শেভরন বাংলাদেশের উদ্যোগে ন্যাশনাল বার্ন ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে (এনআইবিপিএস) প্রথমবারের মতো সংযোজন করা হয়েছে ফ্রোজেন সেকশন মেশিন। যা ক্যানসার নির্ণয় ও শনাক্তকরণ কাজে ব্যবহৃত হয়। আজ রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ইনস্টিটিউটের ‘প্রফেসর লুৎফর কাদের লেনিন’ অডিটোরিয়াম হলে আনুষ্ঠানিকভাবে এ মেশিন যন্ত্রটি প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইরিক এম ওয়াকার। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, করপোরেট অ্যাফেয়ার্সের ডিরেক্টর মোহাম্মদ ইমরুল কবির, হেলথ অ্যান্ড মেডিকেলের ডিরেক্টর মোহাম্মদ লোকমান হোসেন, হেড অব কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাসটেইনিবিলিটি আরিফ আকতার, মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ম্যানেজার শেখ জাহিদুর রহমান, কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি অ্যাডভাইজার তাহসিন খান এবং জাহাঙ্গির কবির খানসহ আরো অনেকে।
হাসপাতালটির পক্ষে সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অফিসার সিরাজুম মুনিরা শেভরনের কাছ থেকে ফ্রোজেন সেকশন মেশিন গ্রহণের আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করেন।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, ‘এটি বাংলাদেশের অন্যতম একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের মেশিন স্থাপন চিকিৎসাসেবায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা রাখি। সাধারণত এ মেশিনের অভাবে আমাদের রোগীকে বায়োপসি পরীক্ষার জন্য বাইরে পাঠানো লাগত। এতে করে সময় নষ্ট হতো। তাই শেভরন বাংলাদেশকে ধন্যবাদ। এ মূল্যমান যন্ত্রটির মাধ্যমে অনেক মানুষ উপকৃত হবে।’
শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইরিক এম ওয়াকার বলেন, ‘আমি এখানে আসতে পেরে আনন্দিত। আমি এ কাজে যুক্ত হতে পেরে গর্ববোধ করছি। আমি বাংলাদেশের মানুষ এবং আমার সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমরা আশা রাখি, এটি ভবিষ্যতে আপনাদের আরো কাজে আসবে। এ অংশীদারত্বও ভবিষ্যতে আরো কাজে আসবে। সবাইকে ধন্যবাদ।’
করপোরেট অ্যাফেয়ার্সের ডিরেক্টর মোহাম্মদ ইমরুল কবির বলেন, ‘প্রায় ৩ যুগ ধরে শেভরন বাংরাদেশ এ দেশে কাজ করে আসছে। পুরো দেশে আমাদের তিনটি গ্যাসফিল্ড রয়েছে। গ্যাস সরবরাহের পাশাপাশি আমরা দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে কিছু সামাজিক কর্মকাণ্ডও পরিচালনা করে থাকি। আমরা যেখানে কাজ করছি সেখানকার মানুষদের আমরা বিভিন্নভাবে সাহায্য করে আসছি। আমরা ৪টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজ করে আসছি। সেগুলো হলো- স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নতি এবং পরিবেশ। আমরা আমাদের হেলথ কেয়ার সাপোর্টের অংশ হিসেবে এ কাজটি করেছি। আমরা জানতে পেরেছি, এ হাসপাতালের ৮০ শতাংশ সেবা দেয়া হয় সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের। যার কারণে বার্ন ইনস্টিটিউটের পথচলায় যুক্ত হতে পেরে আমরা আনন্দিত।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘শেভরন বাংলাদেশকে সর্বপ্রথম ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এ যন্ত্র ছাড়া যারা সার্জন রয়েছে তাদের কাজ পরিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা অনেকটাই অসম্ভব। সম্প্রতি ওরাল ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আমরা এ যন্ত্রের অভাবে সঠিক সময়ে রোগটি শনাক্ত করতে পারছি না। এ যন্ত্রটি আমাদের দ্রুত সময়ে ক্যান্সার শনাক্ত করার ক্ষেত্রে কাজে দেবে বলে আমি মনে করি।’










