গতকাল সন্ধ্যায় আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার লা গ্যালারিতে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, শিল্প সমালোচক মইনুদ্দিন খালেদ, শিল্পী ও প্রফেসর জামাল আহমেদসহ দেশের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পী ও শিল্পানুরাগীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে জলরঙ ও অ্যাক্রিলিকে নির্মিত প্রায় ৩৬টি চিত্রকর্ম। যেখানে শিল্পী তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, স্মৃতি ও সময়ের পরিবর্তনকে শিল্পরূপ দিয়েছেন। গ্রামীণ জীবনের আন্তরিকতা ও নগর জীবনের রূপান্তরের মধ্যে এক ধরনের দৃশ্যমান সেতুবন্ধ তৈরি হয়েছে এ কাজগুলোয়।

শৈশব ও কৈশোরে গ্রামের মাটির পথ, খাল-বিল, নদীর পাড় ও কৃষিনির্ভর জীবনের ছন্দের ভেতর বেড়ে ওঠা রাজিব আহাসেন তার শিল্পচর্চায় বাস্তব অভিজ্ঞতাকেই প্রধান অনুপ্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। ফলে তার কাজে কৃত্রিমতার কোনো ছাপ নেই, বরং সাধারণ মানুষের জীবন, তাদের অনুভূতি ও সহজ সৌন্দর্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে ফুটে উঠেছে। এ উপাদানগুলো তার শিল্পে নির্দিষ্ট বিষয় হিসেবে নয়, বরং সময়ের সঙ্গে গভীরে প্রোথিত আবেগ হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে।

প্রদর্শনীর চিত্রকর্মগুলোয় গ্রামীণ উন্মুক্ততা থেকে নগর জীবনের কাঠামোবদ্ধ বাস্তবতায় শিল্পীর ধীরে ধীরে অভিযাত্রার অভিজ্ঞতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এখানে নস্টালজিয়া, অভিযোজন ও আত্মপরিচয়ের অনুসন্ধান একে অন্যের সঙ্গে মিশে গেছে। প্রাণবন্ত তুলির আঁচড়, স্তরবিন্যাসপূর্ণ টেক্সচার এবং আলো রঙের সূক্ষ্ম ব্যবহারে প্রতিটি কাজ স্মৃতি ও বর্তমানের এক অনন্য মেলবন্ধন তৈরি করেছে।

‘এমব্রেস অব দি আর্থ’ কেবল শৈশবের মানুষ ও ভূদৃশ্যের প্রতি শ্রদ্ধা নয়, বরং এটি আত্মপরিচয়, সংযোগ ও পরিবর্তনের এক গভীর অনুসন্ধান। এ প্রদর্শনী দর্শককে থামতে, ভাবতে এবং নিজের শিকড় ও স্মৃতির সঙ্গে নতুনভাবে সংযুক্ত হতে আহ্বান জানায়।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ফ্রেন্ডশিপ আর্ট এক্সিবিশন থেকে শুরু করে জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত কাহাল ইন্টারন্যাশনাল আর্ট ফেয়ারেও রাজিব আহাসেনের কাজ প্রদর্শিত হয়েছে।

প্রদর্শনীটি ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। এটি সবার জন্য উন্মুক্ত।

‘এমব্রেস অব দি আর্থ’ শুধু একটি শিল্পপ্রদর্শনী নয়; এটি মাটি, মানুষ ও স্মৃতির গভীর সম্পর্ককে ধারণ করা এক আন্তরিক শিল্পভাষা, যা সমকালীন শিল্পচর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।