সম্প্রতি কবরের ভেতরে জীবন্ত সাপের সঙ্গে শুটিং করে আলোচনায় এসেছেন নির্মাতা ভিকি জাহেদ। তার নির্মিত নাটক ‘খোয়াবনামা’য় দেখা গেছে এ সাহসী দৃশ্য। এরই মধ্যে আসছে তার নতুন চমক—আগামী মাসে হইচইয়ে মুক্তি পাচ্ছে ওয়েব সিরিজ ‘আকা’। আফরান নিশো ও মাসুমা রহমান নাবিলা অভিনীত এ সিরিজসহ সাম্প্রতিক কাজ ও অভিজ্ঞতা নিয়ে ভিকি জাহেদ কথা বলেছেন বণিক বার্তা-র সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান

আপনার নির্মিত আকা ওয়েব সিরিজটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এর গল্প কী ধরনের?

এ ওয়েব সিরিজ খুব সাধারণ মানুষের অসাধারণ হয়ে ওঠার গল্প। এটা একটা সোশ্যাল থ্রিলার। এর আগে আমি অনেক রকম থ্রিলার নির্মাণ করেছি। এবারই প্রথম একটি সোশ্যাল থ্রিলার নির্মাণ করলাম। এ সিরিজের সঙ্গে মানুষ সাম্প্রতিক সময়ের অনেক কিছু রিলেট করতে পারবে। দর্শক এ গল্পে আমাদের চারপাশের অবস্থা দেখতে পাবে।

আপনার মতে আকার কোন দিকগুলো পূর্ববর্তী কাজগুলোর থেকে আলাদা?

এটি আমার প্রথম সোশ্যাল থ্রিলার। আকা খুবই ভিন্নধর্মী একটা কাজ। এ কাজের আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে আমার আর নিশো ভাইয়ের দুই বছর ধরে কোনো কাজ নেই। আমাদের দুজনের জুটির কাজ দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা আছে। দর্শক আমাদের কাজ খুব পছন্দ করে। সে জায়গা থেকে দর্শকের জন্য আমরা ভিন্ন কিছু নিয়ে আসছি। তাই এটা অন্য কাজের তুলনায় একটু স্পেশাল।

আফরান নিশো ও নাবিলাকে একসঙ্গে কাস্ট করার পেছনে মূল চিন্তাভাবনা কী ছিল? তাদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাটা কেমন ছিল?

আফরান নিশো ভাইয়ের সঙ্গে এর আগে আমার অনেক কাজ হয়েছে। নাবিলা আপুর সঙ্গে এই প্রথম কাজ করলাম। একদমই চরিত্রের প্রয়োজনেই তাদের কাস্ট করা হয়েছে। আমার মনে হয় না, আকার চরিত্রটা নিশো ভাই ছাড়া কেউ করতে পারত। নাবিলা আপুকে কাস্ট করার কারণ আপুর কাজ আমার খুব ভালো লাগে, তিনি খুবই মিষ্টি একজন মানুষ। তার সঙ্গে কাজ করে আমি অনেক আরাম পেয়েছি। এ সিরিজে তার যে চরিত্র, সেটা নাবিলা আপু যেমন, তেমনই। যখন কাস্টিং বিষয়টা এসেছিল, তখন তিনি ছাড়া যে কয়টা অপশন ছিল, সেখানে সবার ওপরের দিকেই ছিল তার অবস্থান। তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও খুব ভালো ছিল।

‘চক্র ২’-এর কোনো আপডেট আছে কি?

চক্র ২ সম্পর্কে অনেক মানুষ জানতে চায়, কবে আসবে। অনেকে রাগ করে, অনেকে হুমকি দেয়, আবার অনেকে ভালোবেসে জিজ্ঞেস করে। আমি ক্ষমা চাইছি এ ব্যাপারে, চক্র ২ এখনো আসেনি। দীর্ঘ সময় লাগছে আসলে কনটেন্টের ভালোর জন্যই। ‘চক্র’ নিয়ে দর্শকের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, সেটা আমি কোনোভাবেই তাদের হতাশ করতে চাই না। তাই একটু সময় নিচ্ছি কনটেন্টের বেটারমেন্টের জন্যই।

সম্প্রতি আপনার নির্মিত খোয়াবনামা নাটকে কবরের দৃশ্যধারণের ব্যাপারটা আলোচিত হচ্ছে। এ দৃশ্যধারণ কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল? পুরো টিমের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

হ্যাঁ, খোয়াবনামা নাটকের কবরে সাপের দৃশ্যটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। এ রকম দৃশ্য কোনো কনটেন্টে সচরাচর দেখা যায় না। পোস্টার রিলিজের পর অনেকেই ভেবেছিল, এটা গ্র্যাফিকসের সহায়তায় বা এআইর সহায়তায় করা হয়েছে। আমি প্র্যাকটিক্যাল ইফেক্টের ভক্ত। এখানে আমরা প্র্যাকটিক্যালি বিষয়টা ঘটিয়েছি। রাত ৩টার দিকে শুটিংটা হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই এত রাতে একটা কবর, এতগুলো সাপ, কাফনের কাপড় পড়ে একজন শুয়ে আছে, এসব স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মনের ভেতর চাপ তৈরি করে। পুরো ইউনিটের সবার মনেই এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছিল। টিমের অন্যদের অনেককেই দেখেছি এ সিকোয়েন্সের সময় দূরে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, পাশে ছিল না। একটু সুযোগ খুঁজছিল কীভাবে একটু দূরে যাওয়া যায়। একটা ইউনিক অভিজ্ঞতা হয়েছে।

আগামীতে আপনি কোন ধরনের প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন দেখছেন? বড় পর্দার নির্মাণ কবে দেখা যাবে?

এখন আকা নিয়ে ব্যস্ত আছি। সামনে পাইপলাইনে চক্র ২ আছে। আরো কিছু কাজও হাতে আছে। বড় পর্দার বিষয়টা সময়মতো দর্শক জানতে পারবে।

যখন আপনি একটি নতুন গল্প বেছে নেন, প্রথমে কোন বিষয়টি আপনার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, বিষয়বস্তু, চরিত্র নাকি দর্শকের চাহিদা?

আমি যখন কোনো গল্প বেছে নিই, সে গল্প আমার নিজের আগে পছন্দ হতে হবে। আমি এটা কখনো চিন্তা করি না যে এটা দর্শক পছন্দ করবে কিনা। আমার মাথায় থাকে গল্পটা আমাকে কতটা ভালো লাগাতে পেরেছে। গল্পটা ভালো লেগে গেলে আমি সেটা নিয়ে আগাই। দর্শক তা গ্রহণ করবে কি করবে না, সেটা আমি কখনো চিন্তা করিনি।

ওটিটির যুগে নির্মাণের ধরন ও পদ্ধতিতে আপনি কী ধরনের পরিবর্তন এনেছেন?

ওটিটির যুগে আমার নির্মাণের ধরনে খুব একটা পরিবর্তন আনতে হয়নি। আমি যখন নাটক বানাতাম, ওটিটি তখনো আসেনি। তখন মানুষ আমার নাটকগুলোকেই বলত, এগুলো ওটিটি কনটেন্ট। এগুলো কীভাবে টেলিভিশন বা ইউটিউবে দেখতে পাচ্ছে! শুরু থেকেই একটা স্ট্যান্ডার্ড মান বজায় রাখার চেষ্টা করেছি, যেটাকে মানুষ দেশ-বিদেশের কনটেন্টের সঙ্গে তুলনা করতে পারে।