তবে দীর্ঘ সময় রুপালি পর্দা থেকে দূরে তিনি। দুই দশকেরও বেশি সময় নতুন কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেননি। আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণাও দেননি কখনো। বরং বারবার তিনি জানিয়েছেন, ভালো গল্প আর শক্তিশালী চরিত্র পেলে আবারো অভিনয়ে ফিরবেন ।
১৯৬০ সালের ২ সেপ্টেম্বর মুক্তি পায় এহতেশাম পরিচালিত ‘রাজধানীর বুকে’ সিনেমা। অভিনয় করেন রহমানে বিপরীতে। এরপর চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় জুটিতে পরিণত হন শবনম-রহমান। ‘জোয়ার ভাটা’, ‘আমার সংসার’, ‘চান্দা’, ‘তালাশ’, ‘প্রীত না জানে রীত’, ‘দরশন’, ‘চলো মান গায়ে’সহ বহু চলচ্চিত্রে তারা জুটি বেঁধে অভিনয় করেন। ১৯৬২ সালে মুক্তি পায় এহতেশামের চান্দা, ১৯৬৩ সালে মুস্তাফিজের তালাশ ও মসউদ চৌধুরীর ‘প্রীত না জানে রীত’, ১৯৬৫ সালে মুক্তি পায় সাদেক খানের ‘ক্যায়সে কাহু’, ১৯৬৬ সালে মুক্তি পায় রহমানের ‘দরশন’ ও এহতেশামের ‘চকোরী’। সাফল্য ছিল তার নামের সঙ্গে জুড়ে।
শবনম অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা আম্মাজান। মুক্তি পায় ১৯৯৯ সালে। এরপরও বহু সিনেমায় কাজ করার জন্য প্রস্তাব পেয়েছেন এ অভিনেত্রী। কেউ কেউ তাকে সিনেমায় অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধও করেছেন। কিন্তু শেষমেশ গল্প শুনে বুঝেছেন তা মৌলিক গল্প ছিল না। ফলে চুক্তি হলেও সিনেমায় অভিনয় করেননি আর।
তবে দর্শকের ভালোবাসাকে তিনি সম্মান করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, এ দেশের মানুষ একজন নায়িকা হিসেবে তাকে যে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দেন, তা তিনি আর অভিনয় না করলেও বজায় থাকবে। অভিনেত্রী একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন আম্মাজানের পর আসলে তিনি অভিনয় করার মতো ভালো কোনো গল্পের সন্ধান পাননি।
আম্মাজান চলচ্চিত্রটির পরিচালক কাজী হায়াতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে থাকেন তিনি। কেননা চরিত্রটি অমর হয়ে আছে বাংলা সিনেমার ইতিহাসে। আর চরিত্রটিতে নিজেকে উজাড় করে অভিনয় করেছেন শবনম। এখনো আম্মাজানের জন্য তিনি সাড়া পান। বিস্মিত হন।
আবারো অভিনয়ে ফিরবেন কিনা, এ প্রশ্নে তার উত্তরও সরল, তবে গভীর।
শবনম জানান, যদি আবার কখনো নতুন কোনো সিনেমায় অভিনয় নাও করেন তার দুঃখ থাকবে না। একজন নায়িকা ও অভিনেত্রী হিসেবে যেসব সিনেমায় অভিনয় করেছেন তাতেই পরিপূর্ণ বোধ করেন। তবে অতৃপ্তিও আছে। তার পরও যা করেছেন তাও অনেক বলে বিশ্বাস করেন।
বাংলাদেশের এ তারকা একসময় পাকিস্তানি চলচ্চিত্রেও দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। একাধিকবার পেয়েছেন পাকিস্তানের বিখ্যাত নিগার অ্যাওয়ার্ড। দেশে তার আলোচিত কাজের মধ্যে রয়েছে ‘নাচের পুতুল’, যেখানে নায়ক রাজ রাজ্জাকের সঙ্গে তার জুটি আজও স্মরণীয়।
শবনমের ফিরে আসা আজও দর্শকের এক অনন্ত প্রত্যাশা। তবে তার কথায়, শুধু পর্দায় ফেরা নয়, তিনি চান এমন এক গল্প, যা তার সৃষ্ট উত্তরাধিকারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। সে গল্পের অপেক্ষা যেন শেষ হচ্ছে না আজও।










