খাড়িয়া ভাষা সংরক্ষণে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। তিনি মৌলভীবাজার জেলা সফরের অংশ হিসেবে মৌলভীবাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্রে শ্রীমঙ্গলের রাজঘাট চা বাগানে বিলুপ্তপ্রায় খাড়িয়া ভাষায় কথা বলতে সক্ষম শেষ দুই ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গতকাল এ আহ্বান জানান। 

এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমাদের রাষ্ট্রভাষা বাংলা, কিন্তু অনেকের মাতৃভাষা ভিন্ন। এরই মধ্যে সরকারের তরফ থেকে খাড়িয়া ভাষা রক্ষায় কিছু উদ্যোগ নেয়া হলেও এ লক্ষ্যে আরো পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।’ ভারতের যে সব অঞ্চলে এ ভাষার প্রচলন আছে, সেখানে যোগাযোগ স্থাপন করে খাড়িয়া বর্ণমালা প্রচলনের মাধ্যমে বাংলাদেশে এ ভাষার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান প্রধান বিচারপতি।

খাড়িয়া ভাষায় কথা বলতে সক্ষম মাত্র দুজন ব্যক্তি অবশিষ্ট আছেন বাংলাদেশে, যারা সম্পর্কে দুই বোন। তাদের নাম ক্রিস্টিনা কেরকেট্টা ও ভেরোনিকা কেরকেট্টা। ভারতের রাঁচি থেকে তাদের বাবা-মা বাংলাদেশে এসেছিলেন। ভারতের ঝাড়খণ্ড ও উড়িষ্যায় খাড়িয়া ভাষার প্রচলন আছে।

গত মঙ্গলবার ৩০ এপ্রিল সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় কুশিয়ারা আন্তর্জাতিক কনভেনশন হলে আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনায় বিচারপতি হাসান খাড়িয়া ভাষা ও নাগরী লিপি সংরক্ষণের আহ্বান জানান।