নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির দিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যকর কোনো মনোযোগ নেই বলে অভিযোগ করেছেন দেশের নাগরিক ও মানবাধিকারকর্মীরা। তারা বলেছেন, চলমান সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকলে প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিক রূপান্তর বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
আজ রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নাগরিক কোয়ালিশনের আয়োজনে নির্বাচন ও নাগরিক নিরাপত্তা শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলা হয়। সভা আয়োজনের সহযোগী ছিল ব্রেইন এবং ভয়েস ফর রিফর্ম।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, দীর্ঘ সময় ও রক্তক্ষয়ের পর মানুষ ভোট দেয়ার একটি আশা পেয়েছে। আসন্ন নির্বাচন দেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে সেজন্য যে নির্ভয় পরিবেশ প্রয়োজন, তা এখনো তৈরি হয়নি। তারা প্রশ্ন তোলেন, তরুণ রাজনীতিকরাই যদি নিরাপদ না থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে।
বক্তারা সরকারের বর্তমান ভূমিকাকে দুর্বল উল্লেখ করে বলেন, সম্প্রতি সহিংস ঘটনার পর সরকার সহানুভূতি দেখালেও দায় নেয়ার ক্ষেত্রে গড়িমসি করছে। এতে পরিস্থিতি আরো অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
আইনের শাসনের ঘাটতির কারণে এবারের নির্বাচনে সহিংসতার ঝুঁকি বেশি বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন বক্তারা। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত সিসি ক্যামেরা স্থাপন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা এবং পেশিশক্তির রাজনীতি বন্ধের প্রস্তাব দেন বক্তারা।
আলোচনায় বলা হয়, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়। বারবার অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে বিচার, সংস্কার ও নির্বাচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে মানুষ যেন নির্ভয়ে কথা বলতে পারে এবং নিজের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে, সে পরিবেশ তৈরির আহ্বানও জানানো হয়।
সভায় মানবাধিকারকর্মী আইরিন খান বলেন, ওসমান হাদীসহ সব হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার সরকারের দায়িত্ব। পাশাপাশি দুটি গণমাধ্যমে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও তদন্ত করা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি সরকারের জবাবদিহিতা ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে স্পষ্ট অঙ্গীকার তুলে ধরার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য মাহমুদা হাবিবা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।










