মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলের হাড়বাড়িয়া এলাকায় কয়লাবোঝাই একটি বাল্কহেড ডুবে গেছে। এ ঘটনায় সাত নাবিক নিখোঁজ হন। দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে ।
গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, বিদেশী একটি জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বাল্কহেডটি ডুবে যায়। নিখোঁজ তিনজনকে উদ্ধারে কাজ করছে কোস্টগার্ড।
দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় বিদেশী জাহাজ এমভি এলিনাবি’তে থাকা টি হক কোম্পানির সুপারভাইজার মো. লোকমান জানান, বাল্কহেডটি ডুবে যাওয়ার সময় দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদেরকে কোস্টগার্ড নিয়ে গেছে।
কয়লা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতিনিধি মো. আশিকুর রহমান জানান, বন্দরের হাড়বাড়িয়া এলাকার ৯ নম্বর অ্যাংকরে অবস্থানরত বিদেশী জাহাজ এমভি এলিনাবি থেকে গতকাল সোমবার রাতে প্রায় সাড়ে ৬০০ মেট্রিক টন কয়লাবোঝাই করে বাল্কহেড ফারদিন। কাজ শেষে ওই জাহাজটি ছেড়ে ৭০০ গজ দূরে যেতেই রাত ৯টা ২৫ মিনিটে সেলিং হওয়া অপর একটি বিদেশী জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা খায় বাল্কহেডটি। জলযানটি গিয়ারে থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কয়লা নিয়ে ঢাকায় গাবতলীতে আসার কথা ছিল বাল্কহেড ফারদিনের। হাড়বাড়িয়ার ৮ ও ৯ নম্বর অ্যাংকোরেজের মাঝামাঝিতে সেটি ডুবে গেছে বলে জানান আশিকুর রহমান।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফখরউদ্দিন বলেন, তারা জানতে পেরেছেন বাল্কহেড ফারদিনের ৫ জন স্টাফ নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের সন্ধানে কোস্ট গার্ড কাজ করছে। তিনি অভিযোগ করেন, বেআইনিভাবে পণ্য পরিবহন করছিল বাল্কহেড ফারদিন। কারণ, এক হ্যাজ বিশিষ্ট বাল্কহেড ডিজি শিপিং থেকে নিষিদ্ধ। এ বাল্কহেড বালু ছাড়া অন্য কোনো পণ্য পরিবহন করতে পারবে না। এ ব্যাপারে তারা আইনি ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান।
ফখরউদ্দিন আরো অভিযোগ করেন, বাল্কহেডটির চলাচলে নিজস্ব কোনো যোগাযোগ (যান্ত্রিক বার্তা আদান-প্রদান) ব্যবস্থা নেই। জলযানটির চালক বুঝতেই পারেনি ওই সময়ে মার্চেন্ট শিপ মুভমেন্ট হচ্ছিল। যে কারণে দুটি বিদেশি জাহাজ সেলিং হয়ে যাওয়ার সময় একটির পেছনের অংশে ধাক্কা খেয়ে বাল্কহেডটি মূল চ্যানেলের বাইরে পূর্ব পাশে ডুবে যায়। এতে জাহাজ চলাচলে কোনো সমস্যা হবে না বলেও তিনি জানান।










