বাংলাদেশের নাটক ও সিনেমার বরেণ্য অভিনেতা আবুল হায়াত। নতুন ও পুরনো দুই প্রজন্মের নির্মাতাদের কাছেই সমানভাবে সম্মানিত ও জনপ্রিয় তিনি। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি যে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা গড়ে তুলেছেন, তা এখনো নির্মাতাদের কাছে বিশেষ আস্থার জায়গা হয়ে আছে। সময় বদলালেও আবুল হায়াতের প্রতি নির্মাতাদের আগ্রহ কমেনি, বরং নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের কাছেও তার সঙ্গে কাজ করা যেন স্বপ্নের মতোই।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কাজের পদ্ধতি ও সিদ্ধান্তে এসেছে কিছু পরিবর্তন। নতুন নির্মাতাদের কাজ করার ক্ষেত্রে এখন তিনি একটু বেশি সতর্ক। শুধু গল্প ভালো হলেই তিনি রাজি হন না, ইউনিটের পরিবেশ, নির্মাতার দায়িত্বশীলতা, সেটে যথাযথ কেয়ারিং আছে কিনা—এসব বিষয়ও তার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। আগের মতো টানা কাজ না করলেও গল্প ও চরিত্র মানানসই হলে আর পরিচালকের সঙ্গে বোঝাপড়া মিললে তিনি নিশ্চিন্তে কাজ করতে রাজি হন।

সম্প্রতি নির্মাতা সেলিম রেজার নির্দেশনায় একটি নাটকের কাজ শেষ করেছেন আবুল হায়াত, যেখানে তিনি কেয়া পায়েলের দাদুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। আগামীকাল ও তার পরের দিন তিনি ব্যস্ত থাকবেন চয়নিকা চৌধুরীর নতুন এক নাটকের শুটিংয়ে। এছাড়া ১০ ডিসেম্বর তিনি যুক্ত থাকবেন আরাফাত মোহসীন নিধির ওয়েব সিরিজ আৎকার প্রমোশনাল শুটিংয়ে। ১২ ডিসেম্বর তিনি প্রধান অতিথি হয়ে উপস্থিত থাকবেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে।

এসব চলমান ব্যস্ততার পাশাপাশি আগামী ঈদের জন্য তিনি বিশেষ একটি পরিকল্পনা করেছেন। রাবেয়া খাতুনের গল্পে তার নিজের চিত্রনাট্যে সখিনা শিরোনামের একটি নাটক নির্মাণ করতে পারেন তিনি। এখন তার মূল ভাবনা কে হবেন সখিনা আর সখিনার বিপরীতে অভিনয় করবেন কে। এ বিষয়ে তিনি জানান, এ মাসের শেষ প্রান্তে বা আগামী মাসেই নাটকটির কাজ শেষ করতে চান।

অভিনেতা বলেন, কাজের বাইরে যে সময় পান, তার বেশির ভাগ বাসায়ই কাটাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। পরিবারও চায়, তিনি যেন বাড়িতেই থাকেন। তবুও মন সবসময় শান্ত থাকে না, মাঝে মাঝে কাজের ভেতর ডুবে থাকতেও ভালো লাগে।