শ্রোতাপ্রিয়তা পেল—কেমন লাগছে?
আমার খুবই ভালো লাগছে। বলতে গেলে ঈদের মতো আনন্দ লাগছে। মানুষ গানটিকে গ্রহণ করেছে, গানটা শুনছে; মানুষ নতুন করে আমাকে চিনছে—এটা ভীষণ ভালো লাগার অনুভূতি।
গানটির কনসেপ্ট কীভাবে তৈরি হলো?
গানটি মিউজিক ভিডিও করেছেন রাকিব, লিখেছেন আবির, সুর ও সংগীত করেছেন তানভীর। তারা সবাই একই টিমে কাজ করেন। তাদের সঙ্গে যখন দেখা হলো তারা খুব ট্রেন্ডি ভাইবের কাজ করেন। তারা নতুন জেনারেশনের, তাই তারা এখনকার অডিয়েন্সকে ভালো বোঝেন। এখনকার অডিয়েন্স যে ধরনের গান পছন্দ করে, সে ধরনের গানই তারা বানান। তানভীর আর আবির ‘তাণ্ডব’ সিনেমার টাইটেল ট্র্যাকও করেছেন। তখন থেকেই তাদের কাজ আমার ভালো লাগত। আমি তাদের বলেছিলাম আমার জন্য একটা গান করতে। পরে তানভীর যখন গানটি পাঠালেন, শুনেই ভালো লেগে গেল। বুঝলাম এ গানটা বর্তমান জেনারেশনের সঙ্গে মানিয়ে যাবে। নাচের গান, স্টেজ শো সিজন আবার সামনে ওয়েডিং সিজন—এসব চিন্তা করে গানটি করা।
মিউজিক ভিডিওতে চমককে নেয়ার কারণ কী ছিল?
এখনকার সময়ে যারা কাজ করছে, তাদের মধ্যে চমককে আমার ভীষণ ভালো লাগে। যেহেতু গানটি ওয়েডিং ভাইবের, আর লিরিকেও একজন মেয়ের প্রেমে পড়ার অনুভূতির কথা আছে, তাই আমার মনে হয়েছে—গানের প্রেজেন্টেশন যদি চমক করে, তাহলে গানটি দেখতে মানুষের আরো ভালো লাগবে। সেই ভাবনা থেকেই চমককে রাখা এবং আমরা মনে করি সফল হয়েছি, কারণ চমককে এ ভিডিওতে সবাই প্রশংসা করেছেন।
দীর্ঘ বিরতির পর গান—এই ফেরা কি পরিকল্পিত ছিল, নাকি হঠাৎ সিদ্ধান্ত?
আসলে গানটি হুট করেই করা। কারণ শীতকাল, স্টেজ প্রোগ্রামের সময়, পাশাপাশি ওয়েডিং সিজন। আমি যেহেতু স্টেজে কাভার গান বেশি করি, নিজের গানও কিছু গাই। মনে হলো নিজের আরো কিছু গান স্টেজে করা উচিত, তাহলে পারফরম্যান্সে একটি নিজস্ব সিগনেচার তৈরি হবে। সে চিন্তা থেকেই স্টেজে গাইতে পারব এমন একটি গান প্রকাশ করতে চেয়েছি, আর চুড়ি ছাম ছাম সেই ধরনেরই একটি গান।
ক্যারিয়ারে আপনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল?
আমার জার্নিটা পুরোপুরি চ্যালেঞ্জিং। আমি একটি রিয়েলিটি শো থেকে আসছি—সেখানেও অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। যদিও ফার্স্ট, সেকেন্ড বা থার্ড কোনোটাতেই আমার প্লেস ছিল না, তার পরও আমি আশাহত হইনি।
আমার বিয়ে হয়েছে একজন মিউজিশিয়ানের সঙ্গে, তিনি সবসময় আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, পেছন থেকে এগিয়ে দিয়েছেন। চলতি পথে চ্যালেঞ্জ ছিল, কিন্তু আমার লক্ষ্য নির্দিষ্ট ছিল না যে আমাকে ঠিক ওই জায়গাটিতে যেতেই হবে। তবে স্বপ্ন ছিল আকাশসমান। ধৈর্য ধরে থেকেছি এবং গানকে ভালোবেসেছি।
কাভার গান দিয়ে আপনি নিয়মিত আলোচনায় থাকেন—মৌলিক গান ও কাভার গান, কোনটিতে বেশি তৃপ্তি পান?
আমার কাছে দুটিই ভালো লাগে। আমার গান মানুষ যখন মুখে মুখে গায়, আমাকে গাওয়ার রিকোয়েস্ট করে—এটা শিল্পী হিসেবে খুব বড় পাওয়া।
আমি প্রথমে গান শিখেছি শুনে শুনে। সেই জায়গা থেকে কাভার গান গাইতে আমার ভালো লাগে। এ গানগুলো গাওয়ার লোভ সামলাতে পারি না, কারণ এগুলো শুনেই আমরা বড় হয়েছি—এ গানগুলোর সঙ্গে আমাদের অনুভবের সম্পর্ক আছে।
বর্তমানে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির অসুবিধাগুলো আপনার কাছে কী মনে হয়?
বর্তমানে গানকে প্রমোশন না করলে মানুষের কাছে পৌঁছায় না। অনেক ভালো শিল্পী আছে, যারা শুধু প্রচারের অভাবে লাইমলাইটে আসতে পারে না, তাদের গান মানুষের কাছে পৌঁছায় না। এসব কারণে অনেক প্রতিভাবান শিল্পী হারিয়ে যান।
ধৈর্য ধরে থাকাও কঠিন হয়ে যায়, কারণ এখন শুধু গান করে জীবন চলে না। এজন্য অনেক শিল্পী হতাশ হয়ে যান।
যারা পৃষ্ঠপোষকতা করেন, তাদের উচিত নতুন ও ভালো শিল্পীদের সামনে আনা। সিনেমায় বিভিন্ন সিকোয়েন্সে বিভিন্ন শিল্পীর গান ব্যবহার করা উচিত। শিল্পীদের বোঝানো উচিত যে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে সব ধরনের শিল্পীর প্রয়োজন আছে।
ডিজিটাল প্লাটফর্মের যুগে শিল্পীদের জন্য সবচেয়ে বড় সুবিধা কী?
সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো খুব সহজে বিশ্বজুড়ে মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়। ভালো কাজ করলে তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে এখন আর তেমন বাধা নেই।
এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে আয় করাও সম্ভব হচ্ছে। গান দ্রুত ছড়িয়ে দেয়া যায়। আমরা যদি ডিজিটাল প্লাটফর্মগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারি, তাহলে এটি সংগীতসহ সব মাধ্যমের জন্যই লাভজনক।
সামনে কি আরো মৌলিক গান প্রকাশের পরিকল্পনা আছে?
হ্যাঁ, আমার কাছে বর্তমানে প্রচুর গান জমা আছে। আসলে আমি সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলাম না, কোনটি আগে দেব। এখন যেহেতু চুড়ি ছাম ছাম আমাকে সাহস জুগিয়েছে, তাই মনে হচ্ছে সামনে একের পর এক গান আমার ইউটিউব চ্যানেলে আসতে থাকবে।










