দেশের অন্যতম বৃহৎ সবজি বাজার যশোরের বারীনগর। চলতি বছর মৌসুমের শুরুতে শীতকালীন সবজি চড়া দামে বিক্রি হয়েছে বাজারে। তবে কয়েক দিন ধরে বাজারে প্রচুর পরিমাণ শীতকালীন সবজি ওঠায় দামে ভাটা পড়েছে। গতকাল ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, টমেটো ও মুলাসহ সব ধরেনর শীতকালীন সবজি অনেক কম দামে বিক্রি হয়েছে।
বারীনগর হাটে আসা চাষীরা বলছেন, নভেম্বরের শেষ দিকে শীতের সবজিতে ভরপুর থাকত এ হাট। এবারের মৌসুমে আগাম সবজি বিক্রি হয়েছে চড়া দামেই। কিন্তু এখন দেশের অন্যান্য জেলার সবজি বাজারে আসায় চাহিদা কমেছে। সে কারণে সবজির দাম এখন বেশ কম।
গতকাল বারীনগর বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি কেজি মুলা ৩-৫ টাকা, বেগুন ১০-১৫, শিম ১৪-১৫, ফুলকপি প্রতি পিস ১০ টাকা, বাঁধাকপি প্রতি পিস ১০-১২ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
যশোর সদর উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের সাখাওয়াৎ হোসেন নিয়ে এসেছিলেন প্রায় আট মণ মুলা। বিক্রি করেছেন মাত্র ১ হাজার টাকায়। মণপ্রতি বিক্রি হয়েছে ২৫০ টাকায়। কিন্তু নভেম্বরের শুরুতে তিনি বিক্রি করেন ২ হাজার টাকা মণ দরে।
নিশ্চিন্তপুর গ্রামের কৃষক মো. রিপন বলেন, সেপ্টেম্বরের শেষ ও নভেম্বরের শুরুতে দুই দফায় মুলা বিক্রি করেছেন বেশি দামেই। তখন ৪৫-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও গতকাল ৪-৫ টাকার বেশি দাম উঠছে না।
তিনি বলেন, পাঁচ ঝুড়ি মুলা মাঠ থেকে তুলে, ধুয়ে সেগুলো হাটে আনতে প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা খরচ হয়েছে। ১ হাজার ৫০০ টাকা দাম চেয়েছি; কিন্তু পাইকাররা ৬০০ টাকা দাম উঠিয়েছে।
বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ লালু বলেন, দিন যত যাচ্ছে বেগুনের দাম তত কমছে। এ হাটে ৫০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে বিক্রি করেছি বেগুন। সাদাবল (সবুজ গোল) বেগুনের দাম মণপ্রতি ৫৬০ টাকা আর ডাঙরের (বেগুনি লম্বা) ৪৪০ টাকা দাম বলছে পাইকাররা। এ রকম হলে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।
বেপারি হাফিজুর রহমান জানান, তিনি শরীয়তপুর, মাদারীপুর এলাকায় সবজি পাঠান। বাজারে এখন সবজি কম উঠছে। তাছাড়া জেলায় জেলায় চাষকৃত সবজিও উঠতে শুরু করেছে। সে কারণে যশোরের এ সবজির বেশি একটা চাহিদা নেই। গত বছর এ সময়ে যেখানে তিনি তিন ট্রাক পণ্য পাঠিয়েছেন, একই সময়ে বর্তমানে এক ট্রাকের বেশি পাঠাতে পারছেন না।
শহরের বড় বাজারে সবজি ক্রেতা রফিকুল ইসলাম জানান, এক মাস আগেও বাজারে সবজি চড়া দামে বিক্রি হয়েছিল। এখন কিছুটা কমেছে। আশা করছি সামনে আরো কমবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের অতিরিক্ত উপপরিচালক দীপঙ্কর দাস বলেন, চলতি বছর যশোর জেলায় সবজির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫ হাজার ৯৬৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে অর্জিত হয়েছে ১৪ হাজার ৩২০ হেক্টর। আশা করা যায়, এবার লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত আবাদ হবে। কেননা এবার সবজির চাহিদা ও দাম ভালো পাচ্ছেন কৃষকরা।










