উপমহাদেশের সংগীতাঙ্গনের জীবন্ত কিংবদন্তি রুনা লায়লা। সুরের জাদুতে ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে আসছেন। অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছেন আজও। শুধু কণ্ঠশিল্পী নন, তিনি সুরকার হিসেবেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আলমগীর পরিচালিত ‘একটি সিনেমার গল্প’ চলচ্চিত্রে সুরকার হিসেবে কাজ করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।
বাংলা, উর্দু ও হিন্দি ভাষায় হাজারো গান গাওয়া রুনা লায়লা সম্প্রতি জানিয়েছেন, বাংলা গানের ভাণ্ডারে তার নিজের তিনটি গান বেশি প্রিয়। এগুলো হলো ‘যখন আমি থাকবো না কো আমায় রেখো মনে’, ‘বুকে আমার আগুন জ্বলে, জ্বলে যেতে দাও’, এবং ‘যখন থামবে কোলাহল ঘুমে নিঝুম চারিদিক।’
এ তিনটি গান তার কাছে সবচেয়ে আবেগময় ও কাছের। তিনি বলেন, ‘সিনেমায় অনেক গান গেয়েছি। সিনেমার বাইরে আধুনিক গানও গেয়েছি। কিন্তু এ তিনটি গান আমার হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। নতুন প্রজন্মের অনেক শিল্পী স্টেজ শো ও টিভি অনুষ্ঠানে গানগুলো গেয়ে থাকে, আমি মন দিয়ে তাদের গান শুনি। প্রত্যেকে নিজের সেরাটা দেয়, তাদের জন্য অফুরন্ত শুভকামনা।’
২২ নভেম্বর রাজধানীর র্যাডিসনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন রুনা লায়লা। ১৭ নভেম্বর তার জন্মদিনে ‘কোক স্টুডিও’তে প্রকাশিত হয়েছে তার জনপ্রিয় গান ‘দমা দম মাস্ত কালান্দার’-এর নতুন সংগীতায়োজন।
শুধু গায়িকা হিসেবেই নয়, সুরকার হিসেবেও সফল রুনা লায়লা। তার সুরে কণ্ঠ দিয়েছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে, রাহাত ফতেহ আলী খান, আদনান সামী, হৈমন্তী রক্ষিতসহ আরো অনেকে। রুনা লায়লার অনুপ্রেরণায় বাংলাদেশে অনেক নতুন শিল্পী সংগীতকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছেন।
সংগীতাঙ্গনে রুনা লায়লার অবদান অনেক। তার কণ্ঠের সুরে মুগ্ধতার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বহু প্রজন্ম ধরে।










