বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে অর্থনৈতিক কূটনীতিক দক্ষতা বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে  সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের উদ্যোগ বাড়াতে হবে। বৈশ্বিকভাবে সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে, এটাকে এক্সপ্লোর করতে হবে। এজন্য আমাদের অর্থনৈতিক কূটনীতি দক্ষতা বাড়াতে হবে। এমনকি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার রুল বেজড সিস্টেমে আমাদের যে সুবিধা প্রদান করা হবে তার সেফ গার্ড নিশ্চিত করতে হবে।

রোববার (৫ মে) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত প্রথম ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ ও বণিক বার্তার যৌথ উদ্যোগে ‘পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে উন্নয়নের পথ অনুসন্ধান’ প্রতিপাদ্যে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

ওয়াহিদউদ্দিন বলেন, বৈশ্বিক বড় সংকট মোকাবেলার জন্য আমাদের সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে, পর্যাপ্ত রিজার্ভ থাকতে হবে, যাতে আমাদের কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়। নতুন যেকোনো বাণিজ্য যুদ্ধ বৈশ্বিক কাঠামোকে পরিবর্তিত করে তুলবে। এটি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ভালো কিছু নয়। পশ্চিমা অনেকগুলো কোম্পানি রয়েছে তারা নতুন দেশে বিনিয়োগের চেষ্টা করবে। কিন্তু ভারতের মতো দেশের জন্য এটা কোন সমস্যা তৈরি করবে না। কারণ তাদের ৫০০ থেকে ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বড় রিজার্ভ রয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের যদি জনগণের চোখে বৈধতা থাকে, আত্মবিশ্বাসী হয়, সরকারের নীতির প্রতি জনসমর্থন থাকে তাহলে দেশের বৈদেশিক স্বার্থ রক্ষা অনেক সহজ হয়। দেশের ভেতরের রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের জন্য দেশের স্বার্থের বিষয়ে কোনো আপস করতে হয় না।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। প্যানেল আলোচক ছিলেন অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, নেদারল্যান্ডসের রেক্টর ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল স্টাডিজের ড. আর আর গ্যানজেভোর্ট, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব বাথের অ্যাসোসিয়েট প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর রিসার্চ ড. জো ডিভাইন, সোয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুশতাক খান, সিটি ব্যাংক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসরুর আরেফিন প্রমুখ।