ডিজিটাল ডিভাইস, টেকনোলজিতে নারীদের প্রবেশাধিকার বাড়াতে হবে। নারীরা যেসব তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সেগুলো পুরুষদের তৈরি এবং অনেক ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়। ডাটা অ্যানালিস্ট থেকে শুরু করে ডিজিটাল ডিভাইস ও টেকনোলজিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো দরকার। গতকাল রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে তিন দিনব্যাপী ২৯তম ইউএস ট্রেড শোতে ‘‌অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্ভাবন: এআই যুগে নারীর ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। 

সেমিনারে অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ওরাকল লিমিটেডের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচেম) কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য রুবাবা দৌলা, কোকা-কোলা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জু-উন নাহার চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। সেমিনারটি মডারেটর ছিলেন বাংলাদেশ নিযুক্ত আমেরিকান দূতাবাসের ইকোনমিক অফিসার অ্যামি ক্যাস। 

ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বলেন, ‘আমাদের চারপাশের পরিবেশ নারীবান্ধব নয়। টয়লেটের মতো ছোট বিষয় নিয়েও আমি উদ্বিগ্ন, কারণ এগুলো নারীদের ব্যবহার উপযোগী নয়। ডে কেয়ার সেন্টার নেই অনেক প্রতিষ্ঠানে। আর নারীদের যৌন হয়রানি শুধু রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজেই নয়, সুপ্রিম কোর্টের মতো জায়গায়ও আছে। সিঙ্গেল আইনজীবীদের যৌন হয়রানির শিকার হতে হয় বেশি। যেহেতু আমাদের কর্মঘণ্টাও ঠিক নেই। রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়। যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার সম্ভাবনা আরো বেশি। ডিজিটাল ডিভাইস ও টেকনোলজিতে নারীর প্রবেশাধিকার বাড়াতে হবে। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানির রোধে অভিযোগ করার সেল থাকা উচিত। পুরুষতান্ত্রিক চিন্তা থেকেও আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।’ 

রুবাবা দৌলা বলেন, ‘সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আমরা যে ডাটা ব্যবহার করি তা পুরুষদের দেয়া। যা অলরেডি বায়াসড। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) আমাদের এক্ষেত্রে হেলপ করতে পারে। নারীদের ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে রুট লেভেল একবারে স্কুল থেকেই নারী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়াতে হবে। তারা যেন পড়াশোনা শেষ করে ক্যারিয়ারেও পুরুষের পাশাপাশি সমানভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এই সার্কেল যদি ঠিক থাকে তাহলে ধীরে ধীরে নারীদের সমঅংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। তবে আমি ২০ বছর আগে নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে নারীদের যে অবস্থান দেখেছি এখন সেটির পরিবর্তন হয়েছে।’