বাংলাদেশের রাজনীতি ও ইতিহাস বর্ণনা করতে গিয়ে রাষ্ট্রচিন্তাবিদ, তাত্ত্বিক ও রাজনীতিবিদ বদরুদ্দীন উমর বলেছেন, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণ করতে গিয়ে আমি দেখেছি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষেরাও ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছে। ধর্মঘট করেছে। এর কারণ হলো, বাংলা যতটা না ধনীদের ভাষা ছিল ততটা ছিল গণমানুষের ভাষা, কৃষকের ভাষা, শ্রমিকের ভাষা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভাষা অন্য কোনো ভাষা হলে ধনী ও শিক্ষিত সমাজ ওই ভাষা রপ্ত করে নিতে পারত এবং ওই ভাষার অংশ হয়ে যেত। কিন্তু বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের ভাব প্রকাশের মাধ্যম ছিল বাংলা। তাই তারা ভাষা আন্দোলনের সময় প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ধর্মঘট করেছিল।

আজ রোববার (১৫ ডিসেম্বর) বাংলা একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে প্রথমা প্রকাশনী কর্তৃক আয়োজিত বিজয় বইমেলায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, আমি আমার বিভিন্ন বইয়ের মধ্যে শেখ মুজিবের সময়ে (৭২-২৫) বিভিন্ন দুঃশাসনের কড়া সমালোচনা করে লিখেছি। অনেক পত্রিকা তা প্রকাশ করতে চাইত না। অনেকে প্রকাশ করলেও কাটছাঁট করে প্রকাশ করত। কিন্তু আমি লিখেছি। শেখ মুজিবুর রহমানের ওই সময়গুলো নিয়ে তো কোনো আলোচনা হয় না।

লেখালেখি নিয়ে তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমার সর্বপ্রথম লেখা প্রকাশিত হয় কলকাতার মিল্লাত পত্রিকায়। আমি লেখালেখি শুরু করেছি ছোটবেলা থেকে, স্কুল জীবন থেকে। ছোটবেলায় অনেক কিছু লিখতাম। লিখে ছিঁড়ে ফেলে দিতাম। কিন্তু একসময় লেখা পত্রিকায় পাঠানো শুরু করেছি।

লেখালেখির কারণে বিভিন্ন সময় সমস্যা পড়তে হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, আমি যখন ‘সাম্প্রদায়িকতা’ নিয়ে লিখলাম তখন দুই ধরনের সাড়া ফেলে। কিছু মানুষ উৎসাহিত হয় আর কিছু মানুষ আমার সমালোচনা ও হুমকি-ধমকি দেয়। একসময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এ নিয়ে আলাপ-আলোচনা শুরু হয়। এবং আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরিচ্যুত করার আলাপ-আলোচনা হয়। এটা শুনে আমি চাকরি ছেড়ে দিয়ে ঢাকায় চলে আসি। এবং আমার মতো রাজনীতি শুরু করি।