‘৬ মাসেও সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল না হওয়া, মুশতাক হত্যার মামলা না হওয়া সরকারের একটা বড় ব্যর্থতা।’
আজ মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) লেখক ও উদ্যোক্তা মুশতাক আহমেদের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণসভায় আলোচকরা এ কথা বলেছেন। জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ভিক্টিমস নেটওয়ার্ক (ডিএসএ ভিক্টিমস নেটওয়ার্ক) ও ভয়েস ফর রিফর্ম এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
সভায় মুশতাকের মৃত্যুর বিচার চেয়ে ভিক্টিমস নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক ও সভার সভাপতি গোলাম মাহফুজ জোয়ার্দার বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের সরকার জুলুমতন্ত্র ও মাফিয়াতন্ত্রের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে কিনা, তার প্রমাণ হবে সরকার মুশতাক হত্যার মামলা ও বিচার তারা করেন কিনা, তার মাধ্যমে।’ তিনি সকল নিবর্তনমূলক আইনের অবিলম্বে বাতিল চান। সকল মামলা বাতিল, ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ ও সরকারের এমন নিবর্তনমূলক আইন বানানোর একচ্ছত্র ক্ষমতা কাঠামোর সংস্কার চান তিনি।
মুশতাকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার আরেক আসামি ও সভার সঞ্চালক দিদারুল ভূঁইয়া এখনো সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল না হওয়ার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ‘এ সরকার গঠনের পর আমাদের কাছে প্রথম একটা কমিটমেন্ট করা হয় সকল কালাকানুন বাতিল করা হবে। বার বার আমাদের কাছ থেকে এক সপ্তাহ, দুই সপ্তাহ করে সময় নেয়া হয়। সর্বশেষ জানুয়ারিতে আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রেস কনফারেন্স করে বলা হয়, সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিলের সব প্রস্তুতি আইন মন্ত্রণালয় থেকে সম্পন্ন হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি আছে। সেটা সম্পন্ন করে তারা আইন বাতিলের ঘোষণা দেবেন।
তারপর এক মাস হয়ে গেছে। আজকে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু আইন বাতিলের ঘোষণা এখনো আমরা পাইনি। উপদেষ্টা হিসেবে নাহিদ ইসলাম কতটুকু সফল, সে হিসাব করতে গেলে ৬ মাসেও সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল না হওয়া একটা বড় প্রশ্ন হয়ে থাকবে।’
সভায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমা মুশতাকের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের সময় যখন গুম, গ্রেফতারে আমাদের বার বার দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাচ্ছিল, আমি মুশতাক ভাইয়ের একটা কথা স্মরণ করতাম, আমরা তো কোনো অপরাধ করিনি। আমরা কেন ভয় পাব।’
ভয়েস ফর রিফর্মের সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর আর কোনো মুশতাকের এমন করুণ পরিণতি যেন এ বাংলাদেশে না হয়, সে প্রত্যাশা করেন। বাংলাদেশে এখনো সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল না হওয়া এবং এই আইনে এখনো মামলা ও গ্রেফতার হওয়ার সমালোচনা করেন তিনি।
রাজনৈতিক সংগঠক বাকী বিল্লাহ বলেন, ‘জুলুমের হাতিয়ার রেখে জুলুমতন্ত্র, ফ্যাসিবাদ বিলোপ করা সম্ভব না।’ গতকাল কুড়িগ্রামে নাহিদ হাসান নলেজের বিরুদ্ধে হওয়া এ আইনে মামলার সমালোচনা করে তিনি অবিলম্বে এই আইন পুরোপুরি বাতিল চান এবং সকল ভুক্তভোগীর অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি ও ক্ষতিপূরণ চান।
স্মরণ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার কর্মী রেজাউর রহমান লেনিন, তৃষিয়া নাশতারান, জাকিয়া শিশির, জাতীয় নাগরিক কমিটির প্রীতম দাশ ও এহতেশাম হক, পরিবর্তন চাই-এর কো-ফাউন্ডার ও ট্রাস্টি শহীদুল ইসলাম কাজল, নাজমুল সোহাগ, শেখ নাসিরউদ্দিন, ফেরদৌস আজিজ প্রমুখ।










