দুই বাংলার জনপ্রিয় নায়িকা ইধিকা পাল। আরশাদ আদনান প্রযোজিত ও হিমেল আশরাফ পরিচালিত ‘প্রিয়তমা’ সিনেমায় শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তার অভিষেক ঘটে। প্রথম সিনেমায়ই সাড়া ফেলেন তিনি। এরপর দেবের বিপরীতে অভিনীত কলকাতার সিনেমা ‘খাদান’ মুক্তি পেয়ে দর্শকের মন জয় করে নেয়। শাকিব খানের সঙ্গে তার দ্বিতীয় বাংলাদেশী সিনেমা ‘বরবাদ’ও ব্যবসায়িকভাবে সফল হয়।

অর্থাৎ ইধিকা অভিনীত প্রথম তিনটি সিনেমা ‘প্রিয়তমা’, ‘খাদান’ ও ‘বরবাদ’ বক্স অফিসে সাফল্য পায়। এজন্য অনেকেই তাকে ভাগ্যবান নায়িকা বলে থাকেন।

ইধিকার জন্ম ১৯৯৮ সালের ২ জুলাই। ব্যক্তিগত জীবনে তার সবচেয়ে প্রিয় নায়িকা ভারতের কিংবদন্তি অভিনেত্রী শ্রীদেবী। জন্মের প্রায় এক দশক আগে ১৯৮৭ সালে মুক্তি পায় শ্রীদেবী ও অনিল কাপুর অভিনীত শেখর কাপুরের পরিচালনায় ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’। সিনেমাটি মুক্তির পর বিরাট সাফল্য পায়। বনি কাপুর ও সুরিন্দর কাপুর প্রযোজিত সিনেমাটির বাজেট ছিল ৩৮ মিলিয়ন ডলার, আর আয় করেছিল প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার। এটিই ইধিকার অন্যতম প্রিয় সিনেমা। ছোটবেলা থেকেই বাবা-মায়ের কাছ থেকে শ্রীদেবীকে নিয়ে অনেক গল্প শুনেছেন তিনি। পরে তাদের সঙ্গেই শ্রীদেবীর নানা সিনেমা উপভোগ করেছেন। সেখান থেকেই গড়ে ওঠে গভীর টান। ছোট থেকেই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্রিয় নায়িকার মতো সাজতে চেষ্টা করতেন তিনি। ইধিকার ভাষায়, অভিনয়ে আসার অনুপ্রেরণাই মূলত শ্রীদেবী।

বিশেষ করে ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’ সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘কাটে নেহি কাটতে’ (কিশোর কুমার ও আলিশা চিনাইয়ের কণ্ঠে, সুর: লক্ষীকান্ত শান্তারাম কুদালকার, গীত: জাভেদ আখতার)-এ শ্রীদেবীর পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছিলেন তিনি। গানটির সে সাজে অনুপ্রাণিত হয়ে সম্প্রতি নিজের কয়েকটি ছবি তোলেন ইধিকা। প্রিয় শিল্পীকে জন্মদিনে শ্রদ্ধা জানাতেই সেসব ছবি পোস্ট করেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

ইধিকা বলেন, ‘ভারতের সিনেমার এক কিংবদন্তির নাম শ্রীদেবী। ক’দিন আগেই ছিল তার জন্মদিন। দিনটিতে তাকে শ্রদ্ধা জানাতেই আমি মিস্টার ইন্ডিয়া সিনেমার বিখ্যাত গানটির লুকে ছবি তুলে পোস্ট করেছি। তিনি সবসময় আমার মনে আছেন, মননে আছেন। তিনিই আমার অভিনয়ের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। জানি তার মতো হওয়া কোনোদিন সম্ভব নয়, কারণ তিনি অদ্বিতীয়া। তার পরও তাকে বুকের ভেতর ধারণ করে এগিয়ে চলাটাই আমার জন্য প্রশান্তির। যদি তিনি বেঁচে থাকতেন আর যদি কোনো একটি সিনেমায় তার সঙ্গে একটি দৃশ্যেও অভিনয়ের সুযোগ পেতাম, সেটাই হতো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমার প্রিয় এ মহান শিল্পীর আত্মার শান্তি কামনা করি।’